বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, সংকটে ইউরোপ

ঢাকা, ৩০  এপ্রিল:  ইউক্রেনকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই ছায়া ফেলছে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে। সরবরাহ.  নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়ায় বাড়ছে দাম। ইউক্রেন সংকটে গতকালও এশিয়ার বাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার নিউ ইয়র্কের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টার মিডিয়েট তেলের দাম ৪৪ সেন্ট বেড়ে হয় ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪ ডলার। ব্রেন্ট নর্থ সি অশোধিত তেলের দাম ২২ সেন্ট বেড়ে হয় ১০৯ দশমিক ৮০ ডলার।

petrol-pump

রাজনৈতিক উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে দেশটি। এতে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল ইউরোপীয় দেশগুলো আর নিরবিচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ পাবে কি না, এ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। এক নোটে বারক্লেসের বিশ্লেষকরা জানান, যদি পশ্চিমা দেশগুলো এবং রাশিয়ার মধ্যে সংঘাত বেড়ে যায় তবে একদিকে যেমন তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি সামরিক প্রয়োজনেও তেলের চাহিদা বাড়বে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়বে।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের জ্বালানি নীতি পর্যালোচনা করবে এবং রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সার্বিকভাবে জ্বালানি নীতি নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরো বলেন, জ্বালানি প্রশ্নে ইইউ রাশিয়ার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। ক্রিমিয়া সংকট আরো জটিল হলে ইইউ রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করবে বলে হুমকি দিচ্ছে । ২৮ সদস্যবিশিষ্ট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে ক্রিমিয়া ও রাশিয়ার ৩৩ কর্মকর্তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় মস্কোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হলে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হবে। জার গবেষণাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইফো’র বিশেষজ্ঞ ইদাল ইয়ালসিন বলেন, ‘জার্মানি তাদের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৩১ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে। ফলে জার্মানি চাইলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে রাশিয়ার সাথে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করতে পারবে না।

লন্ডনভিত্তিক ব্রোকারেজ পিভিএম ওয়েল অ্যাসোসিয়েটসের এমডি ডেভিড হফটন বলেন, জ্বালানিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইচ্ছা প্রকাশ করে রাশিয়া বিশ্ব জ্বালানির বাজারে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, মূলত বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী এ দেশটি ক্রেতাদের এই ধারণা দিয়েছে যে এ সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। অন্যদিকে লিবিয়ায়ও ক্ষতিগ্রস্ত পূর্বাঞ্চলীয় তেলের খনি জুয়েটিনা চালু না হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

রয়টার্স, এএফপি।

’ – See more at: http://www.kalerkantho.com/online/world/2014/03/28/66534#sthash.Qv8cK0TV.dpuf

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top