প্রান পাচ্ছে পর্যটননগরী কক্সবাজার

Print Friendly

সবুজপাতা ডেস্ক,২৮ মেঃ কয়েক মাসের লাগাতার হরতাল অবরোধ ও টানা সহিংসতার ধকল কাটিয়ে আবারো প্রান ফিরেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। হাসি ফুটেছে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভর করা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে। ভরা মৌসুমে আসতে না পারায় হঠাতই যেন নেমেছে পর্যটকদের ঢল। পরিবার পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনকে নিয়ে অবকাশ যাপনে অনেকেই চলে আসছেন কক্সবাজার।

বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার সহ ছুটির দিন গুলোতে পর্যটকদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন হোটেল মালিকরা। বুকিং দেয়া না থাকলে মিলছেনা ভালো কক্ষ। গরম বেশী হওয়ায় চাপ বেড়েছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের দিকে।আর যারা সাগরের পাড়ে বসেই বেশীর ভাগ সময় কাটাতে চান তারা কক্ষ নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে খরচ কমিয়ে উঠে পড়ছেন নন এসি কক্ষে।

পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে সদা সজাগ রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোন। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের সহকারী পুলিশ সুপার জহির জয় বলেন, ভরা মৌসুমে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তাতে করে পর্যটকরা তখন কক্সবাজার আসতে পারেনি। সর্বোচ্চ নিরপত্তা দিয়েও তখন পর্যটকদের কক্সবাজার আনা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন পরিস্থিতিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পর্যটকরা আবার আসতে শুরু করেছেন।

তিনি আরো বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা কক্সবাজারের বিভিন্ন বীচ সহ বিভিন্ন পয়েন্টে তিন ধাপে ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রায় ১৫৫ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। পাশাপাশি সমুদ্রে কোন ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে লাইফ গার্ডদের যে কোন প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতেও ট্যুরিস্ট পুলিশ সদা প্রস্তুত রয়েছে।

নভেম্বর থেকে মার্চ  চার মাস পর্যটন মৌসুম হলেও ছিলোনা সেই চিরচেনা ব্যস্ততা। হোটেল সীগাল থেকে সুগন্ধা বীচে যেতে ৫ মিনিট পায়ে হাটার পথ ।এই বীচকে কেন্দ্র করেই পাশে গড়ে উঠেছে শামুক ঝিনুক,শুটকি, আচার সহ নানা প্রসাধনীর দোকান।পাশাপাশি লাবনী বীচ। সেখানেও রয়েছে এরকম কয়েকশ দোকান। কিন্তু ভরা মৌসুমে সেসব দোকানিদের মুখে যে দুশ্চিন্তার ছাপ পরেছিল পর্যটকের উপস্থিতিতে ধীরে ধীরে তাও কাটতে শুরু করেছে।

“যে অবস্থা চলছিলো এতে সব ব্যবসা বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছিলো এমনকি অনেক ব্যাবসা বন্ধও হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু পর্যটকদের উপস্থিতি আবার আশার আলো দেখাচ্ছে আমাদের” এভাবেই নিজেদের ব্যবসার বর্তমান অবস্থার কথা জানাচ্ছিলেন শুটকি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার মিয়া।
IMG_0398শুধু সাত্তার নয় এমন অব অবস্থা বিরাজ করছে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভর করা প্রায় সব ব্যবসায়ীদেরই।

সুগন্ধা, লাবনী, কলাতলী, হিমছড়ি ও ইনানী বিচ সহ কয়েকটি বীচ ঘুরে পর্যটকদের উপস্থিতির চিত্র চোখে পরে। পর্যটকদের বসার চেয়ার ফাঁকা নেই। অন্যান্য সময় যেখানে ৩০ টাকায় সেসব চেয়ারে সারারাত কাটানো যেতো এখন ১ঘন্টা পরেই তা ছেড়ে দিতে হচ্ছে বা নতুন করে আবার ১ ঘন্টার জন্য নিতে হচ্ছে । পর্যটকদের উপস্থিতি বিরাজ করছে শামুক ঝিনুক সহ বার্মিজ মার্কেটেও।

 সন্ধ্যায় সুগন্ধা বীচ থেকে উপরের দিকে উঠে এলে চোখে পরবে বেশ কিছু সামুদ্রিক মাছের দোকান। সেখানেও রয়েছে ব্যাপক ব্যস্ততা। ফিস ফ্রাই বা বার বি কিউ এর জন্যে অপেক্ষা করতে হবে বেশ কিছুক্ষন।

11265252_993239920688481_1230051300618532596_n
হোটেল অস্টার ইকোর রিসিপসনিস্ট জনাব সোহেল বলেন, যে অবস্থা ছিলো তাতে এখানকার সব ব্যবসায়ীদেরই খুব খারাপ অবস্থা হয়েছিলো। সেই ক্ষতি সম্পূর্ণ ভাবে পোষানো না গেলেও পর্যটকদের উপস্থিতিতেই কেবল সেই ধকল কাটিয়ে উঠা সম্ভব এবং এখন বর্তমানে যে হারে পর্যটকরা আসছেন তাতে সবাই মোটামুটি আশার মুখ দেখছেন।

ঢাকা থেকে সস্ত্রীক কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন এন জি ও কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম এখন অফ সিজন তাই হোটেল বুকিং দেইনি। কিন্তু এসে দেখি কোন হোটেলেই ভালো এসি রুম খালি নেই।পরে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর হোটেল অস্টার ইকোতে একটি রুম খালি পেয়ে উঠেছি। তবে প্রচুর লোকজন দেখে ভালোই লাগছে।ট্যুরিস্ট না থাকলে কক্সবাজারে প্রান থাকেনা। এখন বেশ ভালোই উপভোগ করছি।’

তিনি আরো বলেন, সিজনের সময় পেট্রল বোমার আতঙ্কে আসতে পারিনি তাই এখন এসেছি। দেশের পরিস্থিতি ভালো থাকলে মানুষ সাচ্ছন্দে বেড়াতে পারবে কক্সবাজারের মতো দেশের আরো অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গায়।

কক্সবাজার ঘুরে এসে লিখেছেন
তারিকুল হাসান আশিক

Comments