কালবৈশাখীতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাড়ানোর নিরন্তর চেষ্টা

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক, ০৯ এপ্রিল: ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার কয়েকটি উপজেলা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও অস্বাভাবিক শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকসহ সাধারন মানুষ গুলো ঘুরে দাঁড়ানোর নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তবে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে উঠতে অনেকটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কিংকর চন্দ্র দাস বলেন, ‘গত দুইদিনের কালবৈশাখী ঝড় ও অস্বাভাবিক শিলাবৃষ্টিতে জেলায় ১ হাজার ৮৫ হেক্টর বোরো ধান, ১০৪ হেক্টর মরিচ, ৪০৫ হেক্টর পাট, ১৮৫ হেক্টর তিল, ৬০ হেক্টর পান, ২০৩ হেক্টর বেগুন, ২ হাজার ২২৭ হেক্টর ভুট্টা, ৪৭৭ হেক্টর কলা ও ৬৪ হেক্টর অন্যন্য সবজিসহ প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।’

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও দেড়ীপাড়া এলাকার চিকিৎসক আইয়ুব আলী তান্ডবের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, সোমবার রাত তখন ৩টা। হঠাৎ কয়েকবার মেঘ গর্জন করে হালকা বৃষ্টি নামে। এরপর বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে পাথরের মতো ঘরের টিনের চালে আছড়ে পড়তে থাকে শিলাবৃষ্টি। মুহূর্তেই ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে শিলা ঘরের ভিতর পড়তে থাকে। এক একটি শিলার ওজন আধা এক কেজিরও বেশি।

আধা ঘণ্টার শিলাবৃষ্টিতে এক ফুটেরও বেশি আস্তরণ পড়ে যায় গোটা এলাকায়। এদিকে সকালে ঘুম থেকে জেগে এলাকার লোকজন দেখেন গোটা এলাকা বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। মাঠের পর মাঠ সবজি ক্ষেতসহ ফসলি জমির উঠতি ফসল নুইয়ে পড়েছে। যে ক্ষতি হয়েছে তাতে মানুষের ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।

একই উপজেলার বিত্তিপাড়া, উজানগ্রাম ঈদগাহপাড়া শ্রমজীবী মহল্লার জয়নাল মণ্ডল, মোয়াজ্জেম মণ্ডল, ইছা হক, ওমর আলী, জামিরুল ইসলাম ও সলেমান এদের সঙ্গে কথা হলে তারা  বলেন, একমাত্র থাকার ঘরে শিলাবৃষ্টির কারণে টিন ফুটো হয়ে যাওয়ায় তারা অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছে। হাতে টাকা পয়সা নেই যে আবার নতুন টিন এনে ঘরবাড়ি মেরামত করবে। এখন যদি বৃষ্টি নামে তাহলে তারা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এমন প্রশ্নই কেবল তাদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের কলাচাষী খন্দকার লুৎফর রহমান বলেন, ‘তার প্রায় ৬বিঘা জমিতে ১৮০০ কলাগাছ ছিল। প্রতিটি কলা গাছে কলার কাঁদি ছিল। কালবৈশাখী ঝড়ে এরমধ্যে প্রায় আটশত কলার গাছ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।’ এতে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে জানান তিনি।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ জাহান লেনিন  বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের মাধ্যে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং আমার উপজেলার জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। বুধবার থেকে তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।’

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু শোয়েব খান বলেন, ‘সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামের ওপর দিয়ে ভারী শিলা ঝড় হয়েছে। বিশেষ করে মাঠের ফসলের কিছু অবশিষ্ট নেই। ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা এখন পর্যন্ত নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।’

কুমারখালী উপজেলার কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ জানান, শিলায় ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। বিশেষ করে টিনের চালার ঘর যাদের তাদের বেশি ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ তারা যেন আবার উঠে দাঁড়াতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তাৎক্ষণিক ২০ কেজি করে চাউল ও ফসলের ক্ষতি ও ব্যক্তিদের সঠিক তালিকা তৈরির পর তাদের কৃষিঋণ মওকুফের সুপারিশ করার পাশাপাশি তাদের যথাসাধ্য সরকারি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments