বিটি বেগুনের অনুমোদন : বাংলাদেশের জিএম খাদ্য দুনিয়ায় প্রবেশ

Print Friendly, PDF & Email

btbrinjal
‘বেগুনের অনেক গুন’-প্রবাদটি বহুল প্রচলিত।তবে এবার নতুন প্রবাদ হবে- ‘বেগুনের অনেক রুপ’। খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের বাজারে মিলবে,পোকাবিহীন, তরতাজা, অনেক বড় বড় আকারের বেগুন। তাতে খাদ্যগুন থাক আর নাই থাক,দেখতে লোভনীয় এবং সতেজ হবে বৈকি। এই বেগুন যেন তেন বেগুন নয়-নাম ‘বিটি বেগুন’। পরিচিত নাম ‘জিএম-বেগুন’। এটি বাংলাদেশের প্রথম জিএম ফুড হিসেবে সরকারী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়েছে।

গত ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে, জেনেটিক্যালী মডিফাইড বা জিএম খাদ্য হিসেবে বিটি-বেগুনের বানিজ্যিক চাষে অনুমোদন দিয়েছে পরিবেশ বিদ দের উদ্বেগ আর উৎকন্ঠাকে পাশ কাটিয়ে, অনেকটা অনায়াশেই অনুমোদন পেল এই বির্তকিত খাদ্য পন্য। এর মাধ্যমে জিএম ফুড জগতে ২৯ তম দেশ হিসেবে নাম লেখালো বাংলাদেশ। তবে দক্ষিন এশিয়ায় বাংলাদেশ-ই প্রথম। দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে ভারত,পাকিস্থান আর পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে জিএম পদ্ধতিতে তুলা উৎপাদন হয়,তবে এ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশেই প্রথম।

বাংলাদেশের ন্যাশন্যাল কমিটি অন বায়োসেফটি( এনসিবি) যেটা কিনা জি্‌এম ফসল দেখভালের সর্বচ্চ ফোরাম,তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে এই বেগুন চাষের অনুমতি দিয়েছে। বিটি বেগুন-১, বিটি বেগুন-২, বিটি বেগুন-৩, বিটিবেগুন-৪- এই চার প্রকারের বেগুন চাষের অনুমতি দিয়েছে সরকার।

জিএম পদ্ধতিতে উৎপাদিত বেগুনে এর জেনেটিক উপাদান বা ডিএনএ পরিবর্তন করা হয়, ভালো ফলন তুলে আনা হয় মাঠ থেকে। এটার ভিতরে কৃত্রিম ভাবে ব্যকটেরিয়া ঢুকিয়ে দেয়া হয়,যা বেগুণকে পোকার ধরাছোয়া থেকে দুরে রাখে।
এই বিটি বেগুনে- Bacillus Thuringiensis নামের এক ধরনের ক্রিস্টাল প্রোটিন জিন (cry1Ac) প্রবেশ করানো হয়েছে। এ জিনের কারণেই ফসলে পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারে না

বিটি বেগুনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ভারতে-ফাইল ছবি

বিটি বেগুনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ভারতে-ফাইল ছবি

মহারাষ্ট্রভিত্তিক বীজ কোম্পানী ‘মাহিকো’র (Mahyco ) তরফে ২০০৫-৬ সালে এই বিটি বেগুনের প্রকৌশল তত্ব বাজারজাত হয়েছিল বাংলাদেশ এগ্রিকালচার এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট বা BARI তে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যপুষ্ট ইউএসএই্ড এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির ব্যবস্থাপনাধীন, এগ্রিকালচারাল বায়োটেকনোলজি সাপোর্ট প্রজেক্ট এদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। এই কোম্পানীর তরফে ভারতে জিএম পদ্ধতিতে বেগুন চাষের উদ্যোগ নেয়া হলে ভারতজুড়ে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রিয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ এর বলা চলে একক বাধার কারণে ভারতে এর অনুমোদন দেয়া হয়নি।সচেতন সব মানুষ রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদ করে।

পরিবেশ বাদীরা নানা কারণে বাংলাদেশে এই বিটি বেগুনের চাষ আনুমোদন না দিতে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। কিছু দিন আগে ১২ গবেষক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের গবেষকও ছিলেন।
যেসব কারনে এই বেগুনে আপত্তি তার মধ্যে অন্যতম হলো:
১. Bacillus Thuringiensis (যা কিনা একটি রোগের জীবাণু ! ) বেগুন গাছে ঢুকিয়ে C ry1Ac নামক বিষ তৈরি করা হয়, যা শুধুমাত্র বেগুনের ফল ও ডগা ছিদ্রকারী (Brinjal Fruit and Shoot borer) পোকাকে দমন করে।
২. সেই জিন মানুষের শরীরে কি ধরণের ক্ষতি করতে পারে তার কোন যথাযথ পরীক্ষা নিরীক্ষা হয় নি ।
৩. দরিদ্র কৃষকরা এই বিটি বেগুনের বীজ কিনতে বহুজাতিক কোম্পানির কাছে নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন এবং উচ্চমূল্যে বীজ কিনতে বাধ্য হবেন। এর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে
৪.বিদেশী পরীক্ষাগারে পুষ্টিগত বা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির ছাড়পত্রের কথা বলা হচ্ছে আসলে তার বিষাক্ততা পরিমাপের মূল পরীক্ষাটি করা হয় ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে , আমাদের দেশীয় কোন প্রতিষ্ঠানে না

ভারতের বিজ্ঞান সাময়িকি ‘জারগান’ জোস অবলম্বনে লিখেছেন সাহেদ আলম।

Comments