এট দি এন্ড অফ দ্যা ডে একটি ডাব গাছ!

Print Friendly, PDF & Email

কাজল আব্দুল্লাহ, সোশ্যাল একটিভিস্ট

Syed-Zakir-Hossain-(1)_0

ক্যাম্পাসের বড় ভাই অন্তু ভাই হল ছেড়ে চলে গেলেন। যদিও আমার হল ছিলো ভিন্ন তবুও তার হলে প্রায়ই যাওয়া হতো। বেশ খারাপই লেগেছিলো কিন্তু তার যাওয়ার সময়। সাময়িকভাবে অন্তু ভাই মিস পর্ব শেষে আবার প্রাত্যহিক কাজে মনোনিবেশ করেছি। এর মধ্যে ক্যাম্পাসে হঠাৎ একদিন অন্তু ভাইয়ের সাথে দেখা। জিজ্ঞেস করলাম, কি খবর ভাই? বাসা কেমন?

অন্তু ভাই জবাব দেন, আর বাসা? আছি ? ভাগ্যিস বাসার সামনে একটা ডাব গাছ ছিলো। আমি মনে মনে ফোড়ন কাটি ডাব গাছ! তারপর জিজ্ঞেস করি, কেন ভাই, রুম হলের রুমের চেয়ে বড় না ছোট? অন্তু ভাই বলেন, আরে বড়, বেশ বড়। আমি জানতে চাই, তাইলে মনমরা কেন? বাসা কি টাইলস না শান? পানি বিদ্যুৎ? লিফট? অন্তু ভাই বলেন আরে টাইলস, পানি-বিদ্যুৎ সবই আছে। ঐ টাইপের কোন সমস্যা নাই। কিন্তু ভালো লাগে নারে.. বাসার সামনে একটা ডাব গাছ আছে। সেইটার জন্য কিছুটা স্বস্তি! আবার ডাব গাছ! আমি আশেপাশে মুখ চাওয়া-চাওয়া করি। একটা ডাব গাছ নিয়ে এতো উচ্ছ্বাস! সবসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সবুজের সমারোহ দেখে অভ্যস্ত। হাজার হাজার ডাব গাছ! খুলনার যে গ্রাম থেকে আমি এসেছি সেখানে তো আরো বেশী। ক্যাম্পাসের বাইরে খুব বেশী থাকা হয়নি খুব একটা। সামান্য একটা ডাব গাছের জন্য অন্তু ভাই এই প্রেমকে আমি বালখিল্যতা ভেবে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছি। পরে এটা নিয়ে হাসাহাসিও করেছি বিস্তর।

তার বছর তিনেক পর আমিও হল ছাড়লাম। আমি এখন জানি, হোয়াই এক ডাব গাছ মেকিং এ ডিফরেন্স। কারণ, নির্দিষ্ট কিছু জায়গা বাদে ঢাকা শহর কিন্তু ধূসর থেকে ধূসরতর হচ্ছে। বাসার জানালা বা ব্যালকনি দিয়ে বাইরে তাকিয়ে অন্য বিল্ডিং এর ফাকা দিয়ে বহু কষ্টে একটা জীর্ণ হলুদাভ বৃক্ষ দেখতে পারলেই এখন অনেক আনন্দিত লাগে।

আগে ধরতেই পারতাম না, এখন স্পষ্ট টের পাই যখন সারা দিনের ক্লেদ মাড়িয়ে বাইরে থেকে মাঝে মাঝে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অথবা ক্যান্টনমেন্ট এরিয়ার মধ্যে প্রবেশ করি, তখন ঠান্ডা একটা বাতাস দুষ্টু মেয়ের মতো কানে শীস দিয়ে যায়। ইচ্ছা করেই বেশী করে নিঃশ্বাস নেয়া শুরু করি আমি, যেন এখানকার সবুজঘেরা বাতাসে রয়েছে অমৃতসুধা, পেটপুরে খেতে হবে, ভর্তি করে নিয়ে যেতে হবে! কারণ, বাইরের ঐ গ্যাসচেম্বারে গেলেই আমাকে হতে যেতে হবে কিপটা, নিঃশ্বাস খরচ করছে হবে খুব হিসাব করে বাঁচার(!) জন্য যতটুকু প্রয়োজন।

কী ব্যাপার! সবাই কী দিনে দিনে হিটলার হয়ে যাচ্ছে নাকি? নাহলে কেন দিনে দিনে ঢাকা শহরে সবুজ কমে আসছে, আর বাড়ছে গ্যাসচেম্বারের আয়তন? বাংলাদেশের সবচেয়ে শিক্ষিত ও আধুনিক (আক্ষরিক অর্থে) নগরের বাসিন্দা হয়ে আমরাও একেকজন হিটলার হয়ে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মদদ যুগিয়ে চলেছি সে গ্যাস চেম্বার সৃষ্টিতে! বিদ্যুৎ, টাইলস, আলিশান বাড়ী নয়। এট দি এন্ড অফ দি ডে একটা ডাব গাছই পার্থক্য গড়ে দেয় নির্মল ও ধূসর জীবনের মাঝে। এটুকু সত্য বুঝতে কি একটু মূল্য দিয়ে ফেলছি না?

 

734012_10151478271952860_1498297106_n

কাজল আব্দুল্লাহ, সোশ্যাল একটিভিস্ট

Comments