মজুদ সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানী তেল

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা;শনিবার:  যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কমেছে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে এ পণ্যের মজুদ ২৯ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি ২৩ লাখ ব্যারেল। গালফ উপকূলবর্তী রাজ্যগুলো থেকে সরবরাহ কমায় মজুদ স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে।  খবর ব্লুমবার্গের।

green fuel

মজুদের পাশাপাশি কমছে সরবরাহও। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ব্যারেল। যুক্তরাষ্ট্র দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে ইআইএর বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কমতির দিকে রয়েছে পেট্রোলিয়ামের চাহিদা। ওয়াশিংটনে এপিআই জানায়, গত সপ্তাহে গ্যাসোলিনের সরবরাহ কমে হয় ৪ লাখ ৮১ হাজার ব্যারেল। বর্তমানে কমতির দিকে থাকলেও ১৫ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের মজুদ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬৭ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল, যা ৪ অক্টোবরের পর সবচেয়ে বেশি। এ সময় ডিজেলের মজুদ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল। এদিকে গতকাল শুক্রবার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) জানুয়ারিতে প্রণোদনা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের বৃহত্ এ অর্থনীতিতে জ্বালানির চাহিদা কমতে পারে— এ আশঙ্কায় বাজার নিম্নমুখী বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ইলেকট্রনিক ট্রেডিংয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের জন্য প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম গতকাল ৩৯ সেন্ট কমে লেনদেন হয় ৯৮ ডলার ৬৫ সেন্টে। এছাড়া সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় ১টায় একই পরিমাণ পণ্যের দাম দাঁড়ায় ৯৮ ডলার ৮৮ সেন্ট। চলতি সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। লন্ডনভিত্তিক আইসিই ফিউচার্স ইউরোপ এক্সচেঞ্জে একই সময় সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম ৪২ সেন্ট কমে বিক্রি হয় ১০৯ ডলার ৮৭ সেন্ট। ইউরোপিয়ান বেঞ্চমার্কে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ে প্রিমিয়াম ছিল ১১ ডলার ৪ সেন্ট। ফেড জানুয়ারিতে ৮৫ বিলিয়নের বদলে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড ও সিকিউরিটিজ কিনবে। গত বুধবার মুদ্রা-সংক্রান্ত সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেন নীতিনির্ধারকরা। গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশ বাড়ার পর গতকাল কমে দশমিক ৪ শতাংশ। আগামী সপ্তাহেও পণ্যটির দরপতন অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

সিডনিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্যারেটস বুলেটিনের প্রধান নির্বাহী জোনাথন ব্যারেটস বলেন, প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম আগামী সপ্তাহে ৯৮ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করলে তা স্বল্পমেয়াদে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্যারিসভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার ২১ শতাংশই আসবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

সবুজপাতা ইন্টারন্যাশনাল ডেক্স

Comments