চন্দ্রনাথ পাহাড়ের শিবচতুর্দশী মেলা

Print Friendly, PDF & Email

প্রায় ১২০০ ফুট উঁচু চন্দ্রনাথ পিক থেকে তোলা বিরুপাক্ষ মন্দিরের ছবি। বিরুপাক্ষ মন্দির যে চূড়াটির উপর অবস্থিত সেটির আনুমানিক উচ্চতা ৮০০ ফুটের মতো। ছবিতে মন্দির ছাড়িয়ে আরো দেখা যাচ্ছে সীতাকুন্ড অঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর। এই প্রান্তরের শেষে সুনীল সমুদ্র আর সমুদ্রেরের মাঝে রেখার মতো দেখা যাওয়া সন্দীপ এই ছবিতে আসেনি। আর চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ১১৫০-১২০০ ফুট উচ্চতা নিয়ে নাক সিটকানোর কিছু নাই যেখানে আমাদের দেশের সর্বোচ্চ পিকগুলোর উচ্চতা ৩২০০-৩৩০০ ফুটের মত। আর বান্দরবান অঞ্চলের পিকগুলোর আশেপাশের অঞ্চল এম্নিতেই সমুদ্রপৃষ্ট থেকে হাজার ফুট উঁচুতে, সুতরাং গোড়া থেকে ধরলে সেগুলোতে চড়লে একসাথে ৩৩০০ ফুট আরোহন হয়না। এক্ষেত্রে চন্দ্রনাথ সমতল থেকে খাড়া ১২০০ ফুট নিতান্ত কম না।

 9569996312_c4ef869a41_b

এই মন্দিরে প্রতিবছর শিবরাত্রি তথা শিবর্তুদশী তিথিতে বিশেষ পূজা হয়; এই পূজাকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে বিশাল মেলা হয়। সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকা বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর বাংলা ফাল্গুন মাসে (ইংরেজী ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাস) বড় ধরনের একটি মেলার আয়োজন করে থাকে। যেটি শিবর্তুদর্শী মেলা নামে পরিচিত। এই মেলায় বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য সাধু এবং নারী-পুরুষ যোগদান করেন। জনশ্রুতি রয়েছে যে, নেপালের এক রাজা ঘুমের মধ্যে পৃথিবীর পাঁচ স্থানে শিব মন্দির স্থাপনের আদেশ পান। স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে নেপালের সেই রাজা পৃথিবীর পাঁচ স্থানে পাঁচটি শিব মন্দির স্থাপন করেন। এগুলো হলো নেপালের পশুপতিনাথ, কাশিতে বিশ্বনাথ, পাকিস্তানে ভুতনাথ, মহেশখালীর আদিনাথ এবং সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায় প্রাচীন আমলে এখানে মহামুনি ভার্গব বাস করতেন। অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র তার বনবাসের সময় এই স্থানে এসেছিলেন। মহামুণি ভার্গব রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র আগমন করবেন জেনে তাদের গোসল করার জন্য এখানে তিনটি কুন্ড সৃষ্টি করেন। রামচন্দ্রের সাথে তার স্ত্রী সীতাও এখানে এসেছিলেন। রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতা এই কুন্ডে গোসল করেছিলেন এবং সেই থেকে এই স্থানের নাম সীতাকুন্ড

 120140131002143

সীতাকুন্ড থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের দূরত্ব খুব কম হওয়ায় রিক্সায় করেই যাওয়া যায়। তবে রিক্সায় যাওয়ার চেয়ে পায়ে হেটে গেলে ভ্রমণের আসল মজাটা উপভোগ করা যায়। সীতাকুন্ড থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যেতে পথে পড়বে অসংখ্য দর্শনীয় দৃশ্য। রিক্সায় করে গেলে সেই সব সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সীতাকুন্ড থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাওয়ার সময় পথে হিন্দুদের বেশ কিছু ধর্মীয় স্থাপনা পর্যটকদের চোখে পড়বে। চলতি পথে চোখে পড়বে পেয়ারা, সুপারি, আম সহ আরও বিভিন্ন ধরনের বাগান। পাহাড়ের ভিতরের দিকে স্থানীয় নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর জনগণ জুম ও ফুলের চাষ করে।

এটি একটি ভাল পিকনিক স্পট, কিন্তু অন্যগুলোর তুলনায় তেমন উন্নত নয়।এখানে ব্যাসকুণ্ডের পাশে একটি বিশাল মাঠ আছে যা গাড়ী রাখা, রান্না করা সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়।তবে এখানে খাবার পানির কোন সুব্যবস্থা নেই, আপনাকেই খাবার পানির ব্যবস্থা করতে হবে অথবা দোকান থেকে বোতলজাত পানি কিনে খেতে হবে।

ভ্রমন ডেক্স, সবুজপাতা।

Comments