ছুটির গন্তব্য যদি হয় বান্দরবান পর্ব-২

ঢাকা,১৭ অক্টোবরঃ পাহাড়ের চূড়ায় উঠেআকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছা সবার মনেই আছে। অনেকেরই ইচ্ছে করে মেঘের রাজ্যে হারিয়ে যেতে । আর তাদের জন্য আমাদের দেশের ভেতরেই বেশ কিছু জায়গা আছে যেখান থেকে আকাশ ছোঁয়ার এবং মেঘের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ারসুযোগ মিলবে সহজেই। আজকের পর্বে পাঠকদের জন্য থাকছে বান্দরবানের  নীলগিরি সহ আরও কিছু মনকাড়া জায়গার বর্ণনা ও বান্দরবান ভ্রমণের আদ্যোপান্ত ।

নীলগিরিঃ

নীলগিরি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র। এ পর্যটন কেন্দ্রের উচ্চতা প্রায় ৩ হাজার ফুট। এটি বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলায় অবস্থিত। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থিত এই পর্যটন কেনেদ্রর অবস্থান। এ পর্বতের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত উপজাতী সম্প্রদায় ম্রো পল্লী। যাদের বিচিত্র সংস্কৃতি দেখার মত। বর্ষা মৌসুমে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রথেকে মেঘ ছোয়ার দূর্লভ সুযোগ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নীলগিরি থেকে সূর্যদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র এটি। এটি সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এর পাশেই রয়েছে একটি সেনা ক্যাম্প। নিরিবিলিতে স্বপরিবারে কয়েক দিন কাটাতে এটি একটি আর্দশ জায়গা।

Nilgiri

নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবান জেলা সদর থেকে দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসা যায়। এ ছাড়া নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র রাত্রি যাপনের জন্য বান্দরবান সদর সেনা রিজিয়নে বুকিং দেয়া যায়। তাছাড়া নীলগিরি পর্যটনে গিয়ে সরাসরি বুকিং করা যায়। বান্দরবান জেলা সদর থেকে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় অধিকাংশ পর্যটক দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসেন।

সাধারন পর্যটকের জন্য নীলগিরি কর্টেজ বুকিং ব্যবস্থাঃ পেট্রো এভিয়েশন , ৬৯/২, লেভেল-৪,রোড-৭/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা। ফোন:-মনতোষ মজুমদারঃ ০১৭৩০০৪৩৬০৩ এবং হাসান সাহেদঃ ০১৭৩০০৪৩৬০৩।

কটেজ ভাড়া: গিরি মারমেট: ৭৫০০ টাকা। (৮/১০ জন থাকতে পারবে),মেঘদূত: ৬৫০০ টাকা। (৮/১০ জন থাকতে পারবে), নীলাঙ্গনা: ৫৫০০ টাকা। (৪/৬ জন থাকতে পারবে ২ রুমে) কাপলরা ২৭৫০টাকায় ১ রুম ভাড়া পাবেন।

চিম্বুকঃ

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত। চিম্বুক সারা দেশের কাছে পরিচিত নাম। বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৫০০ শত ফুট। চিম্বুক যাওয়ার রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ি দৃশ্য খুবই মনোরম। চিম্বুক যাওয়ার পথে সাঙ্গু নদী চোখে পড়ে। পাহাড়ের মাঝে আঁকা বাঁকা পথ বেয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক দিয়ে এতে যাতায়ত মনে হবে গাড়ীতে করে চাঁদের বুকে পাড়ি জমানোর অনুভূতি। ২৫০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে এ অপরুপ বিচিত্র দৃশ্য দেখতে পাবেন চিম্বুকে।

Chimbuk Pahar

চিম্বুক পাহাড় থেকে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের নিচ দিয়ে মেঘ ভেসে যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা যায়।এখান থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এর বিভিন্ন উপজেলাগুলোকে দেখা যায়। বর্ষা মৌসুমে চিম্বুক পাহাড়ের পাশ দিয়ে ভেসে যাওয়া মেঘ দেখে মনে হয় মেঘের স্বর্গরাজ্য চিম্বুক। মেঘের হালকা হিম ছোঁয়া যেন মেঘ ছোয়ার অনুভূতি। চিম্বুককে বাংলার দার্জিলিং বলা হয়।

চিম্বুক থানছি সড়কের দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে হোটেল বা রেস্তোরাঁগড়ে ওঠেনি। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি রেষ্টহাউস আছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোতিক্রমে রাত্রি যাপনের সুযোগ রয়েছে। চিম্বুকের পাশে সেনাবাহিনীর ক্যান্টিন রয়েছে। এখানে সকালের নাস্তা ও দুপুরে খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া খাবারের জন্য বান্দরবান থেকে চিম্বুক যাওয়ার পথে মিলনছড়ি ও শাকুরা নামে ২টি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। চিম্বুক যাওয়ার পথে বান্দরবান থেকে হালকা খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিয়ে যাওয়ায় উত্তম।

শৈল প্রপাতঃ

বান্দরবান রুমা সড়কের ৮ কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সৃষ্টি। ঝর্ণার হিমশীতল পানি এখানে সর্বদা বহমান। এই ঝর্ণার পানিগুলো খুবই স্বচ্ছ এবং হীম শীতল। বর্ষাকালে এ ঝর্ণার দৃশ্য দেখা গেলেও ঝর্ণাতে নামা দুস্কর, বছরের বেশীর ভাগ সময় দেশী বিদেশী পর্যটকে ভরপুর থাকে। রাস্তার পাশে শৈল প্রপাতের অবস্থান হওয়ায় এখানে পর্যটকদের ভিড় বেশী দেখা যায়। এখানে দুর্গম পাহাড়ের কোল ঘেশা আদিবাসী বম সম্প্রদায়ের সংগ্রামী জীবন প্রত্যক্ষ করা।

যাতায়াতঃ চাঁদের গাড়ি রিসার্ভ করে এই তিনটি স্পট ঘুরে আসতে পারেন একসাথে । শহর থেকে খুব ভোঁরে রওনা দিয়ে বিকেল ২ টার মধ্যেই এই তিনটি স্পট ঘুরে আসতে পারেন অনায়েসে। নীলগিরি যাওয়ার পথে সেনা চেকপোষ্টে পর্যটকদের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে। বান্দরবান জেলা সদর থেকে সাধারণত বিকেল ৫ টার পর নীলগিরির উদ্দেশে কোন গাড়ী যেতে দেয়া হয় না। এই তিনটি স্পট ঘুরাতে চাঁদের গাড়ি ভাড়া নিবে ২৫০০ টাকা । এক গাড়িতে আট জন বা ১০ জন অনায়েসেই  ঘুরে আসতে পারেন। বান্দরবান ভ্রমনে খরচ কমাতে চাইলে অবশ্যই গ্রুপ করে যাওয়া উত্তম ।

সাঙ্গু নদীঃ

দুপুরের মধ্যে নীলগিরি, চিম্বুক পাহাড় এবং শৈল প্রপাত ঘুরে এসে বিকেল টা রাখতে পারেন সাঙ্গু নদীতে ঘুরার জন্য ।

পূর্বের অতিউচ্চ পর্বত শীর্ষ থেকে সাঙ্গু নদী নেমে এসে বান্দরবন শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশে গেছে। বান্দরবান শহরের পূর্বে পাশে পাহাড়ী ঢালে বয়ে চলা সাঙ্গু নীদ দেখতে দারুন দৃষ্টি নন্দন। উপভোগ করতে পারেন একটি চমৎকার মনোরম ঝর্না ।

যাতায়াতঃ শহর থেকে অটো ধরে ঘাট পর্যন্ত গিয়ে ঘাট থেকে নিতে হবে ইঞ্জিনচালিত বোট। তিন চার ঘণ্টা ঘুরানোর জন্য নিবে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। স্থানীয় কাওকে সাথে নিয়ে যেতে পারলে আরও কমেও নিয়ে যেতে পারেন নৌকা।

 তারিকুল হাসান আশিক, সংবাদ কর্মী

[email protected]

scroll to top