সেন্টমার্টিন এর ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদ: প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ

সম্প্রতি আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রের করুণ পরিণতির পরে সেন্ট মার্টিনের সমুদ্র সৈকত নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে নতুন করে। এর আগে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এমন পরিণতির ঘটনা ঘটেছে বহুবার। সচেতনতা আর স্থান গুলির বিষয়ে পর্যটকদের মনে ধারনা বৃদ্ধির পর দূর্ঘটনা আর সলিল সমাধির ঘটনা কমেছে অনেকাংশে।তবে নতুন ভাবনা তৈরী হয়েছে সেন্টমার্টিন নিয়ে। বছরের বড় একটা সময় যেহেতু সেন্টমার্টিন পর্যটকদের ধরা ছোয়ার বাইরে থাকে,তাই এ মৌসুমে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে বহু গুনে। স্বচ্ছ পানি আর প্রকৃতির অপার ডাকছানিতে প্রকৃতিদর্শন করতে গিয়ে সম্প্রতি ২ জন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে, যারা নিখোজ তাদেরও একি পরিণতি হয়েছে বলে শঙ্কা সবার মনে।

10176241_715776428466320_6433438864265661869_n

বেশ কয়েকবছর আগে আমাদের কাছের এক বড় ভাইয়ের এক বন্ধু মারা যান সেন্টমার্টিনে পানিতে ডুবে। সব বন্ধু পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে আর চোখের সামনে মায়াবী নীল পানি গ্রাস করে নিচ্ছে কাছের বন্ধুকে !! ভাবতেই গা শিউরে উঠে। এরপর যখন আমরা কয়েকটা বন্ধু মিলে সেখানে যাই তখন কথাটা খুব মনে হচ্ছিল!! যাওয়ার পথেও অনেকের কাছেই শুনলাম এরকম হারিয়ে যাওয়ার কিছু সত্য গল্প। অবাক করা বিষয় হচ্ছে বর্ণনায় সবার বলা জায়গাটা একটাই মনে হচ্ছিল। তাই ওখানে গিয়ে আমরাও খুজতে লাগলাম জায়গাটি।।

স্থানীর এক হোটেল কর্মকর্তার সাথে এসব নিয়ে কথা হচ্ছিল , কথা প্রসঙ্গে উনিও জায়গাটা দেখিয়ে দিয়েছিলেন, আর তানা হলে হয়ত অন্যদের মত আমরাও হারিয়ে যেতাম সেখানে কারন জায়গাটা সেন্টমার্টিন নেমে প্রথম বীচে হাটা শুরু করলেই কয়েক মিনিট পরেই অর্থাৎ  অবতরনের অনেক কাছেই এই মৃত্যুফাদ । ওখানকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে কিছু বুঝে উঠার আগেই হয়ত ভুলবশত আপনিও পা দিতে পারেন এই জায়গাটিতে!! কারন নীল পানির আচ্ছাদনে আলাদা করে বোঝার কোণ উপায় নেই।

এরপরেও প্রায় প্রত্যেক বছর এই একি জায়গায় অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন আর এবার ২০১৪ তে এসে আহছান উল্লাহ ইউনিভার্সিটির ছআত্রগুলোর এমন ঘটনায় বিবেকের দংষন হচ্ছে। কেননা, বিস্তর ভাবে সেন্টমার্টিনের ঝুকির জায়গাগুলো সম্পর্কে সচেতনতা ছড়ালো হয়তো এমন পরিণতি হতো না বন্ধদের। যাহোক কথা না বাড়িয়ে আমি

10247448_715776328466330_3105631545899919869_n

আপনাদের কে জায়গাটা একটূ ছবি দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাচ্ছি।।যার গেছেন তারা নিশ্চই জানেন যে প্রথমে জাহাজে করে সবাইকে সেন্টমার্টিন ফেরীলাইনে নামিয়ে দেয়া হয়। আর সেখান থেকে পায়ে হেটে ব্রীজটা পার হয়ে এসে নামতে হয় সেন্টমার্টীন দ্বীপে।এখানে নামলেই হাতের ডানদিকে যে বীচ টা দেখতে পাই প্রায় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সবাই এই বীচ ধরে হাটি এবং ব্রীজের গোড়ার দিক থেকে পানিতে নামি আর কিনারা ঘেষে ডান দিকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকি।। পানিতে একবার নেমে পড়লে আমরা আর কেউই কিন্তু বালিতে উঠে আসিনা সামনে এগুতে থাকি পানি ধরেই। ঠিক সোজা সামনের দিকে এগিয়ে গেলে এবার দ্বীপটা হাতের বা দিকে টার্ন নেয়। ঐ জায়গাকে বলা হয় “জিনজিরা উত্তরপাড়া” স্থানীয়রা বলেন উত্তর বীচ।। দুইদিকের পানির স্রোত এবং ঐ ত্রিকোনাকৃতির মধ্যস্রোত এই জায়গাটিতে মিলিত হয়েছে এবং ত্রিমুখি স্রোতের কারনে পানির চাপ খুব বেশী ওখানে এবং চাপটা নিন্মমুখি।

স্থানটা দেখতে অনেকটা লম্বাটে খালের মত, আর এই ত্রিমুখি স্রোতের কারনে অনেক জায়গাজুড়ে বড়সড় গর্ত তৈরী হয়েছে। জানিনা এবং কোন নির্দেশনা নেই বলেই আমরা সাতার কাটতে কাটতে এই টার্ন দিয়েই বা পাশের বীচের দিকে এগুতে থাকি, আর তখনি কিছু বুঝে উঠার আগেই সমুদ্রের অতলে হারিয়ে যায় অনেকেই। একইভাবে আমি এবং আমার বন্ধু জাকির ও রিয়াদ সাতার কেটে ওইদিকেই এগুচ্ছিলাম হঠাত ওখানে বীচে হাটাহাটি করা স্থানীয় দুইটা বাচ্ছা ছেলে আমাদের কে বললো ‘ভাইয়া ওইদিকে যাইয়েন না, গর্ত আছে’ আর হয়ত এভাবেই আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন !! স্থানীয়রা ওই এলাকাতে পর্যটকদের যেতে প্রায়ই নিষেধ করে, কিন্তু সব সময় স্থানীয়রা সাবধান করতে পারে না এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা। সেন্ট মার্টিনের পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি মহলকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে সাম্প্রতিক প্রাণহানির ঘটনার পর।

 সবার কাছে অনুরোধ রইলো এই স্থানটা সম্পর্কে আপনার কাছের সবাইকে সচেতন করে দিন। ছবিগুলো ফোনে নিয়ে নিন যখন যার সাথে কথা হবে দেখিয়ে দিন, যদি আর একটি প্রাণ ও বাঁচে আপনার এই ছোট্র কাজ থেকে তাহলে অনেক বেশী উপকৃত হবেন।।

 লেখা: মেহেদী, ব্লগার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top