শীতেও প্রাণবন্ত হাম হাম জলপ্রপাত

  • শীতেও প্রাণবন্ত  হাম হাম জলপ্রপাত
  • শীতেও প্রাণবন্ত  হাম হাম জলপ্রপাত
  • শীতেও প্রাণবন্ত  হাম হাম জলপ্রপাত
  • শীতেও প্রাণবন্ত  হাম হাম জলপ্রপাত
Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক,২৮ জানুয়ারীঃ শীতের শেষের দিক। শীতে নাকি জলপ্রপাত গুলোর পানি শুকিয়ে যায়। এই কথাটিকে মিথ্যা প্রমানিত করতে কুয়াশায় মোড়ানো শিশির জড়ানো এই শীতে দল বেঁধে কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে দেখে আসতে পারেন হাম হাম জলপ্রপাত। পাবেন সৌন্দর্য দর্শন ও এ্যাডভেঞ্চারেরের যুগলবন্দী। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বনবিটে অরণ্যঘেরা দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত হাম হাম।

download

কুরমা বনবিটের আয়তন ৭ হাজার ৯৭০ একর। বনবিটের সবুজ পাহাড়ের পশ্চিমদিকে চাম্পারায় চা বাগান, পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত। এ বনাঞ্চলটি ঢাকা থেকে ২৬০ কিমি ও কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বদিকে অবস্থিত। কমলগঞ্জ থেকে ১ ঘণ্টায় লোকাল বাস, জিপ বা প্রাইভেট কার নিয়ে চাম্পারায় চা বাগানে পৌঁছে যাবেন। কুরমা চেকপোস্ট পর্যন্ত পাকা সড়ক থাকলেও সেখান থেকে চাম্পারায় চা বাগান পর্যন্ত মাটির রাস্তা। সেখান থেকে প্রায় ৫ কিমি গেলেই তৈলংবাড়ীর ত্রিপুরা পল্লী। সিএনজিতে গেলে তৈলংবাড়ী পর্যন্ত অনায়াসে পৌঁছা যাবে।

তৈলংবাড়ীর আদিবাসীদের সাহায্য নিয়েই হাম হাম যেতে হবে। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর দেখবেন পাহাড় থেকে ধোঁয়ার মতো ঘন কুয়াশা ভেসে ওঠার অপূর্ব দৃশ্য। ওই পাহাড় আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। হাঁটতে হাঁটতে আপনি একসময় পৌঁছে যাবেন কলাবন চা শ্রমিক বস্তিতে। প্রায় ৮ কিমি দুর্গম পাহাড়ের গায়ে হাম হাম জলপ্রপাত যাওয়ার সহজ রাস্তটি স্থানীয়রা আপনাকে বলে দেবে। কলাবন পাড়া থেকে রওনা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জারুল ও বেত বাগানে দেখা পাবেন বানরের দল। জারুল, চিকরাশি ও কদমের সারির ফাঁকে ফাঁকে হাজারও প্রজাপতি ডানা মিলিয়ে ওড়ে যাচ্ছে। বহুদূরে।

madhabpur-lake-pic-3-bnb

এ ছাড়া ডলু, মুলি, মিটিংগা, কালি ইত্যাদি অদ্ভুত নামের বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশের সঙ্গে পরিচিত হবেন। কিছু জায়গায় জংলি কলাগাছ দেখে মনে হবে কে যেন সুশৃংখল ও সারিবদ্ধভাবে লাগিয়ে রেখেছে। ঝিরিপথে হেঁটে যেতে যেতে চোখে পড়বে ডুমুর গাছের শাখায় চশমা বানরের দল। এ পথে পাথরের ওপর হাঁটা খুবই কঠিন ও কষ্টকর। মাঝেমধ্যে কোমর পানি আর তলদেশ সিমেন্টের ঢালাইয়ের মতো কঠিন ও খুবই পিচ্ছিল।

তাই হাঁটার সুবিধার জন্য একটি করে বাঁশের লাঠি হাতে নিতে হয়। ঝিরিপথে শুধু হাঁটাচলায় কঠিন নয়, ডানে-বামে তাকানোও মুশকিল। তারপরও আপনি উপভোগ করা মতো অনেক কিছু পাবেন। সুমধুর পাখির কলরবে মন ভরে যাবে। দূর থেকে কানে ভেসে আসবে বিপন্ন উল্লুক ও অন্যান্য প্রাণীর ডাক। এভাবেই হাঁটতে হাঁটতে একসময় আপনি পৌঁছে যাবেন হাম হাম জলপ্রপাতের কাছাকাছি। শুনতে পাবেন হাম হামের শব্দ। কাছে গিয়ে দেখতে পাবেন প্রায় ১৩০ ফুট উচ্চতা থেকে পানি ঝরে পড়ার অপূর্ব দৃশ্য।

ham-ham-falls

সেখানে কিছুক্ষণ কাটানোর পরই নিতে হবে ফেরার প্রস্তুতি। কারণ সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে পাহাড়ি অন্ধকারে রাস্তা হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা ষোলো আনা। বন্যপ্রাণীদের আক্রমণেরও শিকার হতে পারেন। ঢালু ও পিচ্ছিল পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে ওঠা কষ্টকর, কিন্তু নিচে নেমে আসা আরও বিপজ্জনক ও কঠিন। তাই সবাই কাছাকাছি থাকুন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর আপনি পৌঁছে যাবেন কলাবনে।

হাম হামে যেতে কমলগঞ্জ বা শ্রীমঙ্গল শহর হতে গাড়িভাড়া করতে হবে ভোর ছয়টার মধ্যে। তাহলে চাম্পারার চা বাগানে কলাবনপাড়ায় পৌঁছতে পারেন সাড়ে সাত বা আটটার মধ্যে। কলাবনপাড়া হতে হামহাম জলপ্রপাতে যেতে-আসতে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। যারা এ ধরনের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, মনোরম পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়া সুন্দর জায়গায় যেতে চান তারা চলে যেতে পারেন এ জলপ্রপাতে।

Comments