বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি : পাহাড়ধসের অতিঝুঁকিতে শত শত পরিবার

Print Friendly, PDF & Email

বান্দরবান, ২১ আগস্টঃ বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বান্দরবানে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে জেলা শহর এবং লামা উপজেলার নিচু এলাকার বানের পানি কমছে।
বন্যাআশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে কয়েক শ’ পরিবার এখনও অবস্থান করছেন।
বানের পানি কমলেও বিপুল পলিমাটি জমে যাওয়ায় ব্যাপক কাদায় একাকার হয়ে পড়েছে বসতঘর ও রাস্তাঘাটগুলো।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন থাকায় এবং পর পর চারদফা পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানির স্রোতে জেলা শহরের রাস্তাগুলো ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বেড়েছে জনদুর্ভোগ।
কৃষকরা তাদের জমিতে পুনরায় আমন বীজতলা সৃষ্টি করলেও সেগুলো চতুর্থ দফার বন্যায় ডুবে বিনষ্ট হয়েছে। বানের পানিতে আবারও তলিয়ে যাওয়ায় নলকূপ, রিংওয়েল এবং পাইপ লাইনগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট।
জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী জানান, জেলা প্রশাসন বন্যাদুর্গতদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ মজুদ রেখেছে এবং ইতিমধ্যেই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত বন্যার্ত পরিবারগুলোর মাঝে চালসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েেেছ।
জেলা মৃত্তিকা বিভাজন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে চলতি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক আকারে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। ইতিমধ্যেই বেশকিছু পাহাড় ধসের ঘটনায় লামায় ৬জন এবং জেলা শহরে একজন নিহত হয়েছে।
তিনি বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ও পাহাড়ঘেঁষে গড়ে উঠা বসতিগুলো থেকে মানুষজনকে দ্রুত সরানো দরকার।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এবং জেলা প্রশাসন থেকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও জেলা শহর ও উপজেলা সদরগুলোতে পাহাড়ধসের অতিঝুঁকিতে বসবাসরত শত শত পরিবার নিরাপদ স্থানে সরে যায়নি। জেলা শহরের অদুরে পুলপাড়া এলাকায় বেইলি সেতু বানের পানিতে ডুবে থাকায় বান্দরবান-রাংগামাটি সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন। জেলা সদরের সাথে রুমা, থানছি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার সড়কপথের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন ২দিন ধরে।

সবুজপাতা প্রতিবেদক

Comments