মহেশখালীতে পরিবেশ বান্ধব কয়লা-বিদ্যুৎ প্রকল্প!

  • মহেশখালীতে পরিবেশ বান্ধব কয়লা-বিদ্যুৎ প্রকল্প!
  • মহেশখালীতে পরিবেশ বান্ধব কয়লা-বিদ্যুৎ প্রকল্প!
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ১৩ আগষ্ট: দেশের এ যাবৎকালের সবচে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। মহেশখালীর মাতাবাড়ীতে ১২০০ মেগা্ওয়াট ক্ষমতার কয়লা ভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে ব্যায় ধরা হয়েছে, ৪.৫ বিলিয়ন ডলার,  যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের চেয়ে প্রায় দেড় গুন বেশি অংকের টাকা। তবে প্রাথমিক ভাবে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যায় হবে বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মানে আর বাকি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে কয়লা পরিবহনের জন্য একটি গভীর সুমুদ্রবন্দর নির্মানের পরিকল্পনায়।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘মাতারবারি ২x৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রোজেক্ট’ এই অনুমোদন পায়।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান,  বিদ্যুৎ,  জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে সিপিজিসিবিএল মাতারবাড়ী ও ধলঘাটাই উনিয়নে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।২০১৪ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুনে এ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন । তবে  ২০১৮ সালেই অন্তত এ প্রকল্প থেকে ৬০০ মেগা্ওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রীডে।

Coal

প্রকল্পের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা এই প্রকল্পে ২৯ হাজার কোটি টাকা দেবে। বাকি অর্থের মধ্যে চার হাজার ৯২৪ কোটি টাকা আসবে সরকারের তহবিল থেকে। আর বাস্তবায়নকারী সংস্থা- কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) দুই হাজার ১১৯ কোটি টাকার যোগান দেবে।”

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায় , এ প্রকল্পে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে না ।এতে থাকছে কয়লা খালাসে রবন্দর ও অবকাঠামো নির্মাণ ; যার সুবিধা নেবে এখানকার অন্যান্য কেন্দ্র। বন্দরটি ১০হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা খালাস করতে পারবে । তবে প্রাথমিকভাবে এব্যয় দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র কে বহন করতে হবে ।মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র তার একটি ।এ ছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না হুদিয়ান হংকং কোম্পানি লিমিটেড ও পিডিবি যৌথ ভাবে মহেশখালীতে অন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে।গত এপ্রিলে এবাবদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে পিডিবি ।

রিটের নিষ্পর্তি হয়নি: 

পরিবেশবাদীদের আপত্তির মধ্যেই গত বছর সুন্দরবনের কাছে রামপালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তি স্থাপনের পর মহেশখালীতে এই প্রকল্প অনুমোদন করল সরকার।

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না করতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি রুলও জারি করেছিল হাই কোর্ট। সরকার মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার পর মহেশখালীর তিন বাসিন্দা হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি এবং চারপাশের জীবনের প্রতি ধ্বংসাত্মক বিবেচনায় এবং অত্যন্ত উর্বর জমি ও অধিবাসীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না করতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।গত ১০ ফেব্রুয়ারি একটি রুল জারি করে আদালত, সেই রুলের জবার এখনো নিষ্পর্তি হয়নি।

Sonadia-island

পরিবেশ বান্ধব কয়লা-বিদ্যুৎ প্রকল্প?

কয়লাভিত্তিক হলে্ও প্রকল্পটিকে পরিবেশবান্ধব একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।  বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুতের প্রায় ৭৫ শতাংশই আসে গ্যাস থেকে; কয়লা থেকে আসে ৩ শতাংশেরও কম। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার মোট বিদ্যুতের ৫০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।

প্রকল্পের সার সংক্ষেপে বলা হয়েছে, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ‘আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি’ ব্যবহার করা হবে, যাতে কেন্দ্রের কর্মদক্ষতা হবে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ। বাংলাদেশের বর্তমানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর গড় কর্মদক্ষতা ৩৪ শতাংশের বেশি নয়। “বেশি কমর্দক্ষতার প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কম কয়লার প্রয়োজন হবে এবং কম কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে। ফলে বায়ুদূষণসহ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে একেবারেই কম।”

দেশে মাতারবাড়িতেই প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বাষ্প তৈরি ও শীতলীকরণে সমুদ্রের পানি (সারফেস ওয়াটার) ব্যবহার করা হবে  বলে জানানো হয়েছে কার্যাপত্রে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

Comments