জীববৈচিত্র্য ও জলজ উদ্ভিদ বিপন্ন

Print Friendly, PDF & Email

img_0284

সবুজপাতা ডেস্ক, ৫ মার্চ: মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন হাওরে বিল সেঁচে মাছ ধরা হচ্ছে। এতে ছোট-বড় মাছের বংশবিস্তার এবং জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। বিল সেঁচে মাছ ধরা নিষিদ্ধ হলেও অনেকেই তা মানছেন না। বিষয়টি নিয়ে মৎস্য বিভাগের জেলা সমন্বয় সভাতেও আলোচনা হয়েছে।

হাইল হাওরের একটি বিলে সেচ দেওয়ার সময় ৪ ফেব্রুয়ারি সেচযন্ত্র জব্দ করে মৎস্য বিভাগ। স্থানীয় লোকজন ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিস্তৃত হাইল হাওরের বিভিন্ন বিল সেঁচে মাছ ধরা হচ্ছে। ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে হাইল হাওরের বিয়াই বিলের (কাগাউড়া) একটি অংশে মাছ ধরার লক্ষ্যে সেচযন্ত্র লাগিয়ে পানি তোলা হচ্ছিল। ঠিক তখনই মৎস্য বিভাগের লোকজন উপস্থিত হয়ে সেচযন্ত্র জব্দ করেন। এ সময় মৎস্য বিভাগের লোকজনকে দেখে সেচযন্ত্র ব্যবহারকারীরা সটকে পড়েন। এদিকে সেচযন্ত্র জব্দ এবং সেচের জন্য তৈরি বিলের বাঁধ কেটে দেওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ওই দিনই শ্রীমঙ্গল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান খানের মুঠোফোনে ফোন করে বদলি করার হুমকি দিয়েছেন।

হাইল হাওরপাড়ের হাজীপুর গ্রামের মিরাশ আলী সম্প্রতি বলেন, ‘রাতেই বিল বেশি সেঁচা হয়। মেশিনের শব্দে ঘুমানো যায় না।’ হাইল হাওরের বাইক্কাবিল এলাকায় মিরাশের সঙ্গে আলাপকালেও সেচযন্ত্র চলার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

এদিকে জেলার কাওয়াদীঘি ও হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন বিলও সেঁচে মাছ ধরা হচ্ছে বলে স্থানীয় মৎস্যজীবী সূত্রে জানা গেছে। মৎস্যজীবীদের অনেকে জানিয়েছেন, বিলে পানি কমে গেলে সেচের প্রবণতা বেড়ে যায়। সেচের মাধ্যমে বিল শুকিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি নিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা মৎস্য বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিল সেঁচে মাছ ধরা বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মৎস্য অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি প্রত্যেক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিল সেঁচে মাছ ধরার কারণে কাদামাটির ভেতরে থাকা জিয়ল মাছও রক্ষা পায় না। ছোট-বড় ডিমঅলা মাছ মারা পড়ে। বিলে মাছ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ ও কীটপতঙ্গ থাকে; যা পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয়। বিল সেঁচে তার সবকিছুই নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান খান হাইল হাওরে বিল সেঁচে মাছ ধরা ও সেচযন্ত্র জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ জন্য আমাকে মোবাইল ফোনে বদলির হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যা হয় হবে, এবার হাইল হাওরে বিল সেচতে দেব না।’ তিনি জানান, লোকজন না পাওয়ায় কারও বিরুদ্ধে মামলা করা যায়নি।

জেলা মৎস্য কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নৃপেণ চন্দ্র দাস বলেন, ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইনে বিল সেঁচে ও বিষপ্রয়োগে মাছ মারা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে মাছের বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।’ সহকারী পরিচালক জানান, বিল সেঁচে মাছ ধরা হলে এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

 

Comments