বনসাই : আমাদের ভবিষ্যৎ

Print Friendly, PDF & Email

dicas-de-manutencao-para-ter-um-bonsai-forte-e-bonito-4
মৌলী ইসলাম
কারো মনে কষ্ট দেয়ার জন্য বলছি না, কিন্তু, পরিবেশ আন্দোলনের প্রশ্নে যারা গলা ফাটিয়ে ফেলেন বা ফেলছেন, তাদের অনেকের ড্রয়িং রুমের কোনায় আমি সুসজ্জিত ‘বনসাই’ দেখেছি। একে, যদি তারা সবুজ আন্দোলনের পথে কাঁটা না মনে করেন, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। বুড়ো বটকে ঘরে সাজিয়ে রেখে যদি পরিবেশ বাঁচাতে চাই, তাহলে তা কতোটা যৌক্তিক হবে, সেটাই প্রশ্ন।
সেসব কথা তোলা থাক। মূল প্রসঙ্গে আসি। বনসাই কি বা এর উৎপত্তি কোথায়? ‘বনসাই’ মানে হচ্ছে –টবে কৃত্তিম ভাবে জন্মানো বামন আকৃতির গাছ। অনেকেই জানেন, এটা আসলে জাপানী শিল্প। কিন্তু, তাদের জন্য বলছি, প্রাচীন ফারাওরা শখের বশে প্রথম ‘বনসাই’ তৈরি শুরু করেন। পৌরাণিক মন্দিরগুলোতে মেলে এর অস্তিত্ব। প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা ‘পেনজাই’ শব্দ থেকে এর নামকরণ। অনেকটা ট্রের মত দেখতে, যে পাত্রে চীনারা এসব গাছ লাগায়, তাকেই বলা হয় ‘বন’। ‘হা চিন কো বা গামলার গাছ’।
এর ফলাফল –দিগন্ত বিস্তৃত, হাজার বছরের বট গাছকে বেঁধে দেয়া হলো সীমানা। আর, তা তৈরির ফর্মুলাকে বলা হলো শিল্প। হ্যাঁ, শিল্পই বটে, রসায়নের নতুন কারিশমা। নতুবা পরিবেশের দেয়া এই প্রাচুর্যকে কিভাবে বামন বানানো সম্ভব!
কালের স্রোতে এই বনসাই তৈরির ফর্মুলা আমাদের দেশেও এলো। শুরু হলো ঢালাও ভাবে বনসাই তৈরি, খোলা হলো তার প্রক্রিয়া শেখাতে আলাদা প্রশিক্ষন কেন্দ্র। আজকাল তো বৃক্ষমেলা মানেই বনসাইয়ের ছড়াছড়ি। আলাদা ভাবে দেয়া হয় ‘বনসাই’ মেলাও। সেসবের আবার বাহারি নাম আর দাম। কাজের সুত্রেই, বেশ কয়েকটি মেলায় যাবার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। দাম দেখে আমি সত্যি বিস্মিত। কোন কোন বনসাইয়ের দাম দেড় থেকে পাঁচ লাখ পর্যন্তও আছে! সেখানেই আমার খটকা। যে গাছ, মাইলের পর মাইল ছড়াতে পারে, দিতে পারে অফুরন্ত অক্সিজেন। টবে তোলার সাথে সাথেই তার মূল্য কমে দাঁড়াল এই…? তাহলে, আমাদের কে যে গাছটি ছায়া, অক্সিজেন বা নির্মল বাতাস দিয়ে আসছিল, তার মূল্য কই? সেই বুড়ো বটকে আমরা কি দিলাম? সুসজ্জিত একটি ড্রয়িং রুম?
বনসাই শিল্পিরা বলেন, বাংলাদেশ বনসাই তৈরি করা যায় এমন গাছগুলো হচ্ছে –বট, বকুল, শিমুল, পাকুড়, শিরীষ, বাবলা, পলাশ, বেত, ছাতিম, নিম, হিজল, জাম, গাব, শেফালি, পেয়ারা, কড়ই, অর্জুন, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, দেবদারু, বাগান বিলাস আরও অনেক গাছ। তাহলে, বাকি রইল কি বলুনতো?
সব গাছ দিয়েই যদি বনসাই তৈরি করা যায়, তাহলে বনে থাকবে কোন গাছ? কি দিয়ে হবে সবুজ-বনায়ন? সবই তো উঠে আসবে আমাদের রুচির পরিচয় বহনকারী ড্রয়িং রুমে। বাধ্য হয়ে তাই বলতেই হচ্ছে –আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম গাছ বলতে চিনবে ছোট্ট বনসাইকে…… যার মাঝে বসত করবে শতবর্ষী কোন জারুল-পারুল। সেসময় আলাদা কোন নামে পরিচয় পাবে না এসব গাছ, তাদের একটাই পরিচয় ……‘বনসাই’।

254671_10201446617594753_90826018_n
মৌলী ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Comments