মানবসম্পদ ও প্রকৃতি বিনাশের প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন

Print Friendly, PDF & Email

1510403_10201271875869952_1747846899_n

বৃক্ষ নিধনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যারা বৃক্ষ নিধন করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেয় বাপা ও সবুজপাতাসহ ১৮ টি সংগঠন।

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বাপা)-এর সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক বলেন, “রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার জন্য আজ নির্বাচন ব্যর্থ হচ্ছে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে। এই সহিংসতার শিকার হচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ও পরিবেশ। ”

তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেছেন এটি প্রহসনের নিবার্চন। এই নির্বাচনে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, নেই কোনো সুর্নিদিষ্ট নির্দেশনা।”

মানববন্ধনে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “যদি মানুষ হত্যা অপরাধ হয়, তাহলে মানুষের জীবন রক্ষাকারী বৃক্ষ নিধনও একই অপরাধ। মানুষ হত্যা করলে যদি কান্না আসে গাছ কাটলেও কান্না করা উচিত।”

তিনি বলেন, “রাজনীতির নামে পরিবেশ রক্ষাকারি লক্ষ লক্ষ গাছ কাটা হচ্ছে। এটা মানবতাবিরোধী অপরাধের চেয়ে কম না। রাজনীতির নামে যারা পরিবেশ ধ্বংস করছে তারাই আবার মুখে বলছে মানুষকে বাঁচানো ও মানবতা রক্ষার জন্য এ গাছ কাটা হচ্ছে।”

বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট’র সভাপতি স্থপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, “প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের রাজনীতির প্রতি হিংসার শিকার হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ ধ্বংস হোক এটা কারো কাম্য নয়। বৃক্ষ নিধনকারিদের অভিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে।”

1488051_10151984315339597_100357483_n (1)

বাপার যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হাবিব বলেন, “রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। কিন্তু শেষ বলে কিছু থাকতে হবে। পরিবেশ আজ রাজনীতির বলি হচ্ছে। রাজনীতির নামে যেভাবে মানুষ ও প্রকৃতি হত্যা হচ্ছে তা জনগণ মেনে নেবে না। ”

এসময় তিনি সহিংসতা বন্ধ করে পরিবেশ ও মানুষকে রক্ষার আহ্বান জানান।

সিটিজেন রাইটস্ মুভমেন্ট মহাসচিব তুষার আহমেদ বলেন, “হেফাজত ইসলামের আন্দোলন থেকে বৃক্ষ নিধনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। হেফাজত ইসলাম ও কয়েকটি ইসলামী সংগঠন ধর্মের নামে গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংস করেছে।”

তিনি বলেন, “মন্ত্রী-এমপিরা নিবার্চনী হলফনামায় মৎস্যকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন। মাছ চাষের আড়ালে এসব ক্ষমতাসীনরা পরিবেশ ধ্বংস করে বিপুল পরিমাণ খাল, বিল, জলাশয় ও নদী দখল করেছে। পরিবেশ ধ্বংস করায় তাদের বিরুদ্ধে মানতাবিরোধী অপরাধে মামলা হওয়া প্রয়োজন।”

বাংলাদেশ স্থপিত ইন্সটিটিউট এর সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাপার যুগ্ম মহাসচিব শরীফ জামিল, গ্রীন ভয়েস’র সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ডক্টরস ফর হেলথ্ অ্যান্ড এনভায়রমেন্ট’র অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এবং সবুজপাতার সমন্ময়ক সাহেদ আলম।

1476314_10151984315254597_856215479_n

Comments