৭০০ কিমি দীর্ঘ উপকূল; বায়ু বিদ্যুতের আধার!

ঢাকা, ৯ জুন:  বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ৭০০ কিমি দীর্ঘ তটরেখা সাগরমুখী হ্ওয়ায় বায়ু শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক বিদ্যুতের যোগান দেয়া সম্ভব বাংলাদেশে। এই মত, ডানিডা বিজনেস-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপদেষ্টা আনেত গালস্কজট এর। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চল আর উপকূলবর্তী  এলাকাগুলি বায়ুশক্তির উন্নয়নে দর্শনীয় স্থান হতে পারে। তবে, “বায়ু শক্তির সম্ভাবনাকে অনুধাবন করার জন্য আরও অনেক গবেষণার প্রয়োজন।” ড্যানিশ এবং সুইডিশ দূতাবাসের উদ্যোগে দ্য ঢাকা ওয়েস্টিনে সম্প্রতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব বক্তব্য উঠে আসে। ২০ টি ড্যানিশ ও একটি সুইডিশ প্রতিষ্ঠান এবং একটি বিনিয়োগ তহবিল  এর সমন্বয়ে তিনদিন ব্যাপী সবুজ উন্নয়নে নর্ডিক বাণিজ্য শীর্ষক একটি মূল্যায়ন পর্ব শেষ হয়েছে সম্প্রতি। প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে এসেছিল, যেমন- শক্তি দক্ষতা, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রকৌশল, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে সবুজের উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ প্রযুক্তির সম্ভাবনাময় বাণিজ্যের সুযোগ ও অংশীদারিত্বের আলোচনা নিয়ে একের পর এক সভায় ব্যস্ত ছিল।আনেত বলেন, বাংলাদেশে সবুজের উন্নয়নে বৈশ্বিক উদ্যোক্তারা ভীষণ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশে অবস্থিত ড্যানিস পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মাশিয়াল কাউন্সিলর আনেত গালস্কজট (Anette Galskjøt)

বাংলাদেশে অবস্থিত ড্যানিস পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মাশিয়াল কাউন্সিলর আনেত গালস্কজট (Anette Galskjøt)

তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, শক্তির বৈসাদৃশ্য এর ঘনত্বের বিচ্ছিন্নতার কারণ, যা নাকি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধা।তিনি বাংলাদেশে নতুন নতুন বিকল্প শক্তির যেমন, পারমাণবিক শক্তি, কয়লা, বায়ু, সৌর এবং বায়োগ্যাস ইত্যাদির বিকাশ ঘটানোর পরামর্শ প্রদান করেন।তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ২০১৫ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে শতকরা পাঁচ ভাগ শক্তি সংগ্রহ করা। লক্ষ্য অনুযায়ী সবুজ অর্থনৈতিক উন্নয়নে নবায়নযোগ্য শক্তি হল সবচেয়ে উত্তম পন্থা।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সৌর শক্তি হচ্ছে সবচেয়ে ফলস্বরূপ নবায়নযোগ্য শক্তি। আনেত বলেন, এক বছরে ২৫০-৩০০ রৌদ্রজ্জ্বল দিন থাকে। অনুমান করা হয় বাংলাদেশ প্রতিদিন ১০,০০০ মেগাওয়াট সূর্যরশ্মি পায় যা দেশের প্রতিদিনের বিদ্যুতের চাহিদাকেও অতিক্রম করে। তিনি বলেন, ১১৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রায় ২ দশমিক ৮ মিলিয়ন সৌর গৃহ পদ্ধতি বাংলাদেশে স্থাপন করা হয়েছে।

 আনেত বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো বায়োগ্যাস উৎপাদনে এবং জলবায়ু তাপ শক্তি সংরক্ষণে উপযোগী। বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ন রাজধানীকে বর্জ্য নিষ্কাশন সমস্যাসহ একটি প্রচণ্ড দূষিত শহরে পরিণত করছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্জ্য পদার্থের একটি বড় অংশ হল জৈব পদার্থ যা বায়োগ্যাস উৎপাদনে উপযোগী হতে পারে। তিনি বলেন, ঢাকা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত পাঁচটি শহরের মধ্যে একটি। তাই দেশটির দূষণ কমানো প্রয়োজন এবং মানুষ বিশ্বাস করে স্বচ্ছ প্রযুক্তির মধ্যেই সমাধান নিহিত।

ডেনমার্কে এমন প্রযুক্তির ২,২০০ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা বছরে ৪৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে যেখানে সুইডেনে ৩,৫০০ টি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করে ১৪ বিলিয়ন ডলার।তিনি বলেন, নর্ডিক প্রতিষ্ঠানগুলো বায়ু শক্তি, সৌর শক্তি, বায়োগ্যাস, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট, বর্জ্য ও আবর্জনাকে পুনরায় ব্যবহার করার পদ্ধতি এবং জৈব খাদ্য উৎপাদনের বহু বছরের অভিজ্ঞতা প্রস্তাব করে পারে।তিনি আরও বলেন, সবুজের উন্নয়ন বাংলাদেশে একটি বড় সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ হবে এবং দেশের চ্যালেঞ্জগুলোরও সমাধান দিবে।  বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নাসরুল হামিদ বলেন, “শক্তি খাতে আমরা নবায়নযোগ্য শক্তিকে সবুজের উন্নয়নে আমাদের লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে সম্ভাবনার বিকাশ করছি।”

হামিদ বলেন, “আমাদের নবায়নযোগ্য শক্তি নীতি মনে করে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মোট উৎপাদনের শতকরা ৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ উৎপাদন করা হবে। আমাদের অর্জন ১৫০ মেগা ওয়াটের চেয়ে কম যার একটি প্রধান অংশ আসে সৌর গৃহ পদ্ধতি থেকে।” “আমরা বিভিন্ন উপায়ে ৫০০ মেগা ওয়াট সৌর শক্তি উৎপাদন করার কর্মসূচীর আয়োজন করেছি যেমন, ছাদের উপর সৌর পদ্ধতি, সৌর সেচ এবং সৌর পার্ক।”তিনি বলেন, “আমরা বায়ু শক্তির সম্ভাবনারও বিকাশ করছি। আমরা একটি সংঘের সাথে ৬০ মেগা ওয়াট বায়ু শক্তি প্রকল্পের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি যেখানে একটি ড্যানিশ কোম্পানিও অংশীদার।”তিনি বলেন বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা ও সমুদ্র উচ্চতা বৃদ্ধির কারণ গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণে অবদান রাখে না।যাই হোক, বাংলাদেশ ভুক্তভোগী এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে সবচেয়ে অসুরক্ষিত দেশ যা সমুদ্র উচ্চতাকে বৃদ্ধি করে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাবের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য উন্নত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ দেয়ার একটি দায়িত্ব আছে।

 (দি ডেইলীস্টার অবলম্বনে)

সম্পাদনা: সাদিয়া শাহরীন ঝিল

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top