বাড়ছে পানি , বিচ্ছিন্ন বান্দরবান

সবুজপাতা ডেস্ক, ২৭ জুলাইঃ গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বান্দরবানের জনজীবন । পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রধান সড়ক প্লাবিত হয়ে তৃতীয় দিনের মতো বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও জেলার বালাঘাটা, কালাঘাট, পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল, স্বর্ণ মন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস অব্যাহত রয়েছে।
রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় পাহাড় ধসে সড়কে মাটি পড়ায় বান্দরবান সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। টানা বর্ষণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান শহরের বাসস্ট্যান্ড, ব্রিগেড এলাকা, উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়া, নোয়াপাড়া, মেম্বরপাড়া, বনানী ‘স’ মিল এলাকা, আল ফারুক স্কুল, আর্মিপাড়া, ওয়াবদা ব্রিজ, শেরেবাংলা নগর, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ইসলামপুর, কাসেমপাড়া, অফিসার্স ক্লাব এলাকা, ক্যাচিং পাড়াসহ কয়েকটি এলাকার প্রায় কয়েক হাজার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ নৌকা দিয়ে চলাচল করছে। প্লাবিত এলাকার মানুষ বিভিন্ন বিদ্যালয় ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
লামা উপজেলা শহর, থানা এলাকা, বাজার এলাকাসহ নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তবে পানিবন্দি লোকজনকে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।
গত চার দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বান্দরবানে বন্যায় আরও বাড়িঘর পানির নিছে তলিয়ে যাবে এবং পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসন ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে সেনা ও বিজিবির পক্ষ থেকে ত্রাণ ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। পৌরসভার পক্ষ থেকেও বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে।
সবুজপাতা প্রতিবেদক

scroll to top