গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব জলাবায়ু সম্মেলন

Print Friendly

528e69bbafa5e-54

সবুজপাতা ডেস্ক, ২৫ নভেম্বর : শেষ পর্যন্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন দিয়েই শেষ হলো ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলন। সবুজ তহবিলে ২৮০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্যমত এ সম্মেলনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সেইসঙ্গে ২০১৫ সালে প্যারিস সম্মেলনে জলবায়ু রক্ষায় আইনি কাঠামোগত চুক্তির ব্যাপার একটি রোডম্যাপও তৈরি হয়েছে ওয়ারশ সম্মেলনে।
২২ নভেম্বর শুক্রবার ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ হয় ২৩ নভেম্বর শনিবার বাংলাদেশ সময় শেষ রাতের দিকে। শেষের দিকে পোল্যান্ডের পরিবেশমন্ত্রী এবং সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট মারসিক কলোলিক উল্লিখিত বিষয়ে চুক্তি বা ঐকমত্য না হলে সম্মেলন শেষ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
ওই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অনেকটা চাপের মুখে শিল্পোন্নত দেশগুলো ২৮০ মিলিয়ন ডলার তহবিলের নিশ্চয়তা দেয়। যা খরচ হবে প্রধানত বনায়ন বা সবুজ তহবিলে।
এবারের সম্মেলনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিলো লস অ্যান্ড ড্যামেজ। প্রথম দিকে এ বিষয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ে সম্মেলনস্থলে। শেষ পর্যন্ত এবিষয়েও একমত হয়েছে ১৯৫ সদস্যের এই জলবায়ু ফোরাম।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর একটি বড় দাবি ছিলো কার্বন নি:সরণ কমাতে একটি আইনগত কাঠামো চুক্তি করা। শেষ অব্দি ওই চুক্তির ব্যাপারেও সবাই একমত হয়েছে। যদিও চুক্তিটি হবে ২০১৫ সালে প্যারিস সম্মেলনে। এর আগে আগামি বছর বিশ্ব জলাবায়ু সম্মেলন হবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর রাজধানী লিমায়।

images

এবারের সম্মেলন কেমন হলো? এ বিষয়ে আন্তর্জতিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. সালিমুল হক বলেন, আমরা যা চেয়েছিলাম সবকিছু পাইনি। কিন্তু তারপরও এ সম্মেলনকে সফল বলা চলে। ২০১৫ সালে প্যারিস সম্মলনে যে চুক্তি হবে তার একটি রোডম্যাপ পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে লস অ্যান্ড ড্যামেজ নিয়ে সদস্য দেশগুলো ঐক্যমতে পৌছতে পেরেছে এটি একটি ইতবাচক অর্জন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের কিয়েটো প্রোটোকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত হয় ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইটেম চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি) পৃথিবীর এবং আগামি প্রজন্মকে রক্ষায় প্রতিবছর জলবায়ু সম্মলন করে থাকে। বর্তমানে ১৯৫টি সদস্য বা গোষ্ঠী নিয়ে এটি বিশ্বজননীন রূপ লাভের অপেক্ষায়।

ইউএনএফসিসিসির ১৯২টি সদস্য কিয়োটো প্রটোকল গ্রহণ করে এতে স্বাক্ষর করেছিল। কিয়োটো প্রোটোকলের প্রথম পর্যায়ের ওয়াদা অনুযায়ী, শিল্পোন্নত ও বিশেষ করে দ্রুত অর্থনৈতিক বাজার দখল করছে এমন ৩৭টি দেশ নিঃসরণ কমানো ও রোধের আইনানুগ প্রতিজ্ঞা করেছিল।
২০১২ সালে দোহায় অনুষ্ঠিত ইউএনএফসিসিসি সম্মেলনে কিয়েটো প্রোটোকলের ওপর সংশোধনী গৃহিত হয়েছিল, যার ভিত্তিতে ওই প্রোটোকলের দ্বিতীয় পর্যায়ের ওয়াদা পূরণ হয়। ওই উভয় চুক্তিরই চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ছিল বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের আধিক্য/ঘণত্ব কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাতে জলবায়ুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের কোনো ক্ষতিকর অবাঞ্চিত হস্তক্ষেপ না থাকে।

কৃতজ্ঞতা: রাইজিংবিডি ডট কম

Comments