বাঁধে ভাঙন, ১৩ গ্রামে আতঙ্ক

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক, ২৯ এপ্রিলঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার হীরামতী গ্রামে ধলাই নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের বেশির ভাগ অংশ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া বাঁধের কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে ১৩টি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধবপুর ইউনিয়নের আদিবাসী মণিপুরি অধ্যুষিত হীরামতী গ্রামে নির্মিত ধলাই নদীর বাঁধের বেশির ভাগ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া এ বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া ব্লকও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

এতে হীরামতী, মাধবপুর চা-বাগান, মাধবপুর বাজার, গকুল সিংহের গ্রাম, ছয়ছিড়ি, বাঘবাড়ী, পাঞ্জিবাড়ী, জপলারপাড়, পশ্চিম বাঘবাড়ী, গোবিন্দবাড়ী, শুকুরউলাগাঁও, শিমুলতলা, ধলাইপাড় এলাকার মানুষ চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। এবার উজানী ঢল নামলেই হীরামতীসহ ১৩টি গ্রামের আর রক্ষা নেই। সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের লোকজন বিভিন্ন সময় ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত তাঁরা কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেননি।

এদিকে ২০০৪ সালের বন্যা ও ভাঙনে হীরামতী গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের রাজকুমার সিংহ, তমাল সিংহ, সুশীল সিংহ, মদন সিংহ, লোকেন্দ্র সিংহ, রিনা সিনহা, চুড়ামণি সিংহ, পুতুল সিংহ, কুঞ্জ সিংহ, গৌরমনী সিংহ, মৃত লক্ষ্মী নারায়ণ সিংহ, ইমানু দেবীসহ ১৩/১৪টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার কুঞ্জ সিংহ, পূর্ণচাঁদ সিংহ, আবির সিংহ ও মনোরঞ্জন সিংহ বলেন, ‘আমরা পঞ্চমবারের মতো নদীভাঙনের আতঙ্কের প্রহর গুনছি।’

ব্যাংকার হরিমোহন ও নীলমণি সিংহ জানান, একসময়ের তিন কিলোমিটারের হিরামতি গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হতে হতে আজ দেড় কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। নদীভাঙনে নিঃস্ব কয়েকটি পরিবার আজ গ্রাম ছেড়ে চা-বাগানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক পরিবার গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায় ঝুপড়ি বানিয়ে জীবনযাপন করছে।

বাংলাদেশ মণিপুরি সমাজকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার সিংহ ও বাংলাদেশ মণিপুরি যুবকল্যাণ সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ কুমার সিংহ সরকারের কাছে অবিলম্বে হীরামতী গ্রামে নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জোর দাবি জানান।

ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙন ও ফাটলের কথা স্বীকার করে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে পাউবো মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুর গত বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই। তবে বেশি সমস্যা হলে সরেজমিন তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments