উন্নয়নকে টেকসই করতে গ্রামমুখী হন-  এ পি জে কালাম

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ২০ অক্টোবরঃ উন্নয়নকে টেকসই করতে গ্রামের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি পরমাণু বিজ্ঞানী এ পি জে আব্দুল কালাম।মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ১১০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে শনিবার এক আলোচনা সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এই পরামর্শ দেন তিনি।

এই বিষয়টি একটি চ্যালেঞ্জ- মনে করিয়ে দিয়ে তা মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সরকার পরিচালনাকারীদের একই আহ্বান জানান তিনি।প্রতিবেশী এই দুই দেশের বাজার থেকে প্লাস্টিক সরাতে পারলে গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন ভারতের সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

উন্নয়নের সুবিধাগুলো পল্লীতে পৌঁছে দিয়ে গ্রামে উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পাশাপাশি বাজার সৃষ্টির পরামর্শ দেন এ পি জে কালাম।গ্রামে বা মফস্বলে জ্ঞানভিত্তিক যোগাযোগ বাড়াতে পরামর্শ দেন তিনি। স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত এবং টেলিমেডিসিনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তিনি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মো. ফরাসউদ্দিন আহমেদ জানতে চেয়েছিলেন- গ্রামীণ জনপদে শহুরে সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কৌশলটি কী হবে?

তখন কালাম বলেন, “গ্রামে ‘কানেকটিভিটি’ বাড়ানোই এর সমাধান। গ্রামের সব ধরনের উদ্যোক্তার জন্য বাজার সৃষ্টি করতে হবে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে হবে, প্রযুক্তি দিতে হবে।”এর ফলে গ্রাম ছাড়ার প্রবণতা কমবে, যার মধ্য দিয়ে শহরের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানোও সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

‘সাসটেইনএবল ডেভেলপমেন্ট সিস্টেম ফর এ পিসফুল অ্যান্ড প্রসপারাস গ্লোবাল সোসাইটি’ শীর্ষক এই প্রবন্ধে তিনি গ্রামীণ জীবনে শহরের সুবিধা পৌঁছে দিতে তার নিজের ধারণা ‘প্রোভাইডিং আরবান এমেনিটিজ টু রুরাল এরিয়া (পিইউআরএ-পুরা)’ কৌশলও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের প্রসার রোধে করণীয় জানতে চান বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী হামলার শিকার ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির কাছে।

জবাবে কালাম বলেন, “কেন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে মানুষ জড়াচ্ছে, আগে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। সেই কারণটি দূর করা গেলে সন্ত্রাসবাদ কমবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে পারলে সন্ত্রাসবাদ কমে আসবে।”

৪২ মিনিটের বক্তৃতায় এ পি জে কালাম ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির সম্ভাবনা ও সমস্যা, নেতৃত্ব বিকাশে করণীয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও সম্ভাবনা, সার্ক অঞ্চলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। বিভিন্ন গবেষণা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।

এমসিসিআইর আমন্ত্রণে ঢাকা সফরে এসে শুক্রবার বাংলাদেশের সাড়ে পাঁচশ’ শিক্ষার্থীর উদ্দেশে রাজধানীর একটি হোটেলে বক্তব্য রাখেন এ পি জে কালাম। একদিন বাদে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বক্তব্য রাখেন শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর উদ্দেশে।

এ পি জে কালাম বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতি করতে হলে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আর সেজন্য দরকার জ্ঞান। আর জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে হলে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের বিকল্প নেই।

কর্মপরিবেশ উন্নত করার পরামর্শ দিয়ে তিনি শিল্পোদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি নির্ভর করেকর্মীর উৎপাদনশীলতার ওপর। এজন্য কর্মীর দায়বদ্ধতাও জরুরি। আবার কর্মীর সন্তুষ্টি সৃষ্টি করে তার দায়বদ্ধতা।

“ভালো কর্মপরিবেশ নির্ভর করে ব্যবস্থাপনার উদ্ভাবনী শক্তির ওপর। আর এসবই নির্ভর করে উদ্ভাবনী বা সৃজনশীল নেতৃত্বের ওপর।”নেতৃত্ব যিনি দেবেন তার কী গুণাবলী থাকা দরকার, তা-ও বলেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

“যিনি নেতৃত্ব দেবেন তার দূরদৃষ্টি থাকতে হবে। এই দূরদৃষ্টিকে কার্যকর করতে আগ্রহ থাকতে হবে। নতুন ব্যবস্থায় চলার মত মানসিকতা থাকতে হবে। সফলতা ও ব্যর্থতার ব্যবস্থাপনাও জানতে হবে।”

পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত পৃথিবী গড়তে নেতৃত্ব দেওয়ার কথাও জানালেন ড. এ কালাম।একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সারা পৃথিবীর মানুষকে সম্পৃক্ত করে এই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ- ভারত দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন ড. কালাম।এই অঞ্চলের পৌনে একশো কোটি তরুণের মধ্যেই তিনি দেখেন একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments