সোলার পা্ওয়ার: দুর্ঘটনা কি বেশি ধ্বংস ডেকে আনে?

Print Friendly, PDF & Email

গত মাসে  নিউ জার্সির ডিলানকো শহরে তিন লাখ বর্গফুটের একটি গুদাম ঘর আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। এ ঘটনার য়তি বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় ফায়ার চিফ ঐ গুদাম ঘরের ছাদে থাকা সৌর প্যানেলকে আংশিকভাবে দায়ি করেছেন। দায়ি করলেও ডেইটজ এবং ওয়াটসন নামের ওই গুদাম ঘরের ছাদে থাকা সৌর প্যানেল এ ধরণের অগ্নিকান্ড ঘটায় নি। কিন্তু ঐ সৌর প্যানেল অগ্নিকান্ড নির্বাপন ব্যবস্থাকে বাধা প্রদান করেছে। ফায়ার চিফ রন হোল্ট এনবিসিকে বলেন, এতগুলো সৌর প্যানেলের কর্মীর জীভনের ঝুকি নিতে পারি নাই। ফায়ার কর্মীরা আগুনের চেয়েও বেশি সোলারকে ভয় পেয়েছে।

সৌর প্যানেল যতক্ষন পর্যন্ত সুর্যালোক পাচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত বন্ধ করা অসম্ভব। সান জোস এর ফায়ার ডিপার্টমেন্টের একজন ইঞ্জিনিয়ার Mathew Paiss বলেন, দিনের বেলায় কোন কর্মী তাদের সংষ্পর্ষে আসলে তাকে আহত অথবা বা তাকে মেরে ফেলার মতো যথেষ্ট কারেন্ট ভোল্ট থাকে। এই গুদামে যখন আগুন লেগেছিল তখন দিনের বেলা। আর যখন সুর্যাস্ত গেল ততোক্ষনে আগুন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গিয়েছিল। মোট ২৯ ঘন্টার মধ্যে এটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

সাধারণত যে বিল্ডিংয়ে আগুন লাগে তার ভেতরে অতি উত্তপ্ত ধোয়া ও গ্যাস উপর নিচে ঘুর্নিপাক থেকে থাকে। এই ধোয়া একজন মানুষ মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। ভবনের ওপর থেকে কেটে ছিদ্র করে ধোয়া ও গ্যাস বের করে দেওয়া সম্ভব। আগুন লাগার পর এ ধরণের পদ্ধতি গ্রহণ করলে অনেক জীবন বাচানো সম্ভব হয়। আবার এই পদ্ধতি গ্রহণ করে ফায়ার কর্মীরা আগুনের অস্তিত্ব কোথায় তা নির্নয় করতে পারে। কারণ ধোয়া বের হয়ে গেলে আগুনের অস্তিত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারে ফায়ার কর্মীরা। এর মাধ্যমে মানুষের জীবন ও সম্পদের য়তির হাত থেকে রা পাওয়া যায়। কিন্তু এই বিল্ডিংয়ের ছাদে সৌর প্যানেল থাকার কারণে তা কাটার মতো কোন জায়গা ছিল না।

অন্যদিকে সৌর প্যানেলসহ ছাদটা কাটা অনেক ঝুকিপূর্ন ও সময় সাপে ব্যাপার ছিল। ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ডিলানকোর ফায়ার চিফ রয়টার্সকে বলেন, ঐ দিন আমার কর্মীরা যদি সহজে ছাদে প্রবেশ করতে পারতো কিন্তু আমেরিকার নথি থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে সৌর প্যানেল দারা বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যাওয়া ফায়ার কর্মীর সংখ্যা খুবই কম কিংবা নাই বললেই চলে। Paiss এর দেওয়া তথ্যা অনুযায়ী তার আমলে এমন কোন মৃত্যুর ঘটনাই ঘটে নাই।

পোর্টল্যান্ড ফায়ার ব্যুরোর কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট অ্যালন ওয়াস ওয়াল্ট বলেন, তার শহরে অতিরিক্ত পরিমান ফটোভোল্টারিক সজ্জিত হওয়া সত্বেও তিনি কখনোই এ ধরণের দুর্ঘটনার কথা শোনেন নাই। এতকিছুর পরও ফায়ার কর্মীদের মধ্যে সোলার প্যানেল সজ্জিত কোন বিল্ডিংয়ে তাদের মধ্যে অগ্নি নির্বাপনের মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে। একজন অগ্নি নির্বাপক বিশেষজ্ঞ রয়টার্সকে বলেন, তিনি ফায়ার কর্মীদের কাছ থেকে শুনেছেন যে সোলার প্যানেল বিশিষ্ট বিল্ডিংয়ে অগ্নি নির্বাপনের সময় তারা প্রতিরক্ষার কৌশল অবলম্বন করে। দেশগুলোর সোলার ইন্ডাস্ট্রিজও এ ব্যাপারে সচেতন।

সোলার ইন্ড্রাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেন জনসন বলেন, আমরা স্বীকার করছি আমাদের ফায়ার ফাইটারদের সোলার প্যানেল সম্পর্কে আরো বেশি প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। তিনি ঐ গুদাম ঘর সম্পর্কে বলেন যে ঐ গুদাম ঘরে অতি সুসজ্জিত সোলার ব্যবস্থা ছিল। যেটা চার বছর কোন রকম ত্রুটি ছাড়াই চলছে। যেখানে হাটা চলার জন্য অনেক ফাকা জায়গা ছিল। যেখানে অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা ভেন্টিলাইজেশনের জন্য ছিদ্র তৈরি করতে পারতো।

জনসন ফায়ার চিফের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করেননি। কিন্তু ফায়ার কর্মীদের মানসিকতা সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। যেটাতে তারা বলেছিল, সোলার প্যানেল সজ্জিত বিল্ডিংকে আগুনের হাত থেকে সুরা করা সম্ভব না। চারতলা বিল্ডিংয়ের মই না যাওয়া কারণে আগুন নেভানো অসম্ভব এবং সোলার প্যানেল থাকলে আগুন নেভানো যায় না এই দুইটা একই ধরণের অজুহাত। এই দুইটা তুলনাযোগ্য বিষয়্।

Paiss বলেন, সৌর প্যানেল সজ্জিত আগুন নেভাতে দুই ধরণের কাজ করা যেতে পারে। তারা ভারি কোন পর্দা দ্বারা প্যানেলটি ঢেকে দিতে পারে এবং ভেতরে ঢুকে ইনভারটার বন্ধ করে দিতে পারে। তবে, তারপরও সতর্ক থাকতে হবে। জনসন বলেছেন, নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে সৌর প্যানেলের সংযোগ চিহ্নিত করা যায়। তা করা অত্যন্ত সহজ হবে। এ সম্পর্কে ফায়ার কর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

Comments