বর্ষণে ভাঙছে বাঁধ-সড়ক, বিপর্যস্ত জনজীবন

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক, ১৪ জুনঃ কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। স্রোতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় ভেঙে যাচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।

পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। অনেকস্থানে উঁচু সড়কের উপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে স্রোত এতে ভেঙে যাচ্ছে সড়ক। ভেঙে পড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। এতে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে কৃষককে। তাই ভেঙে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দ্রুত পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এসব এলাকার পানিবন্দী বাসিন্দারা। অন্যথায় বন্যার পানিতে জীবনযাত্রা যেমন বিপর্যস্ত হবে তেমনি ফসলের ব্যপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

মঙ্গলবার থেকে টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাট-রংপুর-মহাসড়কের স্বপ্নের তিস্তা সেতুর কাছে সদর উপজেলার তিস্তা এলাকায় সড়কে ব্যাপক ধ্বস নেমেছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

এদিকে অবিরাম বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলো বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার অন্তত ৮০ হাজার মানুষ।b9c86018cea1911afaf6b1fe6c7256f5-4

কুড়িগ্রামের ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তাসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এতে নদ-নদী অববাহিকার নিন্মাঞ্চলের অন্তত ৩০টি গ্রামের ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভেসে গেছে ২ শতাধিক পুকুর ও মৎস্যচাষ প্রকল্পের মাছ। তলিয়ে গেছে ১শ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেতসহ আমন বীজতলা।

গত দুইদিন উজানে ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসে ঢল। এতে শেরপুরের সোমেশ্বরি নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও মহারশি নদীতে পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে রামেরকুড়া, দিঘীর পাড় পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া এবং বনগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে আশপাশের ৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য পুকুর, সবজি ক্ষেত ও কৃষকদের বীজতলা।

বগুড়ার সারিয়কান্দিতে যমুনা নদীর তীর নির্মাণাধীন সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত বাঁধটি ৬০ মিটার ধ্বসে যাওয়ায় লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তবে এতে করে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। এদিকে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার নিন্মাঞ্চল। পানিবন্দী হয়ে পরেছেন সদর উপজেলার নতুন বাজারের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার রাতে পানিতে তলিয়ে গেছে বাজারটি। ফলে ব্যবসায়ীরা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের মালামাল।Bogra-Jomuna

তিস্তা ও যমুনা নদীতে ব্যাপক পানি বৃদ্ধির কারণে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চলসহ চরাঞ্চলের ৫ হাজারেরও বেশি বাড়িঘরে পানি উঠেছে। তিস্তার পানির স্রোতে সুন্দরগঞ্জে একটি ব্রিজ ধ্বসে গেছে এবং অপরটিতে ফাটল ও মাটি সরে যাচ্ছে। এতে ওই দু’টি ব্রিজও ধ্বসে পড়ার শঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদ সীমার ১৫ সে.মি এবং ঘাঘট নদীর পানি ১ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

11202650_827372750679921_2268079641655864682_n-07-newsnextbd-320x160শনিবার ভোর থেকে অবিরাম ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজার রেলক্রসিংয়ের কাছে মাকরজানি খালের পানি বেড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস আটকা পড়ে এক ট্রেন ঘণ্টা বন্ধ ছিল। অতিমাত্রার বৃষ্টিতে পুরো শহর প্লাবিত হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আজ (শনিবার) অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে কৃর্তপক্ষ। প্রবল বর্ষণের ফলে শহরের সাহেব কোয়ার্টার এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

Comments