প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে মিলবে ডিজেল

petrol-pump

সবুজপাতা ডেস্ক: ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে মিলতে পারে ডিজেল, প্রাকৃতিক গ্যাস-সহ অন্যান্য বেশ কিছু পেট্রোলজাত পণ্য৷ ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ব্রজেন্দ্রকুমার শর্মার নেতৃত্বে থাকা গবেষক দল এমনটাই দাবি করেছে৷

গবেষকরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিক থেকে পাওয়া এই নতুন ধরনের ডিজেল বাজার চলতি ডিজেলের থেকে বেশি শক্তিশালী৷ বর্তমানে বাজারে যে বায়োডিজেল বা কম সালফার সম্পন্ন ডিজেল রয়েছে তার সঙ্গে অনায়াসেই মিশিয়ে ব্যবহার করাও যাবে৷ দোকানে কেনাকাটা করতে গিয়ে ক্রেতাদের হাতে সাধারণত যে ধরনের প্লাস্টিকের ব্যাগ হাতে দেওয়া হয়, তা থেকেই এই ডিজেল বা অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উত্পাদন হবে৷ শুধু ডিজেল নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস, ন্যাপথা, গ্যাসোলিন, মোম এবং ইঞ্জিন অয়েলের মতো পিচিছলকারক তেলও মিলবে এই প্রক্রিয়ায়৷

নতুন এই আবিষ্কার সম্পর্কে বিশেষ উৎসাহী হয়েছে বিজ্ঞানীমহল৷ বিভিন্ন দেশও বিষয়টি নিয়ে উৎসাহ দেখিয়েছে৷ কারণ খনিজ তেলের প্রাকৃতিক ভাণ্ডার দ্রূত নিঃশেষিত হয়ে আসছে৷ একই সঙ্গে প্লাস্টিক সংক্রান্ত দূষণ ক্রমশই বেড়ে চলেছে৷ চলতি প্লাস্টিক দূষণ বর্তমান সভ্যতাকেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলেছে৷ অন্যদিকে বিশ্বের অন্যান্য বহু দেশের মতো ভারতকেও প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করতে হয় খনিজ তেল আমদানিতে৷ নতুন এই উদ্ভাবন রূপায়ণ করা সম্ভব হলে একদিকে সেই খরচ যেমন অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে, তেমনই কমিয়ে ফেলা যাবে দূষণের পরিমাণ৷

আমেরিকার ইলিওনিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলিওনিস সাসটেনেবেল টেকনোলজি সেণ্টারের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ব্রজেন্দ্রকুমার শর্মা জানিয়েছেন, “প্লাস্টিক ব্যাগকে অক্সিজেন মুক্ত চেম্বারে উত্তপ্ত করেই তেল নিষ্কাশনের কাজটি শুরু হবে৷ এই প্রক্রিয়াটির নাম পাইরোলাইসিস৷ এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্লাস্টিক থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি মিলবে৷ তুলনায় অপরিশোধিত তেল থেকে শোধনের পর মেলে মাত্র ৫০-৫৫ শতাংশ জ্বালানি৷”

শর্মা আরো জানিয়েছেন, “গুণমানের দিক থেকে এই ডিজেল বাজার চলতি কম সালফার সম্পন্ন্ ডিজেলের থেকে উন্ন্ত মানের৷ পরীক্ষামূলকভাবে চালু ডিজেলের সঙ্গে ৩০ শতাংশ প্লাস্টিকজাত ডিজেল মিশিয়ে ব্যবহার করে দেখা গিয়েছে কোনো সমস্যা হয়নি৷”

সূত্র: ওয়েবসাইট

scroll to top