তিস্তার পানি কমছে, বাড়ছে ভাঙন

Print Friendly, PDF & Email

লালমনিরহাট, ১৭ জুন: ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফুঁসে উঠা তিস্তার পানি কমে গেলেও বেড়েছে ভাঙনের প্রকোপ। ২৪ ঘণ্টায় অর্ধশত বাড়ি ও একশ মিটার বালুর বাঁধ তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০০ সে.মি.। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ সে.মি. নিচে। তবে বানভাসিরা রয়েছেন চরম খাদ্য সঙ্কটে।

দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পুর্বাভাস সর্তকীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। শনিবার দিবাগত গভীর রাত থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমা ২০ সে. মি. অতিক্রম করে পানি প্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ৬০ সে. মি.। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে পানি প্রবাহ শুরু করেছে।

এ দিকে তিস্তায় পানি কমে যাওয়ায় লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের কুটিরপাড় বালুর বাঁধ, চন্ডিমারী এলাকায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪৫টি বাড়ি ও এক শত মিটার দীর্ঘ বালুর বাঁধ তিস্তার গর্ভে বিলিন হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশের বহুল আলোচিত দহগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ১৬টি বাড়ি তিস্তায় বিলীন হয়েছে।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, তিস্তার ভাঙনে প্রতিনিয়ত ছোট হচ্ছে দহাগ্রাম-আঙ্গোরপোতার মানচিত্র।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বাংলামেইলকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তার ইউনিয়নে ৪৫টি বাড়ি ও কুটিরপাড় বালুর বাঁধের প্রায় এক শত মিটার তিস্তায় বিলিন হয়েছে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তত করে উপজেলা পরিষদের পাঠানো হয়েছে।

তারা আরও জানান, বানের পানিতে চর এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি মানুষের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বিশেষ করে গবাদিপশু নিয়ে বানভাসিরা পড়েছেন বেশি বিপাকে। কলার ভেলা-ই এখন বানভাসিদের একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বানভাসিরা পড়েছেন চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে। অনেকের হাঁড়িতে চাল-আটা থাকলেও শুকনো জায়গার অভাবে উপস থাকতে হচ্ছে তাদের।

গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য বলেন।

ভাঙন ও বালুর বাঁধ বিলিনের সত্যতা নিশ্চিত করে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহুরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, ‘তিস্তার পানি কমে গিয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

সবুজপাতা প্রতিবেদক

Comments