দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেড় শতাধিক নিহত

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক, ২৭ অক্টোবরঃ দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানে গতকাল সোমবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বাংলাদেশেও ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে হওয়ায় দেশটিতে ও পার্শ্ববর্তী পাকিস্তানে হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এ দুটি দেশে এখন পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, পাকিস্তানে অন্তত ১৩০ জন এবং আফগানিস্তানে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বহু মানুষ।

রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, বিস্তৃত এলাকার টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পেতে দেরি হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তরের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় ৩টা ৯ মিনিটে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের জারম থেকে ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের ২১২ কিলোমিটার গভীরে। ওই এলাকার কাছেই পাকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমান্ত।

আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের প্রাদেশিক প্রধান আবদুল রাজ্জাক জিনদার বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পের মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তালোকান শহরের একটি স্কুল থেকে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মৃত্যু হয় ১২ ছাত্রীর।

আর পূর্বাঞ্চলীয় নাগরহার প্রদেশে সাতজন, নূরিস্তানে দুজন এবং কুনার প্রদেশে তিনজন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

ভূমিকম্পে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ভয়ানকভাবে কেঁপে উঠলেও সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আফগান সীমান্তবর্তী জেলাগুলো।

উত্তরের দুর্গম এলাকায় ২৮ জন এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তানে আরও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিবিসির খবরে জানানো হয়েছে।

করিমাবাদ শহরের বাসিন্দা আনাসকে উদ্ধৃত করে বিবিসির খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধস সৃষ্টি হয়ে হুনজা নদীতে গিয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, আমার মনে হল, কেউ বুঝি আমাদের ধরে ঝাঁকি দিচ্ছে। এরপর দেখলাম ধস নামছে। আমাদের চোখের সামনে আস্ত একটা পাহাড় যেন নেমে এল।

চিত্রল প্রদেশের পুলিশ প্রধান শাহ জাহানকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স লিখেছে, সেখানে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, টেলিফোন যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় আমরা যোগাযোগ করতে পারছি না। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

পেশাওয়ারেও একজন নিহত হয়েছেন। সেখানে অন্তত দেড়শ মানুষ আহত অবস্থায় লেডি রিডিং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাদখাশন প্রদেশের গভর্নর সালাহ উবাইদুল্লাহ আবিদ জানান, তার এলাকায় অন্তত চারশ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

দুলুনিতে ভারতের বিভিন্ন শহরেও মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে অনেক স্কুল ও অফিস থেকে লোকজনকে বের করে আনা হয়।

বিবিসি জানিয়েছে, ভূমিকম্প শুরু হলে দিল্লির মেট্রো রেল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এক টুইটে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিরূপণের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীর টুইটে বলা হয়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ যেখানে যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।

Comments