বছরে নদীগর্ভে বিলীন ৬ হাজার হেক্টর ভূমি

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বরঃ  প্রতি বছর ৬ হাজার হেক্টর ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

দশম জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনে মঙ্গলবার বিকেলে প্রশ্নোত্তর পর্বে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে নদী শাসনের ফলে নদী তীর ভাঙনের তীব্রতা কমে এসেছে। আগে বছরে ১০ হাজার হেক্টর ভূমি বিলীন হয়ে যেতো। যে কারণে বিগত তিন দশকে গঙ্গা, যমুনা ও পদ্মার ভাঙনে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর ভূমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

দেশের নদী এলাকার পাঁচ ভাগ নদী ভাঙনের ঝুঁকির সম্মুখীন রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার নদী তীর ভাঙনের ঝুঁকির মুখে থাকে। কমবেশি ১০০টি উপজেলা বন্যা ও নদী ভাঙনের শিকার হয়। নদীভেদে প্রতি বছর ৬০ মিটার থেকে ১৬০০ মিটার পর্যন্ত নদীর তীর স্থানান্তরিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘নদী ভাঙন বাংলাদেশের বড় সমস্যা। নদী ভাঙনরোধকল্পে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে ৩১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা, গঙ্গা, যমুনা নদীর ভাঙনরোধ করার জন্য স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে ৮২৮ দশমিক ৬৫ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ফ্লাড এ্যান্ড রিভারব্যাংক ইরেসন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম ট্রেস-১ শীর্ষক একটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে।’

প্রকল্পটি ৩টি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়নকাল ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর। প্রথম পর্যায়ে এডিবির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার আলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবায়নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ পর্যায়ে ২৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণসহ ১৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’

তাজুল ইসলামের এক প্রশ্নের উত্তরে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, সারা দেশব্যাপী বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও নদী/খাল পুনঃখননের লক্ষ্যে ১৪০৫ দশমিক ৬৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় সম্বলিত Rehabilition of Embankments and Re-excavation of Rivers/khals শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ৩ হাজার কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন এবং ৫,৮৫০ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত বা পুনরাকৃতিকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে দেশব্যাপী নদী ও খাল খননের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।

তিনি জানান, এ ছাড়া দেশের বড় বড় নদ-নদী খননের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে ২৭ দশমিক ৩৮ কোটি ব্যয় সম্বলিত Capital Dredging and Sustainable River Manaagment in Bangladesh শীর্ষক সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিবেদন গৃহীত হলে সুপারিশের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উক্ত প্রতিবেদনে ২৪টি নদ-নদী খননের সুপারিশ করা হয়েছে।

সবুজপাতা প্রতিবেদক

scroll to top