নদী ধ্বংসে দায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড !

Print Friendly

ঢাকা, ১৬ জুন: পানি উন্নয়ন বোর্ড উন্নয়নের নামে সারাদেশে নদী ধ্বংস করছে এমন অভিযোগ করে পরিবেশবিদরা বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি নদীর উন্নয়নের জন্য বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ, স্লুইস গেট নির্মাণের নামে শত শত কোটি টাকা লুটপাট করছে। তাই নদীকে বাঁচাতে হলে সরকারকে এ প্রতিষ্ঠানটি আগে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি যারা নদী দখল করে মাছ চাষের নামে নদীকে ধ্বংস করছে তাদেরও চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এএলআরডি আয়োজিত তিস্তাসহ আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং অভ্যন্তরীণ নদী-জলাশয়-জলাধার দখলদূষণ রোধে করণীয় শীর্ষক সেমিনারে বক্তরা এ দাবি জানান।

বক্তরা বলেন, ভারত আমাদের নদীর পানিকে নিয়ন্ত্রণ করে এ দেশের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তাই তারা আমাদের নদীগুলোর উজানে বাধ নির্মাণ করে এ দেশকে মরুভূমিতে পরিণত করছে। তাদের কোনো বিদ্যুতের প্রয়োজন না থাকলেও তারা সে দেশের কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ব্যবসা করতে চাচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও তেল-গ্যাস-খনিজ-নদী-বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, তিনভাবে আমাদের নদীগুলো ধ্বংস হচ্ছে। একদিকে ভারত আমাদের নদীগুলোর অস্তিত্ব অস্বীকার এবং তাদের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে নদীগুলোর উজানে বাঁধ দিয়ে নদীকে ধ্বংস করেছে। অপরদিকে আমাদের সরকারও নদীগুলোর উন্নয়নের নামে নদীকে ধ্বংস করছে। এজন্য তারা একটি প্রতিষ্ঠানকে নদীর উন্নয়নের কাজ দিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে। এদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ও নদী দখলবাজরা নদী দখল করে তাদের প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার কারণেও নদী আজ বিলুপ্ত হতে চলেছে।

নদীগুলোকে বাঁচাতে না পারলে আগামীতে এদেশের মানুষ একটি পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে মন্তব্য করে জাবির এ অধ্যাপক বলেন, ভৌগলিক কারণে এদেশের যে একটা অবস্থান ছিল। কিন্তু আমরা নিজেরাই অর্থ খরচ করে সেই সম্ভাবনাকে ধ্বংস করেছি। নদী উন্নয়ন বোর্ড নদীর উন্নয়ন প্রকল্প নামে নদীকে ধ্বংস করছে। তাদের উন্নয়নের ধরনটাই হচ্ছে নদী বিদ্বেষী।

ট্রানজিটের ব্যাপারে তিনি বলেন, ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে অথচ এ ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশের পরিবেশের উপর কী বিরূপ প্রভাব পড়বে তার কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। এর প্রভাব যে নদীগুলোতেও পড়বে সে ব্যাপারেও সরকারের কোনো চিন্তা নেই।

সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন জল পরিবেশ ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক ।

তিনি প্রবন্ধে অভিযোগ করে বলেন, ভারত একটি আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার মধ্যে তারা ব্রহ্মপুত্র অববাহিতকার নদীগুলোর পানি ভারতের পশ্চিমে রাজস্থান ও গুজরাট এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে নিতে চায়। তারা ব্রহ্মপুত্র নদের তিস্তা অববাহিকায় ভারত কয়েক ডজন ড্যাম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ণ হলে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গসহ অনেক অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে। যার প্রভাব পড়বে আমাদের কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ ও জীবনযাত্রার উপর।

আজ নদীর উন্নয়নের নামে নদীকে ধ্বংস করা হচ্ছে। আর এ কাজটি করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড এমন অভিযোগ করে সেমিনারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবদুল মতিন বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটির রিরুদ্ধে মন্ত্রীরাও নিরুপায়। তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রীরাও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না।

অনেক নদীতে স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ এসবের কোনো প্রয়োজনই নেই দাবি করে তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে স্লুইস গেট নির্মাণ করে প্রকৌশলীরা দুধেল গাইয়ের মতোই সারা বছর অর্থ লুটছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের কাছে এ স্লুইস গেটগুলো হল পবিত্র মসজিদ সমতূল্য। তাই তারা সেগুলো নির্মাণের নামে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

এছাড়াও সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নদী বিশেষজ্ঞ স্বপন আদনান, জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, উপ নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি প্রমুখ।

সবুজপাতা ডেস্ক

Comments