নদী ধ্বংসে সরকারি সংস্থাই বেশি দায়ী

Print Friendly, PDF & Email

53451870

সবুজপাতা ডেস্ক, ২১ মার্চ: দেশের নদী ধ্বংসে সরকারি সংস্থাগুলোই বেশি দায়ী। নদী রক্ষার প্রতিশ্রুতি সরকারের রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া আর কিছুই নয়।
আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন পরিবেশবাদীরা। এর আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নদীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন-২০১৩ প্রকাশ করা হয়। এটি তুলে ধরে বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মতিন বলেন, বাংলাদেশে নদীর অবক্ষয়ে প্রধানত দায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড। অকারণে তাদের তৈরি স্লুইসগেট নদীর প্রবাহকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ৯০ শতাংশ স্লুইসগেট এখন আর কোনো কাজ করে না। অথচ এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়। এরপরই সরকারের যে প্রতিষ্ঠানটি নদী ধ্বংসে দায়ী, তা হলো এলজিআরডি। কারণ এরা নদী সমান্তরাল রাস্তা না করে নদীর বুক চিড়ে রাস্তা তৈরি করে।
২০১৩ সালে দেশের ৫৭টি নদী পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে দেখা গেছে, এই সময়ে নদী দখল ও দূষণ দুই-ই ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। কমেছে নদীর নাব্যতা। ২০১৩ সালে দেশের ৪৩ দশমিক ২৫ শতাংশ নদীর নাব্যতা কমে গেছে আর নদী দখল হয়েছে ২৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ সময়ে দূষণ, দখল, বালু উত্তোলন ও অবকাঠামো নির্মাণের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে বুড়িগঙ্গা নদী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে দূষণগ্রস্ত নদীর সংখ্যা ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ। দেশের ২৬ শতাংশ নদী অত্যাচারের শিকার। অত্যাচারের শিকার নদীগুলোর মধ্যে আছে মেঘনা, ধলেশ্বরী, তিতাস ও পিয়াইন।
বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরিফ জামিল বলেন, নদীর দখলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তও মাঠ প্রশাসন অগ্রাহ্য করে। এ প্রসঙ্গে তিনি হবিগঞ্জের সোনাই নদী দখল করে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

Comments