রামপাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের রিট শুনানিতে বিব্রত বিচারপতি: সিদ্ধান্ত এখন প্রধান বিচারপতির হাতে

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা: বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি বিব্রতবোধ করেন এ শুনানীতে।

686f48428bcc4020b24eacc9f0c70c6c20130915

গত রোববার চার আইনজীবী রিট আবেদনটি করেন। পরদিন একই বেঞ্চে রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি হয়। শুনানির একপর্যায়ে আদালত এ বিষয়ে এর আগে দায়ের করা রিটের আদেশ দেখতে চান। ওই দিন তাত্ক্ষণিকভাবে তা দেখাতে না পারায় গতকাল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন ওই বেঞ্চ। গতকাল বুধবার আবেদনটি শুনানির জন্য উঠলে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি বিব্রতবোধ করেন।

রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, এখন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। রিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পরিকল্পনা সচিব, পরিবেশ সচিব, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সচিব, নৌপরিবহন সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জনজীবনে কী প্রভাব ফেলবে, তা মূল্যায়নে দেশী-বিদেশী পরিবেশবিদদের সমন্বয়ে কেন একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয়া হবে না— এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব কোনো জায়গায় এ প্রকল্প স্থাপনের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না— এ মর্মেও রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ প্রকল্পের সব ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রার্থনা করা হয়েছে। রিট আবেদনের সঙ্গে এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও এ-সংক্রান্ত দুটি রায়ও সংযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে আপিল বিভাগের একটি রায়ে বলা হয়েছে, মানুষের জীবন আইনের চেয়েও বড়। আর পরিবেশের ক্ষতি হলে সেটা মানুষের জীবনকেও বিপন্ন করবে। অন্য রায়টি হাইকোর্টের।

এতে বলা হয়েছে, উন্নয়নকাজের পাশাপাশি পরিবেশও রক্ষা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে রিট আবেদনকারীদের একজন, মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘সুন্দরবন বাংলাদেশের গৌরব, বিশ্ব ঐতিহ্যেরও অংশ। এ বন ধ্বংস হয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাবও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। এ জন্যই আমরা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের জন্য আবেদন করেছি। সেই কমিটি রিপোর্ট না দেয়া পর্যন্ত প্রকল্পের কাজে স্থিতাবস্থা চেয়েছি।’

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণকৃত এলাকায় মাটি ভরাট করে প্রাথমিক কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ও ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

 

সুত্র: বনিক বার্তা

Comments