২০০ অজ্ঞাত নামা পরিবেশকর্মীর বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে!

Print Friendly

ঢাকা; ১৯ এপ্রিল: ৪ জনের নামসহ ২০০ অজ্ঞাত নামা পরিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে মাঠে প্রবেশ করায় মামলা করেছে ধানমন্ডি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। পরিবেশবাদীদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারা আইনী লড়াই করবেন অন্যয়ের বিরুদ্ধে, এবং তারা জয়ী হবেন ভবিষ্যতে। কারণ তারা জানে ন্যায়, আইন ও সংবিধান অনুসারে তারা তাদের কাজ করেছে। ধানমন্ডি আট নম্বর রোডের মাঠটিতে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করার অধিকার নেই এবং মাঠে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে, এই অভিযোগ করে আসছিল পরিবেশবাদীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করার মাধ্যমে এ বিষয়টি সুপষ্টভাবে প্রমাণ করলো মাঠটি দখল করে রাখা হয়েছে

 10248756_10152205980449597_769724638_o

ধানমণ্ডির এক রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, “আমরা খেলার বিপক্ষে নই, মাঠ দখলের বিপক্ষে। সাধারণ মানুষ এই মাঠে গিয়ে খেলতে পারবে না, তা হতে পারে না। তার স্পষ্ট বক্তব্য, “জনগণের জন্য মাঠটি উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্যই আমাদের এই আন্দোলন। কেউ এই মাঠ দখল করে রাখার অধিকার রাখেন না।”শেখ জামাল কর্মকর্তারা ক্লাবের ফটকে নিরাপত্তা প্রহরী বসিয়ে রেখেছে যেন কেউ সেখানে ঢুকতে না পারে। তাছাড়া মাঠে বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন ও টেনিস কোর্ট তৈরি করছে তারা।

 মাঠে ঢোকার ঘটনায় তারা যে মামলা করেছে, তাতে আসামি করা হয়েছে ক্রীড়া সংগঠক ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ও কামরুননাহার ডানাকে।শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ক্লাবের সভাপতি মনজুর কাদের বলেন, “এই মাঠ ‘এলিটদের’ জন্য, ‘টোকাইদের’ জন্য নয়। “আইয়ুব খান এলিটদের জন্যই ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা তৈরি করেছেন। তাই এলিটরাই এই মাঠে এসে খেলার অধিকার রাখেন। কোনো টোকাই এখানে এসে খেলতে পারে না।”

 মনজুর কাদেরের এই বক্তব্যের জবাবে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “শেখ জামাল সভাপতির এই বক্তব্যে প্রমাণিত হয়, তিনি আদালতের রায় মানেন না। ধানমণ্ডি এলাকার মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা এই মাঠে এসে খেলুক, এটা তিনি চান না। মূলত এই এই মাঠটি দখলের পাঁয়তারা করছেন তারা।” শেখ জামালের মাঠটি নিয়ে পরিবেশবাদীদের পক্ষে মামলায় লড়ছেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

 তিনি বলেন, “২০১১ সালের ১৫ মার্চ হাই কোর্ট এক রায় দিয়েছেন, এই মাঠের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে। কিন্তু আদালতের রায় মানেনি শেখ জামাল কর্মকর্তারা।”

এই আইনজীবী জানান, ২০১৩ সালের ২৭ মে আপিল বিভাগ রায় অবমাননার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করে। কিন্তু তা সেখান পর্যন্তই থেমে আছে। শেখ জামাল কর্মকর্তাদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আসা বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেন, “এর আগে এই মাঠ দেখেছি, বস্তির মতো ছিল। এখন যা দেখছি, তা আমার দেখা দেশের অন্যতম সেরা মাঠ।

 বাফুফে সভাপতির সঙ্গে সুর মিলিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসানও শেখ জামাল ক্লাবকে তাদের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। “ভালো কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। তারপরও এগিয়ে যেতে হবে। ক্রীড়াঙ্গন কারো নিজস্ব সম্পত্তি নয় যে এটা দখল করে রাখবে। শেখ জামালের এই কার্যক্রমে আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে, থাকবে।” এই বিষয়ে পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, তারা কোনো ভালো কাজের বিরোধিতা করছেন না। “আমরা চাই খেলা হোক। কিন্তু যে মাঠ জনগণের জন্য করা, সে মাঠে কেন সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারবে না?”

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments