ইটভাটায় যাচ্ছে ফসলি জমির মাটি

Print Friendly, PDF & Email

220131107160639

সবুজপাতা ডেস্ক: ফটিকছড়িতে ইটভাটায় ইট তৈরির জন্য বিক্রি হচ্ছে ফসলি জমির উর্বর মাটি। একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কৃষকদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে স্বল্পমূল্যে জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কিনে ইটভাটায় বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরাশক্তি।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর শীত মৌসুমে আমন ধান কাটার পর পরই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান ও ট্রাকে করে ফসলি জমির মাটি নিয়ে যাওয়া হয় ইটভাটাগুলোতে। কেবল ইটের ভাটা নয়, নিচু জায়গা ভরাট করার কাজেও ফসলি জমির মাটি ব্যবহার হয় বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় এক মাটি ব্যবসায়ীর কাছে ১২০ শতক জমির উপরিভাগের মাটি মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন অনেকে।

পশ্চিম ভূজপুর গ্রামের কৃষক শাহ আলম ২৮০ শতক জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি করেছেন মাত্র নয় হাজার টাকায়। ফসলের উৎপাদন খরচ না ওঠায় মাটি বিক্রি করছেন বলে তিনি জানান।

মাটি বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত উপজেলার নারায়নহাটের ব্যবসায়ী আবু সৈয়দ বলেন, ‘এ উপজেলায় আগে ২৫ থেকে ৩০টি ইটভাটা ছিল। এখন বেড়ে হয়েছে ৫০টি। এ কারণে মাটির চাহিদাও বেড়েছে। যাঁদের মাটির প্রয়োজন তাঁরা আমাদের মতো মাটি ব্যবসায়ীর কাছে মাটির জন্য চুক্তিভিত্তিক অর্ডার দেন। আমরা বিভিন্ন এলাকার কৃষকের কাছ থেকে পতিত জমির মাটি কিনে ভাটায় সরবরাহ করি।’

পূর্ব-সুয়াবিল গ্রামের কৃষক এনামুল হক (৪৩) বলেন, ফসলি জমি থেকে মাটি তুলে নেওয়ায় এসব জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। এতে ফসল ফলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সারও দিতে হচ্ছে বেশি।

ভূজপুর গ্রামের একটি ইটভাটার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইট তৈরির জন্য পতিত জমির সঙ্গে ফসলি জমির মাটিও কেনা হচ্ছে। দরিদ্র কৃষকেরা বাধ্য হয়ে তাঁদের ফসলি জমির মাটি বিক্রি করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ এ বিষয়ে বলেন, জমির উপরিভাগের মাটির এক থেকে দেড় ফুট অংশের মধ্যেই মূল উর্বরাশক্তি বিদ্যমান। কিন্তু ওই অংশটি কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়। এসব জমি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে আবার পাঁচ-ছয় বছর সময় লাগে। একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও জমির মালিক অতিরিক্ত মুনাফার জন্য জমির মাটি বিক্রি করছেন। এতে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমাকে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। ফসলের উৎপাদন ঠিক রাখতে এ ধরনের মাটি বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Comments