তলিয়ে গেলো প্রশান্ত মহাসাগরের ৫ দ্বীপ

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্কঃ  সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিক্ষয়ের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সলোমন দ্বীপপুঞ্জের পাঁচটি দ্বীপ অদৃশ্য হয়ে গেছে। গত শনিবার অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে তথ্য জানানো হয়েছে।

এনভায়োরোমেন্টাল রিসার্চ লেটার্স নামের ওই গবেষণাপত্রে আরো বলা হয়, সলোমন দ্বীপপুঞ্জের আরো ছয়টি প্রবাল দ্বীপ মারাত্মক ভূমিক্ষয়ের শিকার। এর মধ্যে ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে একটি দ্বীপের প্রায় ১০টি বাড়ি সাগরে তলিয়ে গেছে। এছাড়া দুটি অঞ্চলে উপকূলীয় রেখার ক্ষয়ের কারণে কয়েকটি গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। ১৯৩৫ সাল থেকে এসব গ্রামের অস্তিত্ব ছিল।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে পাঁচটি প্রবাল দ্বীপ তলিয়ে গেছে সেগুলোর আয়তন ১২ একর। এসব দ্বীপে কেউ বাস করতো না। তবে জেলেরা ব্যবহার করতো। গবেষণায় বলা হয়, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত নাতাম্বু দ্বীপের অর্ধেকই তলিয়ে গেছে এবং এতে সেখানে বসবাসরত ২৫টি পরিবারের মধ্যে ১১টির ঘরবাড়ি সাগরে ভেসে গেছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মানবসৃষ্ট বলে উল্লেখ করে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে প্যাসিফিক অঞ্চলের আরো কিছু দ্বীপকে একই ভাগ্য বরণ করতে হবে। গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের ফলে প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি অব্যহত থাকবে।

প্রতিবেদনের গবেষণাপ্রধান ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের রিসার্চ ফেলো সিমন আলবার্ট বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘সলোমন দ্বীপপুঞ্জকে সমুদ্র স্তরের উত্তপ্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানকার সমুদ্র উচ্চতা তিনগুণ বেশি।’

সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকির কারণে অনেক পরিবারই ইতিমধ্যে গৃহহারা হয়েছে। যুগ যুগ ধরে বাস করে আসা পিতৃভূমি ছাড়তে হচ্ছে তাদের। সলোমন দ্বীপপুঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বাস করে আসা পাউরাতা উপজাতির প্রধান ৯৪ বছর বয়স্ক সিরিলো সুতারোতি জানান, গ্রামে সমুদ্রের পানি ঢুকে পড়ায় তাকেও তার দীর্ঘদিনের ভূমি ত্যাগ করতে হয়েছে।

১৯৪৭ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বিমান ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা ৩৩টি দ্বীপের চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এ গবেষণা করেন। স্থানীয় জ্ঞানের ভিত্তিতে গবেষণা কাজে আরও যুক্ত করা হয় ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ। দ্বীপগুলোর তলিয়ে যাওয়া এবং অন্য দ্বীপের হুমকির পেছনে সমুদ্রের ঢেউও দায়ী। অতিরিক্ত সামুদ্রিক ঢেউয়ের কারণে দিন দিন অস্তিত্ব হারাচ্ছে অনেক দ্বীপ।

Comments