ভারতীয় চা কীটনাশকযুক্ত: গ্রিনপিস

ঢাকা, ১৩ আগষ্ট: আপনার সকালের চা কতটা নিরাপদ? সেটা যদি ভারত থেকে আমদানী কৃত চা হয়ে থাকে তবে একটু সচেতনতা জরুরী। কেননা, বিশ্বখ্যাত পরিবেশ সংস্থা গ্রিনপিস দাবী করছে, ভারতীয় চা এ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)র নির্দেশিত মাত্রার চেয়ে ঢের গুন বেশি কিটনাশকের উপস্থিতি পা্ওয়া গেছে ভারতীয় প্যাকেটজাত চা এ।

সেটা ভারতের প্রায় সব বড় চা-ব্রান্ডের নমুনাতেই পা্ওয়া গেছে বলে দাবী প্রতিষ্টানটির। এর মধ্যে  হিন্দুস্থান ইউনিলিভার  (বাংলাদেশে লিপটন এবং টেটলি তাজা চা বাজারজাত করে ইউনিলিভার), টাটা বেভারেজ লিমিটেড, ওয়াহ বাখরি চা সহ নাম করা সব ব্রান্ড রয়েছে। জুন ২০১৩ থেকে মে, ২০১৪ পর্যন্ত  ৪৯টি চা ব্রান্ড পরিক্ষা করে এর ৪৬ টি ব্রান্ডের মধ্যেই কীটনাশকের উপস্থিতি পেয়েছে গ্রিনপিস পরিচালিত সমীক্ষায়।

12tea5

চা উৎপাদন ও রপ্তানি সংক্রান্ত ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান টি বোর্ড অব ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে গ্রিনপিসের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

গ্রিনপিসের ভারতীয় শাখা সোমবার এক রিপোর্টে অভিযোগ করেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে এতে এমন কীটনাশক পাওয়া গেছে যা চা চাষে ব্যবহারের অনুমোদন নেই।

গ্রিনপিস ইন্ডিয়া বলছে, তাদের পরীক্ষা করা ৬০ শতাংশ নমুনাতে ডিডিটি পাওয়া গেছে – যা ১৯৮৯ সালেই ভারতে কৃষিকাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। রিপোর্টে অবশ্য এটা উল্লেখ করা হয় নি যে ঠিক কোন কোম্পানি এটা ব্যবহার করেছে।

গ্রিনপিসের নেহা সায়গল বলছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান এটা স্বীকার করে যে ভারতীয় চা অত্যন্ত উচ্চমানের এবং তা জাতীয় গর্বের বিষয় – কিন্তু কীটনাশক ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

গ্রিনপিস ইন্ডিয়া বলছে, তারা ভোক্তাদের ভয় পাইয়ে দিতে চায় না, বা লোককে চা পান না করার পরামর্শও দিতে চান না। তারা বলছে, তারা উৎপাদনকারীদের সাথে কাজ করছে যেন চা চাষে ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া হয়।গ্রিনপিসের জরিপে যে চা নমুনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে তা ভারতের বাজার থেকেই নেয়া এবং তাদের এটা জানা নেই যে এই একই চা বিদেশে রপ্তানি করা হয় কিনা।

এ নিয়ে বার্তা সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে, ভারতের চা উৎপাদনকারীরা বলছেন, তারা কীটনাশক ব্যবহার করেন – তবে তা অবৈধ নয়।সাউদার্ন টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মি. রাধাকৃষ্ণান কথায়, চা প্রক্রিয়াজাত করার ফলে তা পানের জন্য নিরাপদই থাকে।

গ্রিনপিস বলছে, তারা তাদের জরিপে যেসব কোম্পানির নাম বলেছেন, তাদের মধ্যে ইউনিলেভার এবং টাটা গ্লোবাল সহ অধিকাংশ কোম্পানিই এই জরিপের ব্যাপারে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলছে, ইউনিলেভার জানিয়েছে তারা কীটনাশকমুক্ত ব্যবস্থাপনার লক্ষে বড় আকারো বৈজ্ঞানিক গবেষণা হাতে নিতে যাচ্ছে। তবে টাটা এখনও সনাতনী পদ্ধতিই অনুসরণ করছে যাতে জৈব এবং রাসায়নিক উভয় ধরণের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিরই সমন্বয় করা হয়েছে।

টি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, “কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তৈরি ভারতের চা সারা বিশ্বেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়।”- তারা বলেছে, “আমরা গ্রিনপিসের এই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছি এবং নিশ্চিত করছি যে সবধরণের নমুনা পরীক্ষাই ভারতের আইন ও বিধির সাথে সংগতিপূর্ণ – যার লক্ষ্য হচ্ছে ভোক্তাদের সুরক্ষা।”

তথ্য: বিবিসি, ডিএনএ ইন্ডিয়া অনলাইন

 

 

scroll to top