বাঁধে ধস, হুমকিতে ঘাট-বাজার

Print Friendly, PDF & Email

বরগুনা,২৩ জুন: টানা বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে বরগুনার উপকূলের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ধসে যাচ্ছে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের সিসিব্লক। বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও পুরাতন বাজার। ইতোমধ্যে ১৫০ মিটার সিসি ব্লক ধসে পড়েছে।

তিনদিন ধরে এক টানা ভারী বর্ষণ ও নিন্মচাপের প্রভাবে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বরগুনা সদর, তালতলী, আমতলীসহ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় তিন শ’ মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, গত তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও লঘুচাপের প্রভাবে পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৮০০ মিটার বাঁধ ও কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে আমতলী পৌরসভা, বৈঠাকাটা, বালিয়াতলী, পশরবুনিয়া, পশ্চিম ঘটখালী, আঙ্গুলকাটা, গুলিশাখালী, জয়ালভাঙ্গা, ছোটবগী বাজার, মৌপাড়া, গাবতলী, তেতুলবাড়ীয়াসহ ২৫ গ্রাম। এছাড়া সোমবার পায়রা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে চর ও নিম্নাঞ্চল ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চ পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বরগুনা পাউবোর অফিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার পানির উচ্চতা ছিল ২ দশমিক ২২ মিটার যা বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়নি।

খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার থেকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে এবং সাগর ও তৎসংলগ্ন নদী সমুহ স্বাভাবিক জোয়ারে চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।

পাউবোর আমতলী অফিসের সহকারী প্রকৌশলী নুরমোহম্মদ রিপন জানান, পৌর শহর রক্ষা বাঁধের সিসিব্লকের জন্য পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ডিজাইন পাঠানো হয়েছে।

ওই ডিজাইন বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শকরা গ্রহণ না করায় কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম জানান, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শেকদের আপত্তির কারনে কাজ শুরু হচ্ছে না।

সবুজপাতা ডেস্ক

Comments