১০০% ইকোফ্রেন্ডলি বিয়ে !

সবুজপাতা ডেস্ক, ৫ ডিসেম্বরঃ  বিয়েতে ফুল আছে, আবার নেইও! যে ফুল আছে, তার সুবাস না থাক, ষোলআনা খাঁটি রং আছে। টাটকায় মধুমাছি ঘুরঘুর করল না তো কী, তা বলে বাসি ফুলের মরা ঝিমুনিও কিন্তু নেই! আদ্যন্ত কাগজের ফুল। কাগুজে গোলাপ। সেই ফুলেই মালাবদল হল যুগলের। এই নয় কী কয়েকশো গোলাপে গাঁথা মালা কেনার সামর্থ্য ছিল না মেয়ের বাড়ির। বিশেষত, বাবা যারা মন্ত্রী। তবু, আসেনি ফুলের এক পাপড়িও। আসেনি, পাত্রী চাননি বলেই। তাতে পূর্ণ সমর্থন ছিল পাত্রেরও।

পাত্রী ভারতের কর্নাটক রাজ্যের  পরিবহণমন্ত্রী আর রামালিঙ্গা রেড্ডির কন্যা সৌম্যা। আপাদমস্তক পশুপ্রেমী সৌম্যা। পশু অধিকার রক্ষায় মাঠে নেমে কাজ করেন। মাছ-মাংস তো দূর অস্ত, দুধটা-ঘিটা পর্যন্ত মুখে তোলেন না। তাই, বিয়েতেও বালাই ছিল না দুধ-ঘিয়ের। আমন্ত্রিতরা যারা চা বা কফি খেয়েছেন, সবাইকে দেওয়া হয়েছে সোয়াবিনের দুধে বানানো চা-কফি।

এটাও একটা আন্দোলন। আন্দোলন পরিবেশ রক্ষারই। আসলে সৌম্যা বা তার হবু স্বামী, দু-জনের কেউ-ই চাননি পচা ফুলে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিয়েবাড়ির উদ্বৃত্ত খাবারে বাসর-উত্তর পরিবেশ নোংরা হোক কোনো ভাবেই। সৌম্যার কথায়, এটা আমাদের ইকো-ফ্রেন্ডলি বিয়ে।

কথার কথা যে নয়, বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘হাসিরু দল’, বা গ্রিন ব্রিগেডকে রেখে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন নবদম্পতি। দু-একজন নয়। ১৫০ জন। কোথাও কিছু এটা-সেটা পড়লে, পলকে পরিষ্কার করছেন ওই সুবজ আন্দোলনের কর্মীরা। তা পৌঁছে যাচ্ছে মাগাদি রোডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্টে।

পরিবেশ পরিষ্কার রাখাটা নিশ্চিত ভাবেই চ্যালেঞ্জিং ছিল হাসিরু দলের কো-ফাউন্ডার মারওয়ান আবুবকরের কাছে। তবে খানাপিনার আয়োজনে ছিল যে ক্যাটারার, চাপটা তাদেরও কিছু কম ছিল না। ‘আমরা কোনো খাবারেই দুধ দিতে পারিনি। ঘি বা দই দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। দুগ্ধজাত জিনিসের পরিবর্তে রান্নায় ব্যবহার করা হয়েছে সয়াবিনের দুধ বা দই।’ বলছিলেন ক্যাটারিংয়ের মালিক এন চন্দ্রশেখর। সৌম্যার নিজেরও একটি ক্যাফে রয়েছে কোরামঙ্গলায়। সেখানেই দুগ্ধজাত কিছু ব্যবহার করা হয় না।

পরিবেশের সঙ্গে গাছের নাড়ির যোগ অনস্বীকার্য। তাই রিটার্ন গিফট হিসেবে আমন্ত্রিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চন্দন, নিম, মেহগনির মতো গাছের চারা। অর্ডার দিয়ে সরকারি নার্সারি থেকে আগেই গাছ আনিয়ে রেখেছিলেন সৌম্যার বাবা।

সৌম্যা জানান, আমরা বিয়ের কার্ডটিও ছাপিয়েছি রিসাইকেল পেপারে। নয়ত মেইল করে নিমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছি। সেইসঙ্গে ছিল একটাই আর্জি, সিল্কের শাড়ি কেউ পরে আসবেন না। সঙ্গে করে আনবেন না চামড়ার ব্যাগ। গিফট বা ফুল আনতেও নিষেধ করা হয়েছিল। তার পরেও কেউ কেউ পুষ্পস্তবক নিয়ে এসেছিলেন, নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে। কিন্তু, তা প্রবেশপথেই নিয়ে নেওয়া হয়।

অতীতে এমন পরিবেশবান্ধব বিয়ের কথা শোনা যায়নি। সেদিক অবশ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বেঙ্গালুরুর মন্ত্রীকন্যা।– সংবাদমাধ্যম

scroll to top