পৃথিবীকে বাঁচাতে বড়লোকি জীবনধারা ছাড়তে হবে

Print Friendly, PDF & Email

COP19_opening_(22)

সবুজপাতা ডেস্ক: কপ-১৯ জলবায়ু সম্মেলনকপ-১৯ জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনের প্রতিনিধি বলেছেন, ধনীদের বিলাসী জীবনযাপনের মনমানসিকতা বদলাতে না পারলে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানো যাবে না। জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো এবং গ্রুপ ৭৭ ও চীন—এ দুই পক্ষের মধ্যে দর-কষাকষি নাটকীয় মোড় নিয়েছে। আলোচনার মাঝখানে ওয়াকআউট করলেও আবার আলোচনায় ফিরে এসেছে গ্রুপ ৭৭।

বিকেলে সম্মেলন ভেন্যুর নির্ধারিত কক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিক জানতে চাইলেন, এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান কী? বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী অবশ্য শুরুতেই মূল বক্তব্যে বলে গেছেন যে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ইস্যুতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি নিয়ে সম্মেলনে ঐকমত্যের ব্যাপারে বাংলাদেশ খুবই আশাবাদী। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তরে আইনুন নিশাতও বললেন, মতবিরোধ হয়েই থাকে। তিনি একটি মীমাংসার বিষয়ে আস্থাশীল বলে জানান।
জলবায়ু সম্মেলনে বিভিন্ন জটিল ইস্যুতে বিতর্কের শেষ অধ্যায় চলছে। হয়তো সম্মেলনের শেষ দিন, ২২ নভেম্বর মাঝরাতেরও পর দেখা যাবে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে গেছে। বাংলাদেশ সেটাই চায়।

COP-19-600x389

আশা-নিরাশার সন্ধিক্ষণে বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পোল্যান্ডে বসবাসকারী প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গে এক মনোরম সন্ধ্যা কাটিয়েছেন। প্রবাসী বাঙালিদের বিশেষ আমন্ত্রণে আমরা মিলিত হই নভোটেল হোটেলের মিলনায়তনে। তাঁদের উষ্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ হই আমরা।

পোল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস না থাকায় দারুণ সমস্যায় রয়েছেন সেখানকার প্রবাসীরা। পোল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস বা অন্তত একটি কনস্যুলার অফিস চালুর কথা তাঁরা বললেন। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য অনেক বাড়বে।

কপ-১৯ জলবায়ু সম্মেলনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্যারিসে ২০১৫ সালের জলবায়ু সম্মেলনে যেন আইনগত বাধ্যবাধকতার আওতায় একটি সর্বসম্মত চুক্তিতে উপনীত হওয়া যায় তার ভিত্তি রচনা করা। এর উদ্দেশ্য হবে কার্বন নিঃসরণ প্রত্যাশিত মাত্রায় কমিয়ে আনা, জলবায়ু পরিবর্তন-অভিযোজন (অ্যাডাপটেশন), লস অ্যান্ড ড্যামেজ প্রভৃতির জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি-উন্নয়ন ও হস্তান্তর প্রভৃতি। ২০২০ সাল থেকে ওই চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হবে। যদি এটা করা সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের এই প্রিয় পৃথিবীকে হয়তো আর বাঁচানো যাবে না। কারণ যে হারে কার্বন নিঃসরণ ঘটছে, তাতে এই শতাব্দীর শেষ দিকে পৃথিবীর তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। অথচ এ বৃদ্ধি ২ ডিগ্রির নিচে ধরে রাখতে না পারলে সমূহ বিপদ। ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা প্রায় অপরিবর্তনীয় হয়ে উঠেছে। এখন শেষ চেষ্টামাত্র।

Shobujpata

বড় সমস্যা হলো, কার্বন কমাতে হলে সবুজ প্রযুক্তি দরকার, যা এখনো সহজলভ্য নয়। তেল বা কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত করতে হবে। এতে বিশ্বে উৎপাদন কমে যাবে। যাকে আমরা এত দিন সভ্যতার বিস্তার বলে গর্ব করে এসেছি, তা অনেকাংশে থমকে দাঁড়াবে।

আমেরিকা, ইউরোপ বলছে কম কার্বন, কম জ্বালানিতে বেশি দক্ষ যন্ত্রপাতি তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কার হচ্ছে। সেটা ঠিক। কিন্তু তার সঙ্গে বিদ্যমান জীবনযাপন প্রণালিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

এ কথাটি বুধবার শুনলাম চীনের ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায়। সেখানে ছিলেন শেনঝেন মিউনিসিপ্যাল পিপলস গভর্নমেন্টের ভাইস মেয়র ট্যাং জি। তিনি বললেন, এখন সবাই চায় আরও বড় বাড়ি, একেকজনের দু-তিনটি করে গাড়ি আর ভোগবিলাসের জীবন। ধনীদের এ জীবনধারার মনমানসিকতা বদলাতে না পারলে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানো যাবে না। তিনি বলেন, ছোট ফ্ল্যাট, গাড়ি বাদ দিয়ে সাইকেল, বাড়ির আঙিনায় সবুজ বেষ্টনী—এ রকম নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন কাজ করছে। অন্তত চীনের ১৩০ কোটি মানুষের মনমানসিকতা বদলাতে পারলেও এক বিরাট অগ্রগতি ঘটবে।

বড়লোকি চাল ছেড়ে কয়টি দেশের মানুষ এ রকম সাদামাটা জীবনধারা মেনে নিতে প্রস্তুত?

কৃতজ্ঞতা: আব্দুল কাইয়ুম, প্রথম আলো

Comments