ফেরিঘাটসহ আধা কিমি এলাকা বিলীন

Print Friendly

চাঁদপুর,২৮ জুন: মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট ও আশপাশের প্রায় অর্ধ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত এলাকার ৬টি বাড়ি, ১৫/১৬টি বাগানের অসংখ্য গাছপালা এবং বেশকিছু দোকানপাট মেঘনা নদীতে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।

হরিণা গ্রামের অর্ধ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেঘনার ভাঙনে তলিয়ে যাওয়া বাড়িগুলো হচ্ছে- বেপারী বাড়ি, গাজী বাড়ি, সরকার বাড়ি, শেখ বাড়ি, ঢালী বাড়ি ও ছৈয়াল বাড়ি। এতে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে হবে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন।

পক্ষকালব্যাপী এ ভাঙন শুরু হলেও সপ্তাহখানেক ধরে তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বর্তমানে নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ২ দিন যাবত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং সার্ভে ছাড়া ভাঙন ঠেকানোর জন্য আর কোনো কার্যকর ব্যবস্থাই নেয়নি। ফলে এসব এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে এবং তা দিন দিনই মারাত্মক আকার ধারণ করছে।

এদিকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে হরিণা ফেরিঘাটের আশপাশে এবং হরিণা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে কমপক্ষে ১০/১২টি বিশাল বিশাল ফাটল এবং বড় বড় গর্ত দেখা দেয়। এতে এলাকার লোকজন আবারও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে এ এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙনের কারণে হরিণা ফেরিঘাট এলাকার ৫০/৬০টি দোকান, ১০/১২টি মাছের আড়ৎ, ২টি ইট-বালুর খোলা, হরিণা ফেরিঘাট দোতলা জামে মসজিদ, হরিণা ফেরিঘাট দারুল কোরআন ইসলামিয়া মাদরাসা এবং বিআইডব্লিউটিএর বাসস্ট্যান্ড ও বিশাল মাঠ, হরিণা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিশাল এলাকা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

এছাড়া হরিণা ফেরিঘাট মেঘনার ভাঙনে তলিয়ে গেলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর স্বাভাবিক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বর্তমানে মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোত অব্যাহত থাকায় এবং নদী ভাঙনের কারণে এ ফেরিঘাট দিয়ে চলাচলকারী শত শত বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ও যোগাযোগ দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

ভয়াবহ ভাঙনরোধে স্থানীয় পাউবো ১৫ দিনেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করার প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী কয়েকশ লোক ইতিমধ্যে মেঘনা পাড়ের ভাঙনস্থল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় দাঁড়িয়ে থেকে মানববন্ধন করেছেন।

চাঁদপুরের বিভিন্ন ভাঙন কবলিত এলাকা স্থায়ীভাবে রক্ষার দাবি স্থানীয়দের। তারা এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি ডা. দীপু মনির দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং অবিলম্বে ভয়াবহ নদী ভাঙনের হাত থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পানি সম্পদমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান।

সবুজপাতা ডেস্ক

Comments