সবুজে হোক গৃহসজ্জা

ঢাকা,২৫ অক্টোবরঃ স্বেচ্ছায় কিংবা প্রয়োজনের তাগিদে, যে কারণেই হোক না কেন আজ আমরা নগরে বাস করছি। নগরের যান্ত্রিকতায় আমরা এতটাই ক্লান্ত যে নিজের অস্তিত্বকে পরীক্ষা করতে কিংবা নতুন করে কর্মস্পৃহা খুঁজে পেতে আমাদের অনেক সময়ই নগরের কোলাহল ছেড়ে কিছু সময়ের জন্য দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে হয় সাময়িক প্রশান্তি পেতে।

একটু প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিতে যখন এত হাহাকার তখন কি আমরা একটু অন্যভাবে ভাবতে পারি না?আমাদের প্রত্যাশা তো খুব বেশী নয়।কেবল একটু আঁশ ভরে শ্বাস নেয়া! আর তার জন্যে কেন এত আয়োজন করতে হবে আমাদের?কেন আমাদের চিকিৎসকেরা আমাদের বায়ু পরিবর্তনের পরামর্শ দিবেন সুস্থতার জন্য? আমার আপন নিবাসেই কেন আমি সব চেয়ে বেশী প্রশান্তি পাব না, খুঁজতে হবে ভিন্ন কোন আশ্রয়?এসব আজ আমাদের শহরবাসীর কাছে ক্ষোভ কিংবা অভিযোগ নয়,রীতিমত হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে আমরাই দায়ী আজকের এই দুরবস্থার জন্যে। আর এখনই উপযুক্ত সময় এই বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসার।আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত যেভাবে বৃক্ষনিধন চলছে, এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির সুম্মুখীন হবে।তাই এখনই সচেতন হওয়ার উপযুক্ত সময়।

আসুন জেনে নিই সবুজের সমারোহে ঘর সাজানোর কিছু উপায়ঃ

১. ঘরের প্রবেশ পথে ক্যাকটাস বা রোদ ছাড়া টবে বাঁচতে পারে এমন কিছু গাছ লাগানো যায়।এতে নতুন অতিথি বাড়ীতে আসা মাত্রই আপনার সুরুচির পরিচয় পাবেন।
২. বেডরুমে বিছানার পাশে সামান্য ফাঁকা জায়গা থাকলেও সেই জায়গাটা কাজে লাগাতে পারেন।সেখানে এমন কোন গাছ লাগাতে পারেন, যা কিনা একই সাথে আপনার ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার বিশেষ কোন কাজেও লাগবে।যেমন- তুলসীর মত ছোট্ট গাছটিই লাগিয়ে দেখুন না কী চমৎকার কাজে আসবে তার চাক্ষুস প্রমাণ পেয়ে যাবেন।কারণ ঘরে তুলসী গাছ থাকলে মশার আনাগোনা রীতিমত কমে যায়।আবার কখনো কখনো থাকেও না। অন্যদিকে ঠাণ্ডা- কাশিতে তুলসীর রস বেশ উপকারী। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আপনি কীভাবে একাধিকভাবে উপকার পেতে যাচ্ছেন।
৩.গৃহের সৌন্দর্যের মূল ব্যাপারটি যেন বসার ঘরকে কেন্দ্র করে।আমরা এই বসার ঘরটিতে কত রকমের দেশী-বিদেশী শো-পিস দিয়েই তো সাজাই। কিন্তু পর্রিতিকগত দিক বা প্রাকৃতিক দিক চিন্তা করে যদি একবার ফুল-লতা-পাতা অর্থাৎ সবুজ গাছ-পাতা দিয়ে সাজাতে পারি তাহলে একই সাথে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশ বান্ধব উভয় ব্যাপারের সমন্বয় ঘটবে।আর বসার ঘরে মানিপ্ল্যান্ট বা ছোট আকৃতির গাছ থাকলে দেখতেও বেশ ভাল লাগবে।
৪. আপনার বাসার খাবার ঘরটিতে যদি ছোট একটা টবে লেটুস বা ধনে পাতার মত গাছ রোপণ করতে পারেন তাহলে এর সুগন্ধে খাবার সময় আপনার ভালো লাগাটা বাড়বে বৈকি কমবে না! এছাড়া অন্য কোন গাছের ব্যবহারও বাড়িয়ে দিতে পারে আপনার ডাইনিং রুমের জেনও।
৫. আপনার রান্না ঘরে যদি কিঞ্চিত জায়গা থাকে তাহলে সেখানেই একটা মরিচ গাছ লাগিয়ে দিন না? নিজের হাতে লাগানো গাছের দুটি মরিচ সালাদ করে খেয়ে দেখুন কী অমায়িক তৃপ্তি পাচ্ছেন!সুতরাং এই স্বাদ নিতে ভুল করবেন না যেন।
৬. আধুনিক এপার্টমেন্ট গুলোতে বসবাসকারী মানুষের উঠোনের চাহিদা মেটাতে ভরসা করতে হয় ছোট্ট বারান্দার মাধ্যমে। এ যেন দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আরকি! তবু শেষ ভরসা এই বারান্দা।এখানকার ছোট পরিসরটুকু কাজে লাগিয়ে আপনি পেতে পারেন খানিক প্রশান্তি। পছন্দ মত গাছ কিনে এনে গাছে গাছে ভরে তুলুন আপনার এই অবসরে একটু প্রশান্তির আশ্রয়স্থল্টুকু। যেন ভোরে ঘুম ভেঙ্গে এখানে এসেই সারাদিনের জন্য অন্তত কিছুটা হলেও নিজেকে প্রস্তুত করে পারেন।
৭. আর যদি আপনার নিজের একটা বাড়ি থেকে থাকে তাহলে তো সোনায় সোহাগা। বোনাস হিসেবে পেতে পারেন একটা বিশাল ছাদ। যেখানে চাইলেই আপনি আপনার পছন্দের ফল-ফুল কিংবা ঔষধি গাছও লাগাতে পারেন।

সতর্কতাঃ
গৃহসজ্জায় গাছ লাগাতে হলে একটু বাড়তি সতর্কতারও প্রয়োজন আছে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আপনার টবের গোঁড়ায় পানি না জমে। এছাড়া গাছগুলো যদি ছায়ায় রাখা হয় তাহলে সময় কয়রে মাঝে মাঝে আপনার সুবিধা মত সময়ে গাছকে কিছু সময়ের জন্য রোদে দিতে পারেন।এতে আপনার গাছগুলো আরো বেশী ভাল থাকবে।

indoor-gardening-tips2

উপকারীতাঃ
প্রতিদিনের অবসররে আপনার বাড়ীর গাছগুলোকে একটু চর্চা করে দেখুন আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের কতটা উন্নতি হয়। দিনের শুরুতে এই সামান্য আয়োজন আপনার দিনটাকে ইতিবাচকতায় ভরিয়ে তুলতে পারে।আপনার ভাল থাকাকে অনেক খানি বাড়িয়ে দিতে পারে।কারণ যারা গাছ ভালোবাসে তারা সচরাচর কোন খারাপ কাজ করতে পারে না। আর ভাল কাজ এমনিতেই আপনাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখবে।সুতরাং নগর জীবনের এই যান্ত্রিকতা থেকে ক্ষণিক প্রশান্তির উৎস পেতে আর দেরী করবেন না। এখনি গাছ লাগান।আর আর এর নানাবিধ উপকারিতা গ্রহণ করুন।

ফারিয়া মৌ

শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)

scroll to top