পকেট বাচাঁন , গ্যাস বাচাঁন

।। মোঃ তানভীর হাবীব ।।

প্রতিনিয়ত জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির কারণে সবাই চায় তাদের গাড়িতে সঠিক জ্বালানী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্যাসের খরচের কিছু টাকা সঞ্চয় করতে। ড্রাইভিং অভ্যাস পরিবর্তন করে কিভাবে জ্বালানী অর্থনীতির/খরচের ৩৫% উন্নতি করতে পারেন নিচে সে ব্যাপারে আলোকপাত করা হল:
head_1232665092931_en

আক্রমনাত্মক ত্বরাণ্বিত :
ভারি ত্বরণ (এক্সিলারেশন) স্বাভাবিক ত্বরণের তুলনায় অনেক বেশি গ্যাস ব্যবহার করে এবং অনেক গাড়ির মাইলেজ (পথ অতিক্রম করা ক্ষমতা) হ্রাস পায়। একটি ভাল অর্থনৈতিক জ্বালানী ব্যবস্থাপনা এবং ইঞ্জিন পরিধান কমাতে আক্রমনাত্মক ত্বরণ এড়ানো উচিত। গাড়ির গতি ৫০ মাইল উপরে বৃদ্ধির ফলে, অর্থনৈতিক জ্বালানী ব্যবস্থাপনা ক্রমাগত হ্রাস পায়।

বিচক্ষণ ড্রাইভিং এবং আক্রমনাত্মক গতিরোধ :
বুদ্ধিমানের মতো ড্রাইভিং করে আপনার গ্যাস অনেক সঞ্চয় করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে এবং পরামর্শ দেওয়া হয়েছে- মসৃণগতিতে ড্রাইভিং করলে এবং ভারী গতিরোধ এড়ানো গেলে ৩০% জ্বালানী খরচ কমাতে পারবেন। গাড়ি চালানোর সময় রাস্তার উপর নজর রাখা যুক্তিযুক্ত এবং রাস্তায় সম্ভাব্য কোনো মন্থরতার থাকলে বরং এটা ভারী গতিরোধ না করে একটি উপযুক্ত দূরত্ব থেকে ধীরে ধীরে গতিরোধ করা যুক্তিযুক্ত। ভারি গতিরোধ অর্থনীতি (আয়ুষ্কাল) হ্রাস করে এবং ইঞ্জিনের পরিধান বাড়ায়।

নিয়ন্ত্রিত গতিতে চলা এবং ওভারড্রাইভ:
মহাসড়কে এটি অর্থনীতির উন্নতির/জ্বালানী সাশ্রয়ের জন্য নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানো বাঞ্ছনীয়। ফলে নিয়মিত গতি রক্ষণাবেক্ষণ ও গতি ওঠানামা রোধ হয়। নিয়ন্ত্রিত গতিতে চালালে মহাসড়কের জ্বালানী খরচ মধ্যে আপনি শতকরা ৬ ভাগ কমাতে পারবেন।
ওভারড্রাইভ হচ্ছে একটি মোটর গাড়ির ইঞ্জিনের গিয়ার অনুপাত কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ড্রাইভিং গতি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পাওয়ার আউটপুট হ্রাস করার একটি প্রক্রিয়া। একটি নির্দিষ্ট গতি পর্যন্ত ওভারড্রাইভ জ্বালানী খরচ কমিয়ে দেয়, যার ফলে কম আরপিএম-এ গাড়ির ইঞ্জিন কাজ করতে পারে।

প্রারম্ভিক গিয়ার পরিবর্তন :
গবেষণায় দেখা গেছে এবং পরামর্শ দেওয়া হয়েছে- পরিবর্তিত গিয়ার ২০০০ থেকে ৩০০০ আরপিএম এর মধ্যে কম গ্যাস পোড়ায়। যখন গিয়ার পরিবর্তিত হয় উচ্চ আরপিএম-এ, তখন ইঞ্জিন কঠিনভাবে কাজ করে এবং যখন গিয়ার পরিবর্তিত হয় নিম্ন আরপিএম-এ, তখন ইঞ্জিনকে সংগ্রাম করতে হয়।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ :
গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত। গাড়ি চালানোর সময় এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখার ফলে ১০% জ্বালানী পর্যন্ত হ্রাস করা সম্ভব। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত বিতর্ক সবসময় আছে। কম গতিতে গাড়ি চালানোর সময় জানালা খুলে রেখে, এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখা যুক্তিযুক্ত বলে মত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৫০ কিঃমিঃ/ঘন্টার অধিক বেগে গাড়ি চালানোর সময় এয়ার কন্ডিশনার চালু বাঞ্ছনীয় বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাইরে তাপমাত্রা ভিতরে চেয়ে কম হলে, গাড়ীর ভিতর ঠান্ডা করার জন্য্ কয়েক মিনিটের জন্য জানালা খোলা রেখে গাড়ী চালনা করা এবং তারপর এয়ার কন্ডিশনার চালু করা।

গাড়ির লোড:
গাড়ির উপর অতিরিক্ত ওজন বা লোড গাড়ির জ্বালানী অর্থনীতি হ্রাস করে। সবসময় বলা হয় গাড়ীর বহনকৃত ওজন কমান এবং ট্রাঙ্ক থেকে অব্যবহৃত বহনকৃত ওজন অপসারণ করা ও গাড়ী হালকা রাখা সবসময় যুক্তিযুক্ত। সাধারণত একটি ট্রাঙ্কের অতিরিক্ত ১০০ পাউন্ড ওজন অপসারণ করার মাধ্যমে শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ গড়ে গাড়ির জ্বালানী অর্থনীতি হ্রাস করতে পারে।

আলসে:

দেখা গেছে প্রতি দুই মিনিটের জন্য ইঞ্জিন চালিয়ে বসে থাকা (আলসে) গাড়ী, চালিত অবস্থায় এটি এক মাইল চালানোর জন্য একই পরিমাণ জ্বালানী ব্যবহৃত হয়। রেস্টুরেন্ট গেলে, ট্রাফিক সংকেত কিংবা কারো জন্য অপেক্ষা করতে গাড়ি চালানোর সময় সর্বদা ইঞ্জিন বন্ধ রাখা উচিত। একটা শ্রুতি আছে- গাড়ী আলসে থাক ভাল, গাড়ী চালু করতে ঠান্ডা আবহাওয়ায়। কিন্তু গাড়ী আলসে থাকার জন্য ৩০ সেকেন্ডের অধিক প্রয়োজন হয় না।

মোঃ তানভীর হাবীব
ব্যাংকার, আইএফআইসি ব্যাংক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top