তিস্তার ভাঙনঃ সব হারালো ১০ গ্রামের মানুষ

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্কঃ  তিস্তা নদীর বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে। গত কয়েকদিনে ওই ইউনিয়নের ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি কিন্টার গার্ডেন বিদ্যালয়, দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি বিজিবি ক্যাম্প, একটি বাজার, ১০টি গ্রামের প্রায় পাঁচশ পরিবারের বসতভিটা, রাস্তাঘাট, পুল কার্লভাটসহ বহু আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওইসব গ্রামের নিঃস্ব মানুষেরা। বন্ধ হয়ে গেছে শিশুদের লেখা-পড়া। পেটের খাবার জোগার করতে হন্নে হয়ে ছুটছেন ওইসব অসহায় পরিবারের সদস্যরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামের চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাপুর চরের ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। জিঞ্জির পাড়ার টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও ওই গ্রামের ৩৯ফিট একটি ব্রিজ উদ্বোধনের আগেই বন্যা ও ভাঙনের কবলে পরে পুরোটাই বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

এ ছাড়া বিএডিসির নির্মিত ১৭ ফিট একটি ব্রিজ, জিঞ্জির পাড়ায় এলজিইডির নির্মিত ৭০ ফিট একটি ব্রিজ ও পূর্বখড়িবাড়ী এলাকায় এডিপির অর্থায়ানে নির্মিত ১০ফিট একটি ব্রিজসহ ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের সংযোগ ব্রিজ পানির তোড়ে ভেসে গেছে। ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের অন্তত পাঁচশটি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার মানুষজন স্বেচ্ছাশ্রমে বালির বস্তা, বাঁশ ও গাছের পাইলিং করেও ভাঙনের কবলে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, বাজার ও বিজিবি ক্যাম্প রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।

অব্যাহত ভাঙনে দিনে দিনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেষ চিহ্ন টুকুও।

গত সোমবার বিকেলে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের টেপাখড়িবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টি ভাঙনের পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন জানান, সোমবার বিদ্যালয়টি ৪০ ফিট নদীগর্ভে বিলীন হলেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়টিকে শত চেষ্টা করেও আর আটকানো গেল না। সর্বনাশী তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে পুরো বিদ্যালয়টি। শুধু দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয়ের কয়েকটি পাকা খুঁটি।

এ ছাড়া দেবে যাওয়া দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিল্ডিং দুমরে মুচরে নদীগর্ভে বিলীন হতে চলছে। দুটি ক্লিনিক ভবনের ইট ধ্বসে নদীতে পতিত হচ্ছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জিঞ্জির পাড়ার মকছেদ আলী (৭৫) জানান, ১৯৬২ সালে তিস্তা গতিপথ পরিবর্তন করে যে পথ দিয়ে চলছিলো। এবারের বন্যায় তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন করে চলছে উল্টো দিকে। যার কারণেই আমাদের সবকিছুই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।

যদি সরকারের পক্ষ হতে জরুরি ভিত্তিতে একটি বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ দেয়া হতো তাহলে হয়ত আমরা বাঁচতে পারতাম, বলেন মকছেদ আলী।

টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন জানান, এই ইউনিয়নের জনগণ ত্রাণ চায় না। চায় জরুরি ভিত্তিতে শক্ত একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

তিনি বলেন, এবারের বন্যা ও বন্যা পরবর্তি ভাঙনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নটি পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, রাস্তাঘাট, পুল কার্লভাটগুলো তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর নিঃস্ব হয়েছে অত্র ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের পাঁচশ পরিবার। তিস্তার ভাঙনের কারণে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পর্যন্ত নেই, বলেও তিনি জানান।
ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ জানান, বন্যা ও ভাঙনে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তত করা হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান ,ভাঙনে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তালিকা পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক নীলফামারী বরাবরে প্রেরণ করা হবে।

Comments