মজার বাগান – বোতল বাগান

ড. এ ফয়েজ এম জামাল উদ্দিন, উদ্যানতত্ব ও পোষ্টহার্ভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

Plastic-Bottle-Garden
ঘরের শোভা বর্ধনে আমরা টবে, মাটির পাতিল বা কাঁচের বিভিন্ন আকার-আকৃতির থালা ইত্যাদিতে শোভা বর্ধনকারী গাছ লাগিয়ে থাকি। বোতল বাগান ও তেমন একটি ঘরের শোভা বর্ধনকারী ম্যানেজমেন্ট টুল, যা বোতলের ভিতর বিভিন্ন রকমের বাহারী গাছ উৎপাদন করা হয়। এ পদ্ধতির আসল সুবিধা হলো একবার বাগান তৈরী শেষ হলে অন্তর্বতী পরিচর্যা করতে হয় না বললেই চলে।

বোতলে বাগান করার সময় গাছ নির্বাচনে খুব সচেতন হতে হয়। যে সব গাছ আকারে ছোট সে সব গাছ নির্বাচন করাই উত্তম। বাগানের বৈচিত্রতা আনতে পাতার রং এবং আকৃতির ভিন্নতা অপরিহার্য।

আকারে বড় ছিপি বা কর্ক যুক্ত স্বচ্ছ বোতল, বোতল বাগানের জন্য উপযুক্ত। তবে সব বোতল দেখতে একই রকমের হলে বাগান সুন্দর হয়। আজকাল স্বচ্ছ কাচের বিভিন্ন আকার-আকৃতির বোতল, নিউমার্কেট ও গুলিস্থান এলাকায় ছোট ছোট দোকানে পাওয়া যায়। সেখান থেকে পছন্দ মত বোতল নির্বাচন করা যেতে পারে।

বোতলে প্রথমে ছোট ছোট ইটের টুকরা দিয়ে নিতে হবে। তার উপরে কয়লার টুকরা বা নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে একটি পাতলা স্তর তৈরী করতে হবে। তার উপর ১০-১২ সে.মি পুর কম্পোষ্ট মিশ্রিত ঝুরঝুরা মাটি ঢুকিয়ে সমান ভাবে বিছিয়ে দিতে হবে। ঝুর ঝুরা মাটি কাগজের ফানেল দ্বারা ধীরে ধীরে বোতলে এমন ভাবে ভরতে হবে যেন মাটি বোতলের গায়ে না লেগে থাকে। প্রয়োজনে কম্পোষ্ট মিশ্রিত মাটি ডাইথেন এম-৪৫ স্প্রে করে ঐ মাটি শুকিয়ে ঝুরঝুরা করে নেয়া যেতে পারে।

ইট ও কয়লার উপর মাটি সুন্দর ভাবে বসে গেলে, একেক টা গাছ যথেষ্ট সতর্কতার সাথে বোতলের মাটিতে লাগিয়ে দিতে হবে। হালকা পানি স্প্রে করে খুব শক্ত করে বোতলের ছিপি এটে দিতে হবে। ১-২ দিনের মধ্যেই বোতল বাগানের ভিতরের পরিবেশগত অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সকালে বোতলের ভিতরের গায়ে ছোট ছোট পানির ফোঁটা জমা হয়ে থাকতে পারে। যদি এ পানির ফোঁটা কখনো না শুকায় তবে ধরে নিতে হবে যে ভিতরের আদ্রতা খুব বেশী। তখন বোতলের ছিপি খুলে দিতে হবে। তবে কখনোই পানির ফোঁটা না জমে, তবে ধরে নিতে হবে যে, পানির প্রয়োজন এবং পানি স্প্রে করে আরার ছিপি আটকিয়ে দিতে হবে। ছিপি না থাকলে ছিপির পরির্বতে তুলা ব্যবহার করা যেতে পারে।

বোতল বাগান তৈরী করার সময় যে সমস্যায় সব সময় পড়তে হয় তা হচ্ছে গাছ লাগানো বা পরিচর্যা করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতীর অভাব বা সহজে বাজারে পাওয়া যায় না। তবে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন : চপষ্টিক অথবা লম্বা হাতল যুক্ত চামুচ বা ফর্ক বেশ কাজে আসতে পারে। তা ছাড়া চা-চামুচ ও কাঁটা চামুচের সাথে লম্বা কাঠি বেঁধেও নিজেই তৈরী করে নেয়া যেতে পারে।

বোতল বাগান একটি মিনি গ্রিন হাউজের মত কাজ করে। বোতল বাগান তৈরী শেষ হয়ে গেলে, কর্ক বোতলে চেঁপে/এটেঁ দেয়ার পর, ছায়াযুক্ত আলোকোজ্জল স্থানে রেখে দিলে মাসের পর মাস অন্ত:পরিচর্যার আর প্রয়োজন হয় না। তবে গাছ বড় হয়ে গেলে মাঝে মাঝে গাছ প্রুন করে দিতে হতে পারে। বাগানে অতিরিক্ত সার না দেয়াই ভাল তবে যদি গাছে খাদ্য অভাব জনিত লক্ষন দেখা দিলে ডড়ীড়ষ স্প্রে করে দেয়া যেতে পারে। বোতল পর্যাপ্ত আলোযুক্ত স্থানে রাখতে হবে তবে সরাসরি সূর্যালোকে রাখা যাবে না। বোতল বাগান ধারণাটি সম্পূর্ণভাবে বদ্ধ পরিবেশের জন্য, যার ফলে নিঃস্বরণের মাধ্যমে পাতা থেকে যে পানি বের হয়ে বোতলের গায়ে জমা হয় তা পূনরায় মাটিতে চলে যায়। যার জন্য এক বছরে একবার পানি স্প্রে করলেই যথেষ্ঠ।

বোতল বাগানের জন্য উপযোগী গাছ : যে সব গাছ স্বাভাবিক ভাবেই বদ্ধঘর বা অতিরিক্ত স্যাতসেতে স্থান পছন্দ করে এমন সব গাছই বোতল বাগানের জন্য উপযোগী। অপেক্ষাকৃত ছোট বৈশিষ্ট্যের গাছই বোতল বাগানের জন্য উত্তম। যেমন, বিগোনিয়া, পার্লার পাম, ছোট আইভি, মস, ফার্ন, অ্যানথুরিয়াম, ডাইফেনবেকিয়া, ম্যারান্টা, জেব্রিনা, ড্রাসেনা, এগলিওনেমা ইত্যাদি, বাহারী পাতার গাছ বোতল বাগানে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ড. এ ফয়েজ এম জামাল উদ্দিন
উদ্যানতত্ব ও পোষ্টহার্ভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top