‘সবুজ বাড়াই; সবুজ বাচাঁই’ এবার রংপুরে

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর: ‘লাল সবুজের বাংলা’ এই নামটাই যেন কেমন খটকা খায়, রংপুর অবস্থিত অপেক্ষাকৃত নতুন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে। প্রায় ৭৫ একর জায়গা অথচ, অবস্থা এমন যেন গাছ নেই ৭৫ টিও। সেই ২০০৮ সালে স্থাপিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, অথচ সে সময় গাছ পালা রোপন করলে এতদিনে সবুজে ভরে যেত চত্তর।বাস্তবতা হলো সূর্যের প্রখর রোদেও মাথা লুকাবার জায়গাটিও নেই এই ক্যাম্পাসে। এবার ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজের সেচ্ছাসেবকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসকে সবুজায়ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে, প্রতিকী গাছ রোপনের মধ্যে দিয়ে।

৩১ আগষ্ট, রোববার সকাল বেলা ভিসি জনাব এ কে এম নূল উল হকের বাসভবন চত্তরে একটি গাছ রোপন করে উদ্বোধন হ্ওয়া এই কর্মসুচির চুড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে  ক্যাম্পাস সবুজায়নের প্রতিজ্ঞাবোধ তৈরী করা। সেই প্রতিজ্ঞাবোধে সম্পৃক্ত করেছে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আর শিক্ষক বৃন্দ।

‘সবুজপাতা’ আর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিবেশ মনষ্ক শির্ক্ষার্থীদের সংগঠন ‘সবুজের পথে’ আয়োজিত ‘ক্যাম্পাস সবুজায়নের উদ্যোগে আগামীতে শুধু এ বিশ্ববদ্যালয়ন নয়, পুরো রংপুরকে ‘গ্রীন রংপুর’ এ রুপদানের প্রতিজ্ঞা করেন উপস্থিতরা।

পরিবেশ মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মন্জুর হাতে 'সবুজ বাড়াই সবুজ বাচাঁই' আন্দোলের স্মারক তুলে দিচ্ছেন সবুজপাতার উদ্যোক্তা সাহেদ আলম।

পরিবেশ মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মন্জুর হাতে ‘সবুজ বাড়াই সবুজ বাচাঁই’ আন্দোলনের স্মারক তুলে দিচ্ছেন সবুজপাতার উদ্যোক্তা সাহেদ আলম।

‘সবুজ বাড়াই; সবুজ বাচাই’  নামের এই সবুজায়ন উদ্যোগেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক , কলামিস্ট ড. তুহিন ওয়াদুদ।  ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কয়েকটি গাছ। বৃক্ষরোপণ এ কর্মসূচির উদ্বোধক হিসেবে  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডঃ এ কে এম  নুর-উন-নবির থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারনে তিনি এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি ফলে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্যের সহধর্মিণী। তিনি উপাচার্যের বাংলো এলাকায় দুটি ওষধি বৃক্ষের চারা রোপণ করেন ।

তিনি এ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ উদ্যোগ । ক্যাম্পাসে এধরনের উদ্যোগ গ্রহনের জন্য তিনি সবুজ পাতাকে ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরনের যে কোন কর্মসূচিতে নিজের পক্ষ থেকে সব ধরনের আশ্বাস দেন তিনি ।

শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, সবুজের কোন বিকল্প নেই । এতোদিন সঠিক উদ্যোগের অভাবে সবুজায়নের এ কাজ আরম্ভ করা যায়নি। সবুজ পাতার মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু হল । সবুজ পাতার প্রশংসা করে তিনি বলেন একমাত্র সবুজ পাতার মাধ্যমেই এ ধরনের কার্যক্রম সফল করা সম্ভব । এছাড়াও তিনি পরিবেশ তথা সবুজায়নের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেন ।

ঔষধি গাছের চারা রোপন করছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সহর্ধমীনি-নিজস্ব ছবি

ঔষধি গাছের চারা রোপন করছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সহর্ধমীনি-নিজস্ব ছবি

সহযোগী আয়োজক  বেরোবি’র  সংগঠন ‘সবুজের পথে’র আহবায়ক নাজু তার স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে বলেন, তাদের স্বপ্ন হলো পুরো বাংলাদেশের রাস্তা ঘাট যেন সবুজের সমারোহে থাকে। তিনি বলেন,এতোদিন গাছ লাগানো হলেও তার সঠিক রক্ষনাবেক্ষন না করায় ছয় বছরেও সবুজ হয়নি ক্যাম্পাস। কিন্তু সবুজ পাতাকে সাথে নিয়ে এ কার্যক্রমকে সফল করতে চাই আমরা। ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নয় এ কার্যক্রমে একসময় সবুজে ভরে উঠবে সাড়া দেশ।

এ কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ সহ রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আমের জনক, কৃষিবিদ আলহাজ্ব আব্দুস সালাম সরকার।তারা প্রত্যেকে এ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং সবুজ তথা প্রকৃতির সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন। পরে আব্দুস সালাম নিজের নার্সারির কয়েকটি আমের চারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোপণ করেন ।

তারিকুল হাসান আশিক, সংবাদ কর্মী

Comments