প্যারাবন কেটে চিংড়িঘের লবণমাঠ

Print Friendly, PDF & Email

Forest-robber-bg20131013061131

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর ভোলাখাল ও কুতুবদিয়া চ্যানেলের উপকূলীয় এলাকার দেড় হাজার একর বনভূমিতে প্যারাবন সৃজন করা হয়েছিল। মগনামা, উজানটিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ, চর ও উপকূলের রাস্তার পাশে সৃজিত এসব প্যারাবনের বেশির ভাগেরই অস্তিত্ব নেই। বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন চর দখল করে করা হয়েছে লবণ ও চিংড়ি চাষ।

১ জানুয়ারি সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজলার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা এলাকায় সরেজমিন এ অবস্থা দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজন জানান, প্যারাবন নিধন করা কিছু জমি লবণমাঠ কিংবা চিংড়ি চাষের উপযোগী করার অপেক্ষায় রয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্যারাবন নিধনের ফলে উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এ ব্যাপারে বন বিভাগের নীরব ভূমিকায় তাঁরা হতাশ।

বাইন্যাঘোনা এলাকায় ভোলাখালের চরে প্যারাবন কেটে তৈরি লবণমাঠে কাজ করছিলেন ছিদ্দিক আহমদ (৩৬)। বন বিভাগের জায়গায় লবণমাঠ করছেন কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা প্যারাবনের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার পর ৮০ শতক জায়গা খালি পড়ে রয়েছে। খালি পড়ে থাকায় আমি এখানে লবণমাঠ করেছি। এতে দোষের কী?’

ছিদ্দিক আহমদের লবণ মাঠের পাশে রয়েছে শাখাওয়াত হোসেন, নূরুল আমিন, বখতিয়ার উদ্দিন, নূরুল আলমের পাঁচ একরের চিংড়িঘের। তাঁরা জানান, এখানে অনেক আগেই প্যারাবন ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁরা চিংড়ি চাষ করছেন ১০ বছর ধরে। অনেক সময় উপকূলীয় বনবিভাগের কোনো কোনো কর্মকর্তা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকাও আদায় করেন। একই প্রক্রিয়ায় এলাকার ৪৪একর বনভূমি দখল করে নিয়েছেন আরও ১০ ব্যক্তি।

এ ছাড়া, মগনামা ও উজানটিয়ার সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা শরৎঘোনা, কাকপাড়া, বোর্ডিংপাড়া, সাতঘরপাড়া, ফেরাসিঙ্গাপাড়া ও করিয়ারদিয়ার ১৩ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪০০ একর বনভূমির প্যারাবন কেটে নিয়েছেন ভূমিদস্যুরা। এসব এলাকায় এখন লবণ ও চিংড়ি চাষ হচ্ছে।

মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্যারাবন নিধনের ফলে উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এখন দুর্যোগের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়ন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আট-নয় বছরের মধ্যে কোনো প্যারাবন নিধন হয়নি। মগনামা উপকূলীয় বন বিটের উদ্যোগে ২০১০ ও ২০১১ সালে ২৫০ একর বনভূমিতে নতুন করে প্যারাবন সৃজন করে দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

জানতে চাইলে মগনামা উপকূলীয় বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, নতুন করে কেউ প্যারাবন নিধন করেনি। যেসব বনভূমিতে চিংড়িঘের ও লবণমাঠ রয়েছে, সেগুলো অন্তত আট-নয় বছর আগেই দখল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। মামলাগুলো বিচারাধীন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Comments