রামপাল: প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস আর যুক্তির বিরোধিতায় তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক,সবুজ পাতা।
বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ব্যাপারে তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত না করার জন্য আন্দোলনকারীদের অনুরোধ জানান। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। তবে, তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে যুক্তি দিয়েছেন তা তথ্যভিত্তিক নয়। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি জাতীয় পার্টির একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এই বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বিশ্বের বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছবি সংসদে তুলে ধরে বলেন, এসব দেশে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি, বাংলাদেশেও হবে না। আগামীতে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গতবার সরকারে থাকার সময় আমরা দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় ৫০০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের ফলে ওই এলাকার পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং গাছপালা, ধানক্ষেত, জলাধারসহ সবকিছুই ঠিক আছে।’
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করছেন তাদের প্রতি অনুরোধ করব, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সারা বিশ্বে যেসবস্থানে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, সেখানের পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে কিনা একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখুন। কোথাও পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলতে পারি, এ বিদ্যুৎকেন্দ্রও পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না।’
জবাবে, আজ দেয়া বিবৃতিতে শেখ শহীদুল্লাহ বলেন, ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রী একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন এবং যথারীতি পরবর্তীতে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন ও জনসভায় যুক্তি দিয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছে। প্রধানমন্ত্রী যুক্তি দিয়েছেন বহুদিন ধরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু আছে কিন্তু সেখানে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বড়পুকুরিয়ায় ২০ বছর ধরে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে তা গড়ে ৮০ মেগাওয়াটের বেশি নয়। ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষতি আর প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৩২০ মেগাওয়াটের ক্ষতি অবশ্যই এক স্কেলের হতে পারে না।
অতএব বড়পুকুরিয়ায় যে সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তা দিয়ে বিরাট আকারের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতি তুলনা করে সুন্দরবনের মতো পরিবেশ স্পর্শকাতর স্থানে আনুপাতিক যু্ক্তি গ্রহণযোগ্য নয়, বলেন প্রকৌশলী শহীদুল্লাহ।

শেখ হাসিনা বার বার দাবী করে আসছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশ ধ্বংস হবে বলে যারা দাবি করছেন, তারা ভুল দাবি করছেন। দেশের পরিবেশ ক্ষতি হয়— এমন কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার কখনো গ্রহণ করেনি, আগামীতেও করবে না।যদিও তার এ আশ্বাস সত্বেও রামপাল প্রশ্নে নতুন আন্দোলনের ছক কাটছে পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি আর গোষ্টীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক,সবুজ পাতা।

Comments