ট্যানারি স্থানান্তরে বাধ্য করার দাবি পবার

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ১৯ মেঃ রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের ধীরগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন। তারা ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তরে মালিকদের বাধ্য করতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অভিমত জানিয়েছে।

গত রোববার বেলা ১১টায় পবা কার্যালয়ে উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশে সংবাদ সম্মেলনে উক্ত অভিমত ব্যক্ত করা হয়। ট্যানারি শিল্প  স্থানান্তর কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন, জরিপ, পর্যবেক্ষণ করে রচিত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনটি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিভিন্ন সময় বাপার প্রতিনিধিদল স্থানান্তর কার্যিক্রম পরিদর্শন করেছে। সর্বশেষ ১৪ মে পবার একটি প্রতিনিধিদল ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন, জরিপ, পর্যবেক্ষণ করে।  এর আলোকে তারা বলছে,
শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানান্তর কার্যক্রম অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। সিইটিপির নির্মাণ অগ্রগতি দেখে মনে হচ্ছে জুন ২০১৫ সময়ের মধ্যে সিইটিপি চালু করা সম্ভব হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোপ দীর্ঘ ৬৫ বছর বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ করে যাচ্ছে।  নদী এতই দূষিত যে আশপাশের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বুড়িগঙ্গা আজ একটি মৃত নদী, যেখানে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) প্রায় শূন্য। হাজারীবাগ এলাকায় অবস্থিত ট্যানারীসমূহ দৈনিক ২২ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলছে।

১৯৫০ সাল থেকে ৬৫ বছরে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর নিক্ষিপ্ত অপরিশোধিত তরল বর্জ্যে পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার ছয় শত নয় কোটি পঁচাত্তর কোটি টাকা। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী এই অর্থ ক্ষতিপূরণ বাবদ শিল্পমালিকদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য।

পবার পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায় ২০১৫ সালের ০৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১টি প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই হয়ে তৃতীয় তলার কাজ চলছে; ৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রথম তলার ছাদ ঢালাই হয়েছে বা হওয়ার পথে; ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের পাইলিং সম্পন্ন বা চলছে, বেইজ ঢালাই হয়েছে বা হচ্ছে, গ্রেটভীম ঢালাই হয়েছে বা হচ্ছে; ৭৬টির সীমানা দেয়াল দেয়া হয়েছে; ১৪টির সীমানা দেয়াল,গার্ড রুম কিছুই করা হয়নি, ২৫টির সাইন বোর্ড নেই (এর মধ্যে ৮টির সীমানা দেয়াল,গার্ড রুম কিছুই করা হয়নি) । ৬% প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন সম্পন্ন করেছে, ৩৬% ফাউন্ডেশনের কাজ করছে এবং ৫৮% শিল্প ভবন নির্মাণে কিছুই করছে না। ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১৫টি পাইলিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে, ১৯টি সীমানা দেয়াল, গার্ড রুম নির্মাণ করছে এবং বাকি ১২১টি কোন কার্যক্রম শুরু করেনি।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পবার নির্বাহী সদস্য ও পীসের মহাসচিব ইফমা হোসাইন, পবার নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, পবার সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য মনজুর হাসান দিলু, পবার সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী, পবার সহ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments