স্পাইক: আগামীর উচ্চ ফলনশীল ধান!

Print Friendly, PDF & Email

স্পাইক: ইরি উদ্ভাবিত এই জিন ধানের ফলন বাড়াবে ১৩ থেকে ৩৬ ভাগ!

ঢাকা,বুধবার: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে যখন হিমসিম খাচ্ছে বাংলাদেশ সহ তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলো তখন, গবেষকরা এক নতুন ধরণের ধানের জিন আবিষ্কার করেছেন বলে দাবী করছেন। স্পাইক নামে ধানের এই নতুন জিন আবিষ্কার করেছে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)। এটি ধানের ফলন ১৩ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে সক্ষম বলে ইরির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। গত ৩ ডিসেম্বর ,মঙ্গলবার ইরির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। খবর এএফপির।

কবে নাগাদ স্পাইকনির্ভর বীজ কৃষকের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হতে পারে, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না- ইরি কর্তৃপক্ষ

কবে নাগাদ স্পাইকনির্ভর বীজ কৃষকের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হতে পারে, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না- ইরি কর্তৃপক্ষ

ইরির বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক পরীক্ষার ফল উল্লেখ করে জানান, ইনডিকা জাতের ধানে স্পাইক জিন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ফলন ১৩ থেকে ৩৬ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আবাদ হওয়া ধানের জাতগুলোর মধ্যে ইনডিকা অন্যতম। ফিলিপাইনের ম্যানিলাভিত্তিক সংস্থাটির জেনেটিক ট্রান্সফরমেশন ল্যাবের প্রধান আইনেজ স্লামেট-লিওডিন বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ইনডিকা ধানের ফলন অনেক বাড়ানো সম্ভব স্পাইক জিনের মাধ্যমে। বহুদিন ধরেই এমন কিছু খুঁজছিলাম আমরা।’ইরির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্পাইক ব্রিডিং প্রোগ্রামের প্রধান সুমোতো ইশিমারু বলেন, ‘অন্যান্য জাতের ধানের ফলনের ওপর স্পাইক জিনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। আমাদের বিশ্বাস, খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে স্পাইক।’

ইরির মুখপাত্র গ্লাডিস ইবরন অবশ্য বলেছেন, কবে নাগাদ স্পাইকনির্ভর বীজ কৃষকের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হতে পারে, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। গবেষণা ও পরীক্ষামূলক ব্যবহার করতে সময়ের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরো জানান, স্পাইক জিনটি প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন জাপানি বিজ্ঞানী নবুয়া কোবায়াশি। ১৯৮৯ সালে ট্রপিক্যাল জাপোনিকা জাতের ধানের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ শুরু হয়। এরই ধারবাহিকতায় সাফল্য পাওয়া গেছে।

জাপোনিকা জাতটি সবচেয়ে বেশি চাষ হয় ইন্দোনেশিয়ায়। বিশ্বে উত্পন্ন হওয়া ধানের ১০ শতাংশই এ জাতের। বিজ্ঞানীরা অন্য বেশ কয়েকটি জাতের ফলনের ওপর স্পাইক জিনের ইতিবাচক ভূমিকার ব্যাপারে আশাবাদী।
গ্লাডিস ইবরন দাবি করেন, জিন প্রতিস্থাপন প্রচলিত সংজ্ঞায় জেনেটিক মডিফিকেশনের আওতায় পড়ে না। ফলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তারও কোনো কারণ নেই।
ইরির হিসাবে, বর্তমান হারে চালের চাহিদা বাড়তে থাকলে পণ্যটির দাম টনপ্রতি ৩০০ ডলারে স্থিতিশীল রাখতে প্রতি বছর ৭ শতাশের চেয়েও বেশি হারে উৎপাদন বাড়াতে হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বে চাল উৎপাদনের ৯০ শতাংশই হয় এশিয়ায়।

খবর: এ এফ পি

Comments