ভার্কুতা: ঢাকার পাশের গ্রাম

ফারুখ আহমেদ, প্রকৃতি পর্যবেক্ষক/লেখক

গাবতলী আমনিবাজার, শালিপুর পেরিয়ে একটু এগিয়ে গেলে বামদিকে একটি ঝুলন্ত সেতু পড়বে। সেতু পার হলইে ভার্কুতা ইউনয়িন। ভার্কুতা, মোগরকান্দা, হিন্দু ভার্কুতা, চাইরা হয়ে দনি শ্যামপুর। পুরোটাই গ্রাম। শহরের কাছে এমন গ্রাম আর হয়না। এখানে পথরে পাশে বুড়িগঙ্গার শাখা নদী। এক সময়কার মেঠো পথ এখন পিচ পথে রপান্তরিত হলেও খুব ভাল লাগে ঢাকার কাছে এমন গ্রাম্য পরিবেশ। তাইতো সময় পেলেই প্রায় বিকলে সে পিচঢালা পথ ধরে চলে আসি ভার্কুতা হয়ে চাইরা চলে যাই।
buriganga river (1)
গত বছর শরতে আমি প্রথম ভার্কুতার আসি। তখন রাস্তার কাজ হচ্ছে মেঠো পথে পিচ ফেলছে। সেই থেকেই এখানে যাতায়াত। মজার ব্যাপার হল ভার্কুতা প্রবেশের সময় তুরাগনদ জলে টলমল। আর গ্রামের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায় পথের বাম পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বুড়িগঙ্গা নদী। গত সপ্তাহে আমরা আবার সে পথে চাইরা গিয়েছিলাম। ভার্কুতা বাজার পৌছেঁ দেখি সেখানে তৈরী হওয়া নতুন সেতুর ওপর ঢালাইয়রে কাজ চলছে। ঢালাই শেষ না হওয়া র্পযন্ত আর আগে এগুনো যাবেনা। এখন কি করি, কোথাই যাই। এর মধ্যে আচমকা শুরু হয় ধুলি ঝড়। তারপর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি! চাইরা যাবার বিকল্প পথ হেমায়েতপুর। ভার্কুতার অন্য আরেক পথ ধরেও যাওয়া যাবে, সে ক্ষেত্রে মটর সাইকেল নিয়ে যাওয়াটা একটু ঝুকির। পুরো রাস্তাই খানাখন্দে ভরা তার ওপর হঠাৎ বৃষ্টিতে রাস্তার বারোটা বেজে থাকার সম্ভাবনাই বেশী।

আমরা দ্বিত্বীয় চিন্তা না করে ভার্কুতা থেকে বের হয়ে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক ধরে হেমায়েতপুরের দিকে এগিয়ে যাই। এভাবে দশ মিনিট চলার পর হেমায়েতপুর, ঋষিপাড়া হয়ে দনি শ্যামপুর চলে আসি। এখানে পথের সৌর্ন্দয অর্বণনীয়। চমৎকার পিচ পথ। এ পথে বাস বা বড় গাড়ি খুব একটা আসে না, সুতরাং হেটে হেটে বহুদুর চলে যাওয়া যায়। শ্যামপুর এলাকায় রাস্তার দু-ধারের পুরো এলাকা জুড়েই শব্জি ও শাকের চাষ। যদি বলি দনি শ্যামপুর শাকের গ্রাম, তাতে কোনও ভুল হবেনা। পাটশাক, লালশাক, মুলাশাক, পুই শাক সহ কোনটা নাই এখানে। শাকের মহাজনদের দেখা গেল ট্রাকে ট্রাকে শাক বোঝাইয়ে ব্যাস্ত। এ্গুলো শহরের কারওয়ান বাজার ঠাটারী বাজার হয়ে সাধারন মানুষের কাছে পৌছে যাবে।

ছুটির দিন না হলেও এলাকা সরগরম। মোড়ে মোড়ে আড্ডা জমেছে। আমাদরে খুব ক্ষুধা পেয়েছিলো। বাজারের একটি চায়রে দোকানে বসে পড়ি। গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে পাউরুটি ভিজিয়ে খেয়ে মোটর সাইকলে চালু করে সামনে এগিয়ে যাই। ইতিমধ্যে মেঘলা আকাশ ঝকঝকে রূপ নিয়েছে। আমরা সে ঝকঝকে আকাশ আর আশেপাশের সবুজ বনানীতে মুগ্ধ। সে মুগ্ধতা চোখে নিয়ে একটি ছোট্টমত বাজার পেরিয়ে পাঁচ মিনিটে চাইরা সেতু পৌছাই।
chairar godhuli

গ্রামের নামে সেতুর নাম চাইরা সেতু। সেতুর নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে বুড়িগঙ্গা নদী। একজন বয়স্ক মতন লোক দেখে তাঁকে প্রশ্ন করি চাচা এখানে বুড়গিঙ্গা এল কিভাবে ?। চাচা রেগে-মেগে বললেন তুমি নদী কই পাইলা, এইডা তো র্গত। তিনি এরপর যা বললনে, তার মমার্থ হল, চাইরা সেতু বা বুড়িগঙ্গা নদী অনেক আগে এখানে ছিল না। পুরোটাই আসলে চাইরা গ্রাম। এখনও এখানকার মানুষ গ্রাম জেগে ওঠার অপেক্ষায়।

অনেকেই নদীর দিকে তাকিয়ে নিজের জায়গা খোজে। লোক-জন সেতুর নিচের নদীর এলাকাকে বলে কুম বা র্গত। ১৯৬২ সালের আগে বুড়িগঙ্গা চাইরা থেকে বহুদুরে ছিল তখন বুড়িগঙ্গা খরস্রোতা। বুড়িগঙ্গার ঢেউ এর তোড়ে চাইরা গ্রামে প্রায় সব সময় ভাঙ্গন লেগে থাকত। একদিন সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়ে চাইরা গ্রাম বুড়িগঙ্গা গ্রাস কর। তারপর তো দীর্ঘদিন এর দুপাশ বিচ্ছিন্ন ছিল।

সে সময় পারাপাররে জন্য নৌকাই একমাত্র ভরষা ছিল। ২০০৫-২০০৬ সালের দিকে চাইরা সেতু র্নিমিত হয়। এখন পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। চাইরা সেতু এলাকার মূল সংযোগ স্থল। এখানকার মানুষের আশা ভরষার যায়গা। আর সাধারন মানুষের জন্য অপার সৌর্ন্দয নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে চাইরা গ্রাম বা চাইরা সেতু ও এখানকার মনোরম প্রকৃতি। ছুটির দিনের বিকালটা এখানে বেড়ানোর জন্য খুব চমৎকার বলা যায়।

ইচ্ছে করলে নৌকায় ও বড়োনো যাবে।
আমরা চাইরা সেতুর ওপর থেকে নিচে নদীর দিকে তাকাই, প্রচন্ড হাওয়ায় নদীতে ঢেউ খেলে যাচ্ছে। দুরে এলাকার অনেকে সৌখিন মাছ শিকারী ছিঁপ হাতে নৌকায় বসে আছে। সৌখনি মাছ শিকারীর দল বেশী হলেও জেলেরাই এখানকার আসল মাছ শিকারী। অনেক জেলে নৌকার দেখা পেলাম, জেলেদেরে সঙ্গে কথা বলে একজন জেলের কাছ থেকে ৫০০টাকায় অনকে গুলো চিংড়ি মাছ কিনে আবার সেতুর ওপর চলে আসি। তারপর ফরিতি পথ ধরি!

farukh
ফারুখ আহমেদ, প্রকৃতি পর্যবেক্ষক/লেখক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top