সবুজের জন্য সংলাপ

ঢাকা;২৪ জুলাই:  সংলাপ তো কত প্রকারের-ই হয়। কিন্তু সবুজের সংলাপ এ তৈরী হলো অনণ্য এক অনুভুতি। রাজধানী ঢাকায় সবুজ বাচাঁতে আর সবুজ বাড়াতে যেসব ব্যাক্তি কাজ করছেন পত্যক্ষ আর পরোক্ষ ভাবে তাদের এক ইফতার আয়োজন-ই শেষ পর্যন্ত রুপ নিয়েছিল সবুজ সংলাপে। যেই সংলাপে উঠে আসে পরিবেশ এর সুরক্ষায় তারুন্য আর  কিভাবে আগামীতে ভুমিকা পালন করতে পারে সেসব দিক। দেড় শতাধিক শিক্ষিত তরুণ আর পেশাজীবিদের সবর উপস্থিতিতে প্রানবন্ত হয় সে সম্মিলন।

পান্থপথের শেল সেন্টারে সবুজপাতার ‘সবুজ ইফতার’, আয়োজনে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে  বাংলাদেশ পরিবেশ অন্দোলন-বাপা এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, এ এক অনন্য আগামীর হাতছানি যেখানে পরিবেশ নিয়ে ভাবছে আজকের তরুণরা। স্মৃতিচারণ করে ইকবাল হাবিব বলেন, ৯০ এর দশকে যখন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ স্যাররা পরিবেশ এর জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন,তখন সেটি ছিল এক মহীরুহ আগামীর বীজ বপন। এখন সেসব বীজ থেকে চারা জন্মাচ্ছে। আমাদের সেসব প্রবাদপুরুষরা এতদিনে ভারমুক্ত হতে পারেন এটা দেখে যে তারুন্যই আগামীর পরিবেশ সুরক্ষার কথা ভাবছে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের প্রধান সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু বলেন, পরিবেশ সচেতন তরুণ ছাড়া আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ কল্পনা করা সম্ভব নয়। বলেন, অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে তরুণদের কাজে লাগাতে হবে। নতুন ছেলে মেয়েদেরকে পরিবেশের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা ও নতুন চিন্তা  রয়েছে। তাদের এই চিন্দা আমাদের অনেক কঠিন কাজ সহজ করে দিতে পারে। বের হয়ে আসতে পারে সহজ সমাধান।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা ফাতেমা জোহরা হক কাকলি জানান, সবুজ একটি বিপ্লবের নাম। আমি অনেক আগে থেকেই এই আন্দোলনের সাথে জড়িত হয়েছি মানসিক ভাবে। আর আজ থেকে সক্রিয় ভাবে কাজ করে যাবো। তিনি আরও বলেন, আমার কলেজের মেয়েরা সবুজ আন্দোলনের সাথে আছে। তাদেরকে এই আন্দোলনের সাথে আরও সঙ্গবদ্ধ ভাবে কাজ করতে সহায়তা করে যাবো।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অপারেশ বিভাগ প্রধান সাব্বির হোসাইন, বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা অভিক রহমান, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সায়েদ রানা, পরিবর্তন চাই আন্দোলনের উদ্যোক্তা প্রযুক্তিবিদ ফিদা হক, গ্রীন ইউনিভার্সিটির টেলিভিশন/মিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. সাজেদুর রহমান সহ উপস্থিত প্রায় সবাই তাদের ভবিষ্যত কর্ম আর সবুজ নিয়ে কাজ করার পত্যয় জানান।

সবুজপাতার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্ম-পরিকল্পনা কি, কী করতে চায় এই সংগঠন। এসব নিয়ে ইফতার পার্টি শেষে ছিল একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন। পুরো আয়োজন সঞ্চালনা ও প্রেজেন্টেশন করেন সবুজপাতার উদ্যোক্তা সাংবাদিক সাহেদ আলম।  প্রায় দেড় ঘন্টায় উপস্থাপিত বক্তব্যে তিনি উদাহারণ টেনে দেখান বাংলাদেশের আগামী দিনের যে উন্নয়ন পরিকল্পনা আর যাত্রা,তাতে পরিবেশ কে প্রাধান্য দিয়ে এক ব্যতিক্রমী টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। তার জন্য গুটিকয়েক পরিবেশ বাদী নয়, প্রয়োজন লক্ষ লক্ষ তরুণ,যারা কিনা আগামীদিনের কান্ডারী,তাদের মধ্যে সবুজের প্রতি প্রেম কে জাগিয়ে তোলার উপায় বলেন তিনি। অর্থনীতি, উন্নয়ন, গবেষনা, কৃষিকাজ, বিপনন, নির্মান, ভ্রমন, উদ্ভাবনে কোথায় কোথায় পরিবেশ এর সমার্থক ভাবনার প্রচলন জরুরী সেটার যুক্তি তর্ক উপস্থাপিত হয়। এর মধ্য দিয়ে অনেকের কাছে পরিস্কার হয় সবুজ পাতার কার্যক্রম।

  10470611_349557118528892_4077078789403222392_oউপস্থাপনা শেষে উপস্থিত অতিথিদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন সাহেদ আলম এবং অনেকের গঠন মূলক মতামতও গ্রহণ করেন তিনি।

 অনেক ঘটনা ছিল অল্প কিছু সময়ে, পুরো আয়োজনের শুরু থেকে যারা ছিলেন তাদের অন্যতম সৈয়দ সাইফুল আলম শোভন। তার দলে ছিল আরও পাঁচ থেকে সাত জন। তাদের দেখা গেছে অন্যের চেয়ার শেয়ার করে বসতে আর খাবারও খেয়েছেন অন্যেরটা শেয়ার করে। আয়োজন শেষে মিলনায়তনের কর্নারে পড়ে থাকা অনটাইম গ্লাস বা সামান্য এক টুকরা কাগজও কুড়িয়ে বাহিরে ফেলেছেন তারা। মনে হয়নি শতাধিক মানুষ কিছুক্ষণ আগে এখানে ইফতার করেছেন। সত্যিকারের সবুজ দলের প্রমাণ রাখতে তাদেরকে ধন্যবাদ দেয় উপস্থিত সকলে।

ধানমন্ডি লেক এলাকার গাছ থেকে বিজ্ঞাপন মুক্ত করা স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয় ইফতার পার্টির আয়োজন শেষে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশ নেয়া স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিনিধিরা এই সদন সংগ্রহ করে সবুজপাতার কাছ থেকে।

শেল সেন্টার মিলনায়তনের ধারণক্ষমতার বেশি অংশ নেয়ায় অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।  দেড় শতাধিক মানুষের এই সবুজ ইফতার আয়োজনে ছিল কমপক্ষে ২০ জন ভলান্টিয়ার যারা সবাই সবুজের জন্য নিবেদিত কর্মী।

আনিস রহমান, সবুজপাতা ট্রাস্ট

 

scroll to top