চলতি বছরে বজ্রপাতে ১৯২ জনের মৃত্যু- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী

Print Friendly

সবুজপাতা ডেস্কঃ  চলতি বছরে বজ্রপাতে ১৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সেলিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বজ্রপাত হতে রক্ষা পেতে করণীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারপত্র বিলিসহ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০১২-১৩ মোতাবেক প্রতিবছর বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ২০ হাজার টাকা হতে ২৫ হাজার টাকা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জেলা প্রশাসন ত্রাণ সহায়তা দিয়ে থাকে। এছাড়া আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য নিম্নে ৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে উপকূলীয় ১৫ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৬ জন লোক নিহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনসাধারণের মধ্যে ৫ হাজার ৬৮২ মেট্রিকটন চাল এবং ১ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বেগম জেবুন্নেছা আফরোজের (বরিশাল-৩) এক প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম বার্তা সরাসরি জনসাধারণের নিকট পৌঁছানোর জন্য প্রযুক্তি দ্বারা সকল মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে প্রচারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেকোনো মোবাইল হতে ১০৯৪১ নম্বরে ডায়াল করে দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রগামী জেলেদের নদ-নদীর পানির অবস্থা ও নদী বন্দরের জন্য সতর্ক সংকেত সম্পর্কিত তথ্যে জানা যাচ্ছে।

দুর্যোগমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় ৩৮৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র আছে এবং ইতোমধ্যে আরো ১০০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম শেষে উপকূলীয় মানুষকে ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সতর্ক বার্তা প্রচারের জন্য ৩৫টি উপজেলায় ৩৫টি মেগাফোন সাইরেন স্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য ১২টি পিকআপ ভ্যান ক্রয়পূর্বক সিডর বিধ্বস্ত ১২টি জেলায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মোফাজ্জেল হোসেন মায়া বলেন, দেশে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলার জন্য উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে ১০৭২টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে একনেকে ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

Comments