জলবায়ু সমঝোতা: ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর স্বার্থ চরমভাবে বিপন্ন হয়েছে

Print Friendly, PDF & Email

Climate-0320131201234857

ঢাকা, শনিবার: পোল্যান্ডের ওয়ারশতে শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক জলবায়ু সমঝোতায় স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশের স্বার্থ চরমভাবে বিপন্ন হয়েছে।
ভবিষ্যতে ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাবার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এজন্য ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিকল্পনা নিজস্ব অর্থায়ন ও সামর্থ্যরে ভিত্তিতেই করতে হবে। এমন মন্তব্য করছেন বাংলাদেশে জলবায়ু বিষয়ক ৮টি অধিকার ভিত্তিক সংগঠন।

পোল্যান্ডের ওয়ারশতে সদ্য সমাপ্ত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সমঝোতা বা কপ-১৯ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন ইক্যুইটিবিডির মোস্তফা কামাল আকন্দ। ইক্যুইটিবিডির সৈয়দ আমিনুল হক এবং সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বাপা‘র সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর গ্লোবাল চেঞ্জ-এর ড. আহসান উদ্দীন এবং সাপ্তাহিক সম্পাদক সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা।

লিখিত বক্তব্যে ইক্যুইটিবিডি’র সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলন থেকে প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কোনো স্বার্থই অর্জিত হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম প্রত্যাশা ছিল ক্ষয়-ক্ষতি (লস এন্ড ড্যামেজ) ইস্যুতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে। কিন্তু তা না হয়ে শুধুমাত্র একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করে মূল বিষয়টিকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, জাতীয় জলবায়ু কৌশল পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশের উচিত অনুদানের আশায় বিদেশী শক্তি, বিদেশি কনসালট্যান্ট এবং আন্তর্জাতিক এনজিওদের প্রতি সরকারের নতজানু না থেকে নিজের অর্থায়নেই তা করার পরিকল্পনা করা। বাংলাদেশ ১৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স আয় করে। অথচ মাত্র কয়েক মিলিয়ন ডলারের সহায়তা বা শিথিল ঋণের জন্যে বসে থাকার কোনো যুক্তি নেই।

ড. আহসান উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে এখন জলবায়ু সমঝোতায় দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। এনেক্স-১ ভুক্ত ধনী দেশগুলো তো আছেই। এখন তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে ভারত ও চীনের মতো সদ্য উন্নত দেশগুলো।
এলএমডিসি নামক উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট প্রতি পদক্ষেপে জলবায়ু আলোচনা পণ্ড করে দিতে চাচ্ছে। দুই পক্ষ মিলে স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বহুদিনের দাবি ‘লস এন্ড ড্যামেজ’ ইস্যুকে সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ধনী দেশগুলো ১০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতির জায়গায় মাত্র ১০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে দায় এড়াতে চাইছে।

সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের যে প্রতিনিধি দল কপ-১৯ এর মতো আন্তর্জাতিক জলবায়ু সমঝোতায় অংশগ্রহণ করেন, তাদেরকে দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে। দেশের স্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে। নিজেদের সামর্থ্য বাড়াতে হবে। কারণ, ভবিষ্যত জলবায়ু সমঝোতায় ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে দাবি আদায়ে শুধু করুণা পাবার চেষ্টা করলে চলবে না, বরং আমাদের পাওনা আদায় করতে হবে যোগ্যতা দিয়ে।

বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন বলেন, জলবায়ু সমঝোতায় বাংলাদেশকে শুধু বিদেশী সাহায্য আনার দিকে মনোযোগ দিলে চলবে না। নিজেদের পরিবেশ নীতি সংশোধন করতে হবে। কারণ, সহায়তার টাকা আমরা যতই আনি, যদি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতি বন্ধ না করলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমরা মোকাবেলা করতে পারব না। বরং আন্তর্জাতিক আলোচনায় আমাদের যৌক্তিক ও নীতিগত অবস্থান দুর্বল হয়ে যাবে।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন যাবত জলবায়ু নিয়ে কর্মরত ৮টি অধিকার ভিত্তিক নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (সিডিপি), ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড (সিএসআরএল), ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিসিডিএফ), ক্লাইমেট ফাইন্যান্স গভর্নেন্স নেটওয়ার্ক (সিএফজিএন), বাংলাদেশ ইনডেজিনাস পিপল্স নেটওয়ার্ক ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড বায়োডাইভার্সিটি (বিপনেটসিসিবিডি), সেন্টার ফর গ্লোবাল চেঞ্জ (সিজিসি) এবং ইক্যুইটি এন্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি) এ সংবাদ সম্মেললের আয়োজন করে।

সবুজপাতা ডেস্ক

Comments